ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা  বুধবার ৫ আগস্ট ২০২০ ২০ শ্রাবণ ১৪২৭
ই-পেপার  বুধবার ৫ আগস্ট ২০২০

ভুতুড়ে বিদ্যুৎ বিল
প্রায় ৩০০ কর্মকর্তাকে শাস্তির সুপারিশ ৪ প্রকৌশলী সাময়িক বরখাস্ত
স্বপ্না চক্রবর্তী
প্রকাশ: রোববার, ৫ জুলাই, ২০২০, ১২:০০ এএম আপডেট: ০৫.০৭.২০২০ ২:১১ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 39

করোনা মহামারির সময়ে গ্রাহকদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার নামে কোনো ধরনের মিটার রিডিং ছাড়াই মার্চ থেকে জুনের গড় বিদ্যুৎ বিল দিয়েছে বিতরণ কোম্পানিগুলো। ভুতুড়ে এ বিদ্যুৎ বিলের কারণে ভোগান্তির শিকার হয়েছেন সব শ্রেণির গ্রাহককেই। গ্রাহকদের এ ভোগান্তির সুরাহা করতে বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করে দেয় বিদ্যুৎ বিভাগ। এ টাস্কফোর্সের সুপারিশে ভুতুড়ে বিদ্যুৎ বিলের কারসাজিতে জড়িত ৪ বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানির প্রায় ৩০০ জনকে শাস্তির আওতা নিয়ে আসছে বিদ্যুৎ বিভাগ। বিষয়টি নিয়ে বিব্রত খোদ বিদ্যুৎ বিভাগ নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করতে আজ সংবাদ সম্মেলন করবে বলে জানা গিয়েছে।
টাস্কফোর্স ঢাকার দক্ষিণে বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থা ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির (ডিপিডিসি) চারজন প্রকৌশলী সাময়িক বরখাস্ত করার সুপারিশ করেছে। এ ছাড়া ৩৬ জন প্রকৌশলীকে কারণ দর্শানোর নোটিস দেওয়া এবং আর ১৩ মিটার রিডার সুপারভাইজারকে বরখাস্ত করার সুপারিশ করেছে। ঢাকা উত্তরের বিতরণ সংস্থা ঢাকা ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানি লিমিটেডের (ডেসকো) দুজন মিটার রিডারকে বরখাস্তের সুপারিশ করেছে। রাজশাহী ও রংপুরের ১৬ জেলায় বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থা নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি (নেসকো) লিমিটেডের দুজন মিটার রিডার বরখাস্ত করার সুপারিশ করা হয়েছে। আর দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার বিতরণ সংস্থা ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (ওজোপাডিকো) ২২৩ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে কারণদর্শাও, বরখাস্তসহ বিভিন্ন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। দেশের সব থেকে বড় বিতরণ সংস্থা পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (আরইবি) ৮০টি সমিতির কারা কারা ভুতুড়ে বিলের জন্য দায়ী এ ব্যাপারে এখনও কোনো তথ্য দেয়নি আরইবি। এখনও কোনো তথ্য দেয়নি বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডও (পিডিবি)।
ডিপিডিসির নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা জানান, ওপরের সিদ্ধান্তগুলো ছাড়াও আরও বেশ কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
ডিপিডিসির সিএসএস (কাস্টমার সাপোর্ট সার্ভিস) প্রতিষ্ঠান মিটার রিডিং কালেক্টরের কাজ করে। এর মধ্যে সাতটি জোনে নিয়োগ দেওয়া কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে চুক্তি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। এ ছাড়া ওই প্রতিষ্ঠানগুলোর ১৩ মিটার রিডার, একজন সুপারভাইজারসহ মোট ১৪ জনের নিয়োগ বাতিল করা হয়েছে। সাতটি এনওসির মধ্যে আছে নারায়ণগঞ্জ (পূর্ব), নারায়ণগঞ্জ (পশ্চিম), আদাবর, কাকরাইল, বনশ্রী ও জুরাইন।
এ ব্যাপারে ডিপিডিসির নির্বাহী পরিচালক (অপারেশন) এটিএম হারুন অর রশিদ সাংবাদিকদের বলেন, এ সিদ্ধান্তগুলো ছাড়াও আমরা কিছু জোনে বদলির আদেশ দিয়েছি। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো চিফ ইঞ্জিনিয়ার (সেন্ট্রাল) এবং চিফ ইঞ্জিনিয়ার (নর্থ) এর বদলি।
একই বিষয়ে জানতে চাইলে ডেসকোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাউসার আমীর আলী জানান, আমাদের অভিযোগ কম ছিল। আর যেসব অভিযোগ এসেছিল আমরা দ্রæত সমাধান করেছি। তাই তদন্ত কমিটি খুব বেশি দোষী পায়নি। তবে সম্পূর্ণ প্রতিবেদন পরে জানানো হবে।
এর মধ্যে টাস্কফোর্স কমিটির দেওয়া সুপারিশ অনুযায়ী ত্বরিত সিদ্ধান্ত নিয়েছে ডিপিডিসি। সুপারিশ অনুযায়ী যে চারজন কর্মকর্তাকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে তার মধ্যে রয়েছে আদাবর আঞ্চলিক কার্যালয়ের প্রকৌশলী মো. হেলাল উদ্দিন, একই এলাকায় দায়িত্বে থাকা উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মো. রায়হানুল আলম, সহকারী প্রকৌশলী মো. মজিবুল রহমান ভূঁইয়া ও কম্পিউটার ডেটা এন্ট্রি কো অর্ডিনেটর জেসমিন আহমেদ। সাময়িক বরখাস্ত হওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অধিকতর তদন্ত শেষে দোষী প্রমাণিত হলে স্থায়ী বহিষ্কার করা হবে। এ ছাড়া ৩৬টি আঞ্চলিক এর নির্বাহী প্রকৌশলীদের কারণ দর্শাও নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডিপিডিসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক বিকাশ দেওয়ান সময়ের আলোকে বলেন, মন্ত্রণালয় থেকে একটি কমিটি গঠন করে সাত দিনের সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছিল। কমিটির সুপারিশে অনুযায়ী কিছু ব্যক্তিকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে, ৩৬ জনকে কারণ দর্শাও নোটিশ দেওয়া হয়েছে। কিছু মাঠ কর্মীকে বরখাস্তের সুপারিশ করা হয়েছে। আমরা কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া শুরু করেছি।
প্রসঙ্গত, করোনার সংক্রমণ রোধে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় গ্যাস এবং বিদ্যুতের মার্চ থেকে মে তিন মাসের বিলম্ব ফি মওকুফ করার ঘোষণা দেয়। কিন্তু বিলম্ব ফি মওকুফ হলেও গত দুই মাস ধরে অতিরিক্ত বিলের অভিযোগ আসছিল বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানিগুলোর বিরদ্ধে। এ কারণে গত ২৫ জুন দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করে বিদ্যুৎ বিভাগ। সাত দিন সময় দিয়ে তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার সেই সাত দিন সময় শেষ হয়। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি অভিযোগ আসে ডিপিডিসির বিরুদ্ধে। ডিপিডিসি এই ঘটনা তদন্তে নির্বাহী পরিচালককে (আইসিটি) প্রধান করে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি করে।
শুক্রবার রাতে এই কমিটি তাদের প্রতিবেদন জমা দেয়। প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্তগুলো নেয় ডিপিডিসি কর্তৃপক্ষ।





সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]