ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা রোববার ৫ জুলাই ২০২০ ২১ আষাঢ় ১৪২৭
ই-পেপার রোববার ৫ জুলাই ২০২০

দারিদ্র্য বিমোচন প্রকল্পে ঘুষ নিয়ে ঋণ বিতরণ
বকশীগঞ্জ (জামালপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ: বুধবার, ১ জুলাই, ২০২০, ১২:০০ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 7

জামালপুরের বকশীগঞ্জে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক বাট্টাজোড় নতুন বাজার শাখায় মুজিববর্ষ উপলক্ষে দারিদ্র্য বিমোচন প্রকল্পের ঋণ বিতরণে কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বকশীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসারসহ সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী এক ঋণ গ্রহীতা।
লিখিত অভিযোগ ও সরেজমিনে জানা গেছে, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের একশতম জন্মবার্ষিকী (মুজিব বর্ষ) উপলক্ষে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক দারিদ্র্য বিমোচন প্রকল্পের মাধ্যমে ৭% সুদে ঋণ বিতরণ কার্যক্রম হাতে নেয়। এরই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক বাট্টাজোড় নতুন বাজার শাখায় ওই প্রকল্পের আওতায় ২২০ জনকে ৪৬ লাখ টাকা ঋণ প্রদান করা হয়। ১৮ মার্চ থেকে ২৯ জুন পর্যন্ত এ ঋণ বিতরণ কার্যক্রম সম্পন্ন হয়। কিন্তু বেশিরভাগ ঋণ বিতরণে ঋণগ্রহীতাদের কাছ থেকে ব্যাপকহারে উৎকোচ আদায় ও বকশিশ নেওয়া হয়। প্রতিজনের কাছে ২০ হাজার থেকে এক লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ বিতরণ করার কথা বলা আছে। কোনো কোনো গ্রহীতাকে এক লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ বিতরণ করা হয়। অতিদরিদ্র, প্রান্তিক চাষি, যাদের জমি শূন্য থেকে দেড় একর পর্যন্ত ও যাদের বার্ষিক আয় এক লাখ টাকা পর্যন্ত শুধুমাত্র তারাই এ ঋণের সুবিধা পাবেন। কিন্তু কৃষক নয় বরং জমির পরিমাণও বেশি এমন ব্যক্তিকেও ঋণের আওতায় আনা হয়েছে।
বকশীগঞ্জ উপজেলার বাট্টাজোড়, ধানুয়া কামালপুর ও বগারচর ইউনিয়নের ২২০ জন গ্রাহককে এই ঋণ বিতরণ করা হয়। অভিযোগ রয়েছে ২০ হাজার টাকার ঋণ বিতরণ করার সময় বাট্টাজোড় নতুন বাজার শাখার দ্বিতীয় ব্যবস্থাপক রফিকুজ্জামান ও ক্যাশিয়ার আল আমিন হক সহ অন্যান্য কর্মকর্তারা ১০ হাজার করে কেটে নিয়েছেন। ওই শাখা থেকে ঋণ নেওয়া স্থানীয় দত্তেরচর গ্রামের সেলিম মিয়া জানান, ২০ হাজার টাকার ঋণ পেতে আমাকে ১০ হাজার টাকা ঘুষ দিতে হয়েছে। এ রকম আরো অনেকে ঘুষ দেওয়ার কথা স্বীকার করেন, যাদের কাছ থেকে ৬ থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঘুষ নেওয়া হয়েছে। ব্যাংকের দ্বিতীয় কর্মকর্তা রফিকুজ্জামান ও ক্যাশিয়ার আল আমিন হককে ঘুষ দিতে না পারায় অনেকে ঋণ পর্যন্ত পায়নি।
এছাড়াও ব্যাংকের ভেতরে কিছু দালাল চক্র কাজ করায় গ্রাহকরা প্রতিনিয়ত হয়রানির শিকার হচ্ছেন। ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপক মো. হাবিবুর রহমান এসব দেখেও না দেখার ভান করছেন বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী গ্রাহকরা।
বাট্টাজোড় নতুন বাজার শাখায় ব্যাংকের দ্বিতীয় কর্মকর্তা রফিকুজ্জামান ও ক্যাশিয়ার আল আমিন হকের সঙ্গে ঘুষ নেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তারা তা অস্বীকার করেন।
এ বিষয়ে ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপক মো. হাবিবুর রহমান বলেন, আমার অগোচরে কোথাও অনিয়ম হয়েছে কী না তা জানা নেই। কেউ আমার কাছে ঘুষ নেওয়ার বিষয়ে কোনো অভিযোগ দেয়নি।
বকশীগঞ্জ উপজেলা নিবাহী অফিসার (ইউএনও) আ.স.ম. জামশেত খোন্দকার জানান, ব্যাংকের অনিয়মের বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। আগামি ৫ জুলাই উপজেলা কৃষি ঋণ কমিটির সভায় সেটি নিয়ে আলোচনা হবে।







সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]