ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা রোববার ৫ জুলাই ২০২০ ২১ আষাঢ় ১৪২৭
ই-পেপার রোববার ৫ জুলাই ২০২০

গাজীপুরে স্বাস্থ্যবিধি মানার বালাই নেই
টঙ্গী (গাজীপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ: বুধবার, ১ জুলাই, ২০২০, ১২:০০ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 4

গাজীপুরে বেড়েই চলেছে করোনাভাইরাস। গত ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত হয়েছে ৭৪ জন। এ নিয়ে আক্রান্ত দাঁড়াল ৩ হাজার ১৪ জনে। করোনাভাইরাস ক্রমাগত ছড়িয়ে পড়ছে শহর থেকে গ্রামে। গাজীপুর শহর ও গ্রামের মানুষ ঘরবন্দী জীবনযাপন করছে না। করোনা পরিস্থিতি তৈরির আগেও যেভাবে মানুষ চলাফেরা করত এখনও তাই করছে। প্রায় সব এলাকায় রয়েছে ছোট বড় হাটবাজার। হাট-বাজারে কোন প্রকার স্বাস্থ্য বিধি মানা হয় না। অনেকে আবার বাজার করে চায়ের দোকানে আড্ডা দিয়েই সময় পার করছে।
গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দিন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক তপন কান্তি সরকার বলেন, এলাকার হাট-বাজার নিয়েই এখন বেশি আতঙ্ক। মানুষ সেখানে স্বাস্থ্যবিধি একেবারেই মানছে না। অনেকের মুখে মাস্ক পর্যন্ত নেই। গাজীপুরে এখন উপসর্গহীন রোগীর সংখ্যা অনেক বেশি। তাই সংক্রমিত হওয়ারও আশঙ্কা অনেক বেশি।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, করোনাভাইরাসের ভয়াল পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে করোনা সংক্রমণের হাত থেকে বাঁচার অন্যতম উপায় হচ্ছে জীবাণুনাশক। যা অনেক অংশেই মানুষ করোনা থেকে রক্ষা করতে পারে। কিন্তু করোনাকালে এই জীবাণুনাশকের দাম অনেক। তাই গাজীপুরের গ্রাম অঞ্চলগুলোতে এসবের ব্যবহার অনেক কম। হাত ধোয়ার প্রবণতা সবার মধ্যে বাড়লেও হাট-বাজারগুলোতে হাত ধোয়ার ব্যবস্থা নেই বললেই চলে। জয়দেবপুর বাজারে ও আশপাশে বেশ কয়েকটি পানির ড্রাম ও সাবানের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সেগুলোতে আগে পানি ও সাবান পাওয়া গেলেও এখন বেশিরভাগ ড্রাম পানিশূন্য হয়ে পড়ে আছে। সাবান নেই একটিতেও।
জয়দেবপুর বাজারে সবজি কিনতে এসেছেন গাজীপুর শহরের ট্যাংকিরপাড় এলাকার সিরাজ উদ্দিন। তিনি বাজার শেষে একটি ড্রামে হাত পরিষ্কার করতে গিয়ে দেখেন পানি নেই। পরে পাশের হোটেলে গিয়ে হাত পরিষ্কার করেন। সিরাজ উদ্দিন বলেন, দিন দিন করোনায় আক্রান্তের সংখ্য বাড়ছে। তারপরও আমরা সতর্ক হচ্ছি না। এমন নয় যে, করোনা চলে গেছে। করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে তাই আমাদের আরও সতর্ক হতে হবে।
মুখে মাস্ক ছাড়া বাজারে সবজি বিক্রি করছেন জাফর মিয়া। তিনি বলেন, গরীব মানুষের কিছু হবে না। মরতে তো একদিন হবেই। সকালে ভুলে মাস্ক বাড়িতে ফলে চলে এসেছি। তার মতো অনেকের মুখেই মাস্ক নেই।
গাজীপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালের চিকিৎসক মাজহারুল ইসলাম বলেন, গাজীপুরে করোনা ছড়ানোর বেশ কয়েকটি কারণ রয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে পোশাক কারখানার শ্রমিক। তাদের মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি মানার কোনো প্রবণতা নেই বললেই চলে। যেমন খুশি তেমন ভাবেই চলাফেরা করছে। যার কারণে উপসর্গহীন আক্রান্তরা করোনাভাইরাস ছড়িয়ে বেড়াচ্ছে। গাজীপুরে তিন হাজার ছাড়িয়ে গেছে আক্রান্তের সংখ্যা। অন্যদিকে দেশের বিভিন্ন জায়গায় এলাকা ভিত্তিক লকডাউন দিলেও গাজীপুরে এলাকাভিত্তিক লকডাউন করার কোনো উদ্যোগই নেওয়া হয়নি।
গাজীপুর স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গাজীপুরে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে করোনায় আক্রান্ত হয়েছে ৩১ জন। ৩৭৯ জনের নমুনা পরীক্ষা করে এ ৩১ জনের করোনা শনাক্ত হয়। এ নিয়ে গাজীপুরে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়াল ৩ হাজার ১৪ জনে। জেলায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে মোট মারা গেছে ৩১ জন। মঙ্গলবার গাজীপুর সিভিল সার্জন মো. খায়রুজ্জামান এ তথ্য জানান।
গাজীপুরের সিভিল সার্জন মো. খায়রুজ্জামান বলেন, গাজীপুর জেলা গত ২৪ ঘন্টায় ৩৭৯ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ৩১ জনের করোনা পজিটিভ হয়েছে। আর গাজীপুর থেকে এপর্যন্ত ২১ হাজার ১৮১ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে পজিটিভ হয়েছে ৩হাজার ১৪ জনের।
গাজীপুরে বিভিন্ন হাট-বাজারগুলোতে সামাজিক দূরুত্ব বজায় থাকছে না। ওইসব জায়গায় মাস্ক ও হ্যান্ডস্যানিটাইজার ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা থাকলে মানুষের মধ্যে উদাসিনতা দেখা যায়।  কিন্তু সাধারণভাবে খার যুক্ত সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে নিলে ভাইরাস মুক্ত হয়। কিন্তু পর্যাপ্ত পরিমাণে আবার অনেক স্থানে একেবারে হাত ধোয়ার ব্যবস্থা নেই বললেই চলে। গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলা সদর বাজারেও একই অবস্থা দেখা গেছে। বাজার রোডে মানুষের জটলা। কারো মুখে মাস্ক আছে কারো মুখে নেই। সামাজিক দূরত্ব না মেনে গায়ের সঙ্গে গা লাগিয়ে কেনাকাটা করছে। কোনাবাড়ি ও সাফিপুর বাজারেও দেখা গেছে একই অবস্থা।
গাজীপুর জেলা প্রশাসক এস এম তরিকুল ইসলাম জানান, গাজীপুরের হাট-বাজারগুলেতে নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে। স্বাস্থ্যবিধি না মানা হলে জরিমানা করা হচ্ছে। তাদের একাধিক টিম নিয়মিত মাঠে কাজ করছে।






সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]