ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা বৃহস্পতিবার ১৩ আগস্ট ২০২০ ২৯ শ্রাবণ ১৪২৭
ই-পেপার বৃহস্পতিবার ১৩ আগস্ট ২০২০

উপসর্গহীন রোগীই বেশি, বয়স্করা ঝুঁকিতে
এম মামুন হোসেন
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই, ২০২০, ১২:০০ এএম আপডেট: ০২.০৭.২০২০ ১:৫৪ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 178

জ্যামিতিক হারে বাড়ছে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের সংক্রমণ। এক দিন আক্রান্তের রেকর্ড হচ্ছে, তো আরেক দিন মৃত্যুর। সংক্রমণের গতি এতটাই প্রবল হয়ে উঠেছে যে, কেবল জুন মাসেই দুই-তৃতীয়াংশ মানুষ করোনায় আক্রান্ত ও মৃত্যুবরণ করেছেন। মোট আক্রান্তের প্রায় ৬৮ শতাংশ এবং মৃত্যুর প্রায় ৬৫ শতাংশই ঘটেছে গত এক মাসে। করোনায় সংক্রমণ ও মৃত্যুর তথ্য-উপাত্ত বিশ্নেষণে দেখা যায়, গত ৮ মার্চ দেশে প্রথম তিনজনের শরীরে করোনার সংক্রমণ শনাক্ত হয়। এর ১০ দিনের মাথায় অর্থাৎ ১৮ মার্চ একজনের মৃত্যু হয়। সংক্রমণের হিসাবে বুধবার ১১৫তম দিনে দেশে মোট আক্রান্ত হয়েছেন ১ লাখ ৪৯ হাজার ২৫৮ জন। এক দিনে আরও ৪১ জনের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে করোনাভাইরাসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১ হাজার ৮৮৮ জন। হাসপাতালে ভর্তি রোগী ও বাড়িতে থেকে চিকিৎসা নেওয়া রোগীদের মধ্যে আরও ২ হাজার ৪৮৪ জন রোগী সুস্থ হয়েছেন। এ নিয়ে সুস্থ রোগীর সংখ্যা ৬২ হাজার ১০২ জনে দাঁড়িয়েছে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমানে বাংলাদেশে করোনা সংক্রমণের পিকটাইম চলছে। এ জন্য সর্বোচ্চ আক্রান্ত ও মৃত্যুর ঘটনাও ঘটছে এই সময়ে। জুলাই মাসেও এটি অব্যাহত থাকবে। আগস্টে গিয়ে এটা কমে আসবে। তবে এ ক্ষেত্রে যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে।
করোনায় বয়স্কদের বিশেষভাবে সাবধান হতে বলছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। এ পর্যন্ত যারা মৃত্যুবরণ করেছেন, তাদের মধ্যে ষাটোর্ধ্ব বয়সের মানুষের মৃত্যুর হার ৪৩ দশমিক ২৭ শতাংশ। অন্য বয়সিদের মধ্যে মৃত্যুর হার বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ৫১ থেকে ৬০ বছরের মানুষ রয়েছেন ২৮ দশমিক ৫১ শতাংশ, ৪১ থেকে ৫০ বছরের ১৪ দশমিক ৯৯ শতাংশ, ৩১ থেকে ৪০ বছরের ৭ দশমিক ৬২ শতাংশ, ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে ৩ দশমিক ৪৯ শতাংশ, ১১ থেকে ২০ বছরের মধ্যে ১ দশমিক ১৬ শতাংশ, ১০ বছরের নিচে দশমিক ৬৩ শতাংশ। এদের বেশিরভাগই হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেছেন। অন্যদিকে করোনাভাইরাসে এ পর্যন্ত শনাক্ত ব্যক্তির ৫০ শতাংশেরই বয়স ২১ থেকে ৪০ বছর। সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) ভাইরোলজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক তাহমিনা শিরিন বলেন, তরুণরা নিজেরা আক্রান্ত হয়ে করোনাভাইরাস সংক্রমণ পরীক্ষা ব্যবস্থার ওপর চাপ তৈরি করছেন। তাদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার পরামর্শ দেন তিনি।
দেখে কোনোভাবেই বোঝার উপায় নেই বয়ে বেড়াচ্ছেন করোনাভাইরাস। অথচ কোভিড নাইনটিন পজিটিভ শনাক্ত। দেশে আক্রান্তদের প্রায় এক-চতুর্থাংশই এমন উপসর্গহীন। রাজধানীর স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ ও মিটফোর্ড হাসপাতালের শিক্ষানবিশ চিকিৎসক তাহমিদ জামান। রুমমেট কোভিড নাইনটিন পজিটিভ হওয়ায় পরীক্ষা করান তিনিও। যদিও প্রকাশ পায়নি কোনো লক্ষণ-উপসর্গ, কিন্তু ফলাফল পজিটিভ আসে। দেশে মোট আক্রান্তের বড় অংশই এমন উপসর্গহীন। সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান আইইডিসিআরের তথ্যমতে, উপসর্গ নেই এমন রোগী ২০ শতাংশের বেশি। উপসর্গহীন রোগী শনাক্তে আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে আসাদের খুঁজে বের করে পরীক্ষার ওপর জোর দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। পাশাপাশি স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার বিকল্প নেই। বাসায় টেলিমেডিসিন নিয়েই বেশিরভাগ আক্রান্ত রোগী সুস্থ হয়ে উঠছেন।
করোনাভাইরাস বিষয়ক নিয়মিত অনলাইন বুলেটিনে স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা বলেন, ৬৯টি ল্যাবরেটরিতে ২৪ ঘণ্টায় আরও ১৬ হাজার ৮৯৮টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়। পরীক্ষা করা হয় আগের কিছু মিলিয়ে ১৭ হাজার ৮৭৫টি নমুনা। এ নিয়ে দেশে মোট নমুনা পরীক্ষা করা হলো সাত লাখ ৮৪ হাজার ৩৩৫টি। তিনি বলেন, যারা মারা গেছেন তাদের ৩৮ জন পুরুষ, তিনজন নারী। এদের মধ্যে ত্রি‌শোর্ধ্ব চারজন, চল্লি‌শোর্ধ্ব পাঁচজন, পঞ্চা‌শোর্ধ্ব ১২ জন, ষা‌টোর্ধ্ব ১১ জন, স‌ত্তরোর্ধ্ব সাতজন, ৮০ বছরের বেশি বয়সী একজন এবং শতবর্ষী একজ‌ন রয়েছেন। ২৩ জন মারা গেছেন হাসপাতালে এবং বাড়িতে মৃত্যু হয়েছে ১৮ জনের। এদের মধ্যে ঢাকা বিভাগে ১৩ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ১৭ জন, খুলনা বিভাগে পাঁচজন, বরিশাল বিভাগে তিনজন, সিলেট বিভাগে দুজন এবং রংপুর বিভাগে একজন।
ডা. নাসিমা সুলতানা বলেন, নমুনা পরীক্ষার তুলনায় রোগী শনাক্তের হার ২১ দশমিক ১২ শতাংশ। এ পর্যন্ত নমুনা পরীক্ষার তুলনায় রোগী শনাক্তের হার ১৯ দশমিক ৩ শতাংশ। রোগী শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৪১ দশমিক ৬১ এবং মৃত্যুর হার ১ দশমিক ২৬ শতাংশ।






সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]