ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা মঙ্গলবার ৪ আগস্ট ২০২০ ২০ শ্রাবণ ১৪২৭
ই-পেপার মঙ্গলবার ৪ আগস্ট ২০২০

করোনায় হাঁসফাঁস করছে মধ্যবিত্ত
সামাজিক নিরাপত্তা জাল আরও বিস্তৃত হোক
প্রকাশ: রোববার, ৫ জুলাই, ২০২০, ১২:০০ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 14

বাংলাদেশে মধ্যবিত্ত শ্রেণি চিরকাল অনিশ্চয়তার মধ্যে বসবাস করে। বিশেষ করে দেশে যখন প্রাকৃতিক দুর্যোগ আসে তখন তো কথাই নেই। সরকার থেকে আরম্ভ করে দাতা সংস্থা ও উচ্চবিত্তদের নজর থাকে নি¤œবিত্ত দরিদ্র শ্রেণির দিকে। মূলত এদের দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয় সবাই। স্বভাবত মধ্যবিত্ত শ্রেণি থেকে যায় উপেক্ষিত। করোনার প্রাদুর্ভাব শুরু হওয়ার পর থেকে দেশের মধ্যবিত্ত শ্রেণি ক্রমাগত অসহায় ও অস্তিত্বহীন হয়ে পড়ছে। বেশ কয়েক মাস ধরে দেশে করোনার তাÐব চলছে। এমনিতে করোনা সংক্রমণ, লকডাউনের কারনে মধ্যবিত্তের রোজগার নেই বললেই চলে। এই করোনায় ঢাকা শহরের মধ্যবিত্তদের পরিচয় জানা যাচ্ছে ভাড়া বাড়ি ছেড়ে গ্রামে যাওয়ার মধ্য দিয়ে। কারণ মধ্যবিত্ত ত্রাণের লাইনে দাঁড়াতে পারে না। অভাবের কথা মুখ ফুটে বলতেও পারে না। মধ্যবিত্তের অবস্থান মাঝখানে। তাই না পারে নিচে নামতে, না পারে ওপরে উঠতে। এই করোনাকালে তাই তারা চরম বিপাকে আছে। নি¤œ আয়ের মানুষের জন্য সরকার সব ধরনের প্রণোদনা দিয়ে যাচ্ছে। ১০ টাকা কেজি দরে চালসহ নিত্যপণ্যের সহজলভ্য ব্যবস্থা করে করোনাকাল মোকাবিলায় সফলতার পরিচয় দিয়েছে। যা ১৬ কোটি জনবহুল এ দেশের জন্য কার্যকর উদ্যোগ। এ কারণে ক্রান্তিকাল অতিক্রম করা একটি শ্রেণির জন্য ততটা কঠিন হয়ে দাঁড়ায়নি। লকডাউনে ঘরে ঘরে নিত্যপণ্য পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। শুধু বিপাকে পড়েছে মধ্যবিত্ত। তাদের দিকে তাকানোর সময় কারও নেই। তাদের চাকরি চলে যাচ্ছে বা বেতন কমে যাচ্ছে। কারও কারও আয় নেই বললেই চলে। রয়েছে শুধু অনিশ্চিত আগামী। করোনাকালে মধ্যবিত্তের হালফিল অবস্থা, তাদের জীবনযাপন নিয়ে নানা সমীক্ষা চলছে। তাতে দেখা যাচ্ছে, মধ্যবিত্ত আরও বেসামাল হয়ে পড়ছে অর্থনৈতিকভাবে।
দৈনিক সময়ের আলোর এক প্রতিবেদন বলছে, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর সর্বশেষ খানা জরিপ অনুযায়ী করোনার আগে বাংলাদেশের মোট জনগোষ্ঠীর ২০ দশমিক ৫ ভাগ দারিদ্র্যসীমার নিচে ছিল। চরম দরিদ্র ছিল ১০ ভাগ। বিশ^ব্যাংকের হিসাবে একজনের দৈনিক আয় ১ ডলার ৯০ সেন্ট হলে ওই ব্যক্তিকে দরিদ্র ধরা হয় না। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক বলছে, এক ব্যক্তির ক্রয়ক্ষমতা প্রতিদিন দুই মার্কিন ডলার থেকে ২০ মার্কিন ডলারের মধ্যে হলে তাকে মধ্যবিত্ত বলা যায়। এই হিসাবে বাংলাদেশে মধ্যবিত্ত ৩ কোটি ৭ লাখ। যাদের প্রতিদিন আয় ১০-৫০ ডলার, তারা মধ্যবিত্ত। তবে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ২-৪ ডলার প্রতিদিনের আয় হলেই মধ্যবিত্ত। সেই হিসাবে যার মাসিক আয় ৪০হাজার থেকে ৮০ হাজার টাকা সে-ই মধ্যবিত্ত। এদের সংখ্যা বাংলাদেশের মোট জনগোষ্ঠীর ৩০ ভাগ। ১৬ কোটি মানুষের হিসাবে সংখ্যাটি দাঁড়ায় ৪ কোটি ৮০ লাখ। বিআইডিএসের সা¤প্রতিক জরিপে বলা হচ্ছে, করোনায় ১ কোটি ৬৪ লাখ মানুষ নতুন করে গরিব হয়েছে, দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে গেছে। তাই এখন দেশে  দেড় কোটি লোক নতুন করে দরিদ্র হলো, তারা কি মধ্যবিত্ত ছিল?
বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান বলছে, করোনায় ফর্মাল সেক্টরে কাজ করা ১৩ শতাংশ মানুষ চাকরি হারিয়েছে। বাংলাদেশে ৯০ লাখ মানুষ আনুষ্ঠানিক খাতে চাকরি করে। এর মধ্যে ১৫ লাখ সরকারি খাতে। বাকি ৭৫ লাখ মানুষ বেসরকারি খাতে। অনানুষ্ঠানিক খাতে কাজ করে ৬ কোটি ৮ লাখ মানুষ। সরকারি খাত বাদ দিলাম। ইতোমধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষ চাকরি হারিয়েছে। অর্থাৎ করোনায় দেশের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ নতুন করে বেকার হয়ে গেছে। না তারা মধ্যবিত্ত, না দারিদ্র্যসীমার নিচে। করোনার এই তাÐব কবে নাগাদ শেষ হবে তা কেউ বলতে পারছে না। যত দিন যাবে ততই বেশি সংখ্যক মানুষ অর্থনৈতিক সক্ষমতা হারাতে থাকবে। ইতোমধ্যে সরকার বিগত কয়েক মাসে ৪ কোটি মানুষকে সাহায্য করেছে। এর মধ্যে মধ্যবিত্ত ক’জন? তাই রাষ্ট্রের এই বৃহৎ শ্রেণির দিকে দৃকপাত করা অতীব জরুরি। সংঞ্চয়পত্রসহ মধ্যবিত্তদের উপযোগী সামাজিক নিরাপত্তা জাল আরও বিস্তৃত করতে হবে। নইলে ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি সুখকর হবে না। সংশ্লিষ্টদের উচিত মধ্যবিত্ত শ্রেণির জন্য কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা।






সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]