ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা  বুধবার ৫ আগস্ট ২০২০ ২০ শ্রাবণ ১৪২৭
ই-পেপার  বুধবার ৫ আগস্ট ২০২০

করোনায় সমানতালে সম্মুখে নারীরা ঝুঁকিতেও অদম্য তারা
সাব্বির আহমেদ
প্রকাশ: বুধবার, ৮ জুলাই, ২০২০, ১২:০০ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 303

করোনার সময় নারীরা কাজ করলে তাদের সন্তানও নাকি করোনায় আক্রান্ত হবে। গর্ভের সন্তান ঝুঁকিতে থাকবে। শ^শুরালয় ও পাড়াপড়শি লোকজনের দুর্বলচিত্তের এমন ভিত্তিহীন কথা আর নানা প্রতিবন্ধকতা উতরে মহামারি করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় অগ্রভাগে কাজ করছেন নারীরা। করোনা ঠেকাতে চিকিৎসক থেকে শুরু করে জনপ্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিÑ সব অঙ্গনে ফ্রন্টলাইনে রয়েছেন নারীরা। গুরুত্বপূর্ণ সব ভূমিকায় পুরুষের সঙ্গে সমানতালে লড়ছেন নারীরা।
নাজিয়া নওরীম জিশান, চিকি ৎসক
ছোটবেলায় ইচ্ছা ছিল পাইলট হওয়ার, কিন্তু নাজিয়া নওরীম জিশানের মায়ের স্বপ্ন ছিল মেয়ে একদিন চিকিৎসক হবে। শেষ পর্যন্ত মায়ের ইচ্ছাই পূরণ হলো। ৩৮তম বিসিএসে (স্বাস্থ্য) উত্তীর্ণ হয়ে মা ও শিশু স্বাস্থ্য পরিবার পরিকল্পনার মেডিকেল অফিসার হিসেবে সুপারিশপ্রাপ্ত হন তিনি। কিন্তু এই করোনাকালীন দুর্যোগে চিকিৎসক সঙ্কটে আগের সুপারিশ বাতিল করে সহকারী সার্জন হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। নিয়োগের পর একদিনের নির্দেশে সরকারি চিকিৎসক হিসেবে কোভিড যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন জিশান। কাজ করছেন যশোর সিভিল সার্জনের অধীনে কোভিড ডেডিকেটেড হাসপাতালে। করোনাভাইরাস শুরুর দিকে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সিনিয়র মেডিকেল অফিসার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ডা. জিশান জানান, সেখানে মূলত তিনি শিশুদের ক্রিটিক্যাল কেয়ার এনআইসিইউ ও পিআইসিইউতে কাজ করতেন। সে ক্ষেত্রে পুরুষ চিকিৎসকদের সঙ্গে তাল মিলিয়ে তাকে কাজ করতে হতো। সপ্তাহে দুটি নাইট ডিউটি করতে হতো। রাতে হাসপাতালে মুমূর্ষু শিশুদের সেবা দিতে হয়েছে। যেখানে নারী-পুরুষ চিকিৎসকের কোনো ভেদাভেদ ছিল না। বিসিএসে নিয়োগের পর নিজ এলাকা যশোরে যোগদান করা এই নারী চিকিৎসক জানান, ঠিক ১২ মে থেকে শুরু হয় আমার জীবনের ভিন্ন একটি অধ্যায়। কোনো প্রস্তুতি ছাড়াই ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আদেশে করোনা রোগীর সেবায় নিজেকে সঁপে দিই। স্বামীকে ঢাকায় রেখে যশোর ছুটে আসি। মা-বাবা ও স্বামী সবাই আমাকে নিয়ে খুব টেনশনে থাকেন।
নাজিয়া নওরীম জিশান জানান, আমার যোগদানের আগের দিনও গণমাধ্যমে চিকিৎসক মৃত্যুর খবর এসেছে। এসব খবর দুশ্চিন্তা আরও বাড়িয়েছে পরিবারের মধ্যে। প্রথমদিন করোনা হাসপাতালে ডিউটি করতে যাওয়ার সময় মায়ের চোখে ছলছল পানি দেখেছি। কিন্তু বিদায় বেলায় মা বলেছেন, ‘মাগো, রোগীদের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করবে। তাদের কষ্ট বুঝতে চেষ্টা করবে।’ রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস সম্পূর্ণ করা এই চিকিৎসক জানান, এখন মাসে দশ দিন টানা করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতালে ডিউটি করার পর ১৪ দিন হোটেলেই কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হয়। পরের ছয় দিন বাসায় থেকে অফিস করি। তারপরও অনেক সময় এই ছয় দিন শেষ হওয়ার আগে ফের কোভিড ডিউটিতে চলে যেতে হয়। ডাক্তার জিশানের বাবার উচ্চ রক্তচাপ ক্যাডিয়াক ডিজিস ও ডায়বেটিস আছে। তাই সবসময় বাবার সঙ্গে দূরত্ব বজায় রেখে চলেন জিশান। করোনা হাসপাতালে ডিউটিকালে একটি নির্ধারিত হোটেলে থাকছেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ওই দ্রুততম নিয়োগে যশোরে আমরা ২১ জন যোগদান করি। সেখানে পুরুষ সহকর্মীর সঙ্গে তাল মিলিয়ে নারী চিকিৎসকরাও কাজ করে যাচ্ছেন। আসলে একজন নারীর সংসার ফেলে হোটেলে থাকাটাই বড় চ্যালেঞ্জিং। কারণ পুরো সংসারটা আমাকে সামলাতে হয়। সন্তান রেখে দূরে থাকাটা তো বড্ড কষ্টের।
অনেকেই নারীকে চিকিৎসক হিসেবে মানতে পারে না জানিয়ে ডাক্তার জিশান বলেন, অনেকে সর্বোচ্চ নার্স হিসেবে একজন নারীকে চিন্তা করে। প্রায় রোগীর স্বজনরা কিংবা হোটেলের নিরাপত্তারক্ষীরা আমাকে নার্স বলে সম্বোধন করে। মোটাদাগে বলতে গেলে পরিবার ছাড়া আশপাশের মানুষ ও সমাজ থেকে অনেক প্রতিবন্ধকতা পেয়েছি। সবকিছু পেছনে ফেলে এখন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছি। তবে ঝুঁকিপূর্ণ এই সেবায় কিছু তিক্ততা বাদ দিলে সত্যিকারের ভালোবাসা খুঁজে পাই।
আবিদা সুলতানা, পুলিশ সুপার
২৩ মে, শনিবার। ছয় বছরের শিশু লিজা আখতারের বাসায় হাজির তিনি। ঈদুল ফিতরের ঠিক আগমুহূর্তে অগ্নিদগ্ধ লিজার মা-–বাবার হাতে তুলে দেন হরেক ঈদসামগ্রী। মূল ঘটনাটি ১ এপ্রিল সন্ধ্যায়। লালমনিরহাট সদর উপজেলার ফুলগাছ গ্রামে ঘরে অসাবধানতাবশত কুপি উল্টে পড়ে লিজার পরনের জামা-কাপড়ে আগুন ধরে যায়। এতে তার শরীরের ৩০ শতাংশ পুড়ে যায়। টাকা-পয়সার অভাবে চার দিন গ্রাম্য কবিরাজি চিকিৎসা দেওয়া হয় শিশুটিকে। এ অবস্থায় ফেসবুকের একটি স্ট্যাটাস চোখে পড়ে তার, যা দেখে লিজার চিকিৎসাসহ সার্বিক বিষয়ে খোঁজখবর ও দায়িত্ব নেন তিনি।  বলছি লালমনিরহাট জেলার পুলিশ সুপার আবিদা সুলতানার কথা। তার সরাসরি সহায়তায় করোনার মধ্যে পুলিশের অ্যাম্বুলেন্স করে লিজাকে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতালে ভর্তি করিয়েই দায়িত্ব শেষ করেননি তিনি। করোনা পরিস্থিতিতে যখন রক্তের জন্য শিশুটিকে বাঁচানো যাচ্ছিল না, পুলিশের এই নারী কর্মকর্তা তখন রক্ত জোগাড় করে দেন।
করোনাভাইরাস সঙ্কটকালে এমন একাধিক মানবতার গল্প তৈরি করেছেন নারী পুলিশ সুপার আবিদা সুলতানা বিপিএম পিপিএম। যেখানে ভুক্তভোগীর আর্তি শুনছেন, রাত-বিরেতে সেখানেই ছুটে যাচ্ছেন তিনি। মানবিক এই নারী পুলিশ কর্মকর্তার পথচলাটা মোটেও মসৃণ ছিল না। ঘরে তার ছোট্ট শিশুকে রেখে রোজ জনগণের সেবায় বের হতে হয় তাকে। গাজীপুরের কালিয়াকৈরে বেড়ে ওঠা আবিদা সুলতানা জানান, একজন নারীকে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে বাধা অতিক্রম করেই এগিয়ে যেতে হয়। আমিও তার ব্যতিক্রম নই। প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে চূড়ায় পৌঁছানো তো আরও কষ্টের। তবে দৃঢ় মনোবল আর প্রচণ্ড ইচ্ছাশক্তির কারণে কোনো না কোনোভাবে যা করতে চেয়েছিÑ সম্ভব হয়েছে।
লালমনিরহাটের এসপি জানান, কোভিড-১৯ প্রাদুর্ভাবের শুরু থেকেই জেলার জনসাধারণের জন্য কাজ করে যাচ্ছে পুলিশ। আক্রান্ত এলাকার লকডাউন নিশ্চিত করার জন্য কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে জেলা পুলিশ। এ পর্যন্ত যারা করোনায় আক্রান্ত হয়েছে তাদের আইসোলেশন নিশ্চিত করা, খাবার সরবরাহ করা থেকে শুরু করে সার্বক্ষণিক খোঁজখবর নিয়ে তাদের উৎসাহ প্রদান করা হচ্ছে।পুলিশ সুপার আবিদা সুলতানার উদ্যোগে করোনা উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুবরণ করা জেলার একাধিক মৃত ব্যক্তির লাশ দাফনে এলাকাবাসী ভয়ে সটকে পড়লেও পুলিশ সদস্যরা দাফন সম্পন্ন করেছেন। মানবিক সহায়তার আওতায় লকডাউনের কারণে কর্মহীন পরিবারের ঘরে রাতের আঁধারে খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দিয়েছেন এসপি নিজেই। ফোনকল পেলেই ছুটেছেন মধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্ত অভুক্তদের দুয়ারে। তিনি জানান, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য যাতে বৃদ্ধি না পায়, সেজন্য নিয়মিত বাজার মনিটরিং করাসহ কার্যকর সব ব্যবস্থা নিয়েছি। বাজারগুলোতে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করার জন্য স্থানান্তর কার্যক্রম বাস্তবায়ন করেছি।
লালমনিরহাট থেকে দেশের বিভিন্ন জেলায় মোট ৩০১৫ জন কৃষি শ্রমিক প্রেরণ করা হয়েছে। পুলিশের সুরক্ষার জন্য নিয়মিত গরম পানি পান করতে প্রতিটি থানায় গরম পানির ফিল্টার স্থাপন করা হয়েছে। তাদের জন্য বিকল্প আবাসনেরও ব্যবস্থা করা হয়েছে।
একজন নারী হিসেবে বাংলাদেশ পুলিশে কাজ করতে পারাটা আবিদা সুলতানার কাছে অত্যন্ত গর্বের ও সম্মানের। নারী হিসেবে কাজ করতে গিয়ে সমস্যার বিষয়টি কখনও মাথায় আসতে দেননি স্কুলজীবনে ম্যাজিস্ট্রেট হওয়ার স্বপ্ন দেখা আবিদা। তার মতে, চ্যালেঞ্জিং কাজে সমস্যা তো থাকবেই। আন্তরিকতা, নিষ্ঠা আর দায়িত্বশীলতা দিয়ে তা উতরে যেতে হয়। একসময় ঝুঁকিপূর্ণ কাজও ভালোবাসায় সহজ হয়ে যায়। আর এভাবে ভালোবাসায় সব জয় করতে চান ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসনের সাবেক এই মেধাবী শিক্ষার্থী।
মোসা. ইসমত আরা, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা
অফিস থেকে সরকারি একটি কাজে বের হয়েছেন। গন্তব্যের কাছাকাছি যাওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে রাস্তায় অনেক লোকের সমাগম দেখতে পেয়ে গাড়ি থামান তিনি। নেমেই দেখতে পান একজন বয়স্ক মাটিতে পড়ে রক্তাক্ত অবস্থায় ছটফট করছে। মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা কথা শুনেই তিনি তার গাড়ি দিয়ে ওই বৃদ্ধ লোকটিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠান। পরিস্থিতি বেগতিক হওয়ায় অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করে বৃদ্ধাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। দিনকয়েক আগে করোনাভাইরাসে লকডাউনের মধ্যে খবর পান মফিজুল ইসলাম নামে এক কৃষক তার সবজি নিয়ে বেকায়দায় পড়েছেন। খবর শোনামাত্রই বিড়ম্বনায় থাকা কৃষকের কাছে ছুটে যান তিনি। পরে কৃষকের নয় মণ সবজি কিনে স্থানীয় ২০০ পরিবহন শ্রমিকের মধ্যে বিনামূল্যে বিতরণ করেন গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোসা. ইসমত আরা।
করোনার মধ্যে নদীর পাড়ে ভাসমান খুপরি থেকে প্রত্যন্ত গ্রামে বিরামহীন বিচরণে প্রশংসিত হচ্ছেন মাঠ প্রশাসনের এই নারী কর্মকর্তা। করোনায় দিন গড়িয়ে রাতেও এই নারী ইউএনও মোবাইলের টর্চ লাইট জ্বালিয়ে ছুটে যাচ্ছেন এক বাজার থেকে অন্য বাজারে। বাজার নিয়ন্ত্রণে তার কড়াকড়ি আরোপ রোজই জনমনে স্বস্তি জোগায়। নিজেই করোনা আক্রান্ত রোগীর বাড়িতে পৌঁছে দিচ্ছেন খাদ্যসামগ্রী। তাদের জরুরি স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে যোগাযোগ রাখছেন স্বাস্থ্যকর্মীদের সঙ্গে।
সঙ্কটকালে জীবনের ঝুঁকিটা যেন আমলেই নিচ্ছেন না ইসমত আরা। তিনি জানান, ভুক্তভোগীদের মুখে হাসি ফিরিয়ে দেওয়ার মধ্যে ভিন্ন একটা অনুভূতি কাজ করে। তখন পরিবার ছাড়া ঈদ আনন্দেরও কমতি মনে হয় না। তবে সব বিপত্তি উতরে এতদূর আসা লড়াকু এই নারী কর্মকর্তার কাছে ‘প্রতিবন্ধকতা’ শব্দটির সংজ্ঞাটাই যেন বদলে গেছে। তাই ইতিবাচক চিন্তাধারার বাইরে কোনো কিছু ভাবতে চান না হোম ইকোনমিক্সের এই মেধাবী।  নির্বাহী ম্যাজিট্রেট ইসমত আরার করোনার সঙ্গে যুদ্ধটাই শেষ নয়। ঘরে নিজের ছোট শিশুকে রেখে লকডাউন নিশ্চিতে ছুটতে হয় মাইলে মাইল পথ। খবর পাওয়া মাত্র ছুটতে হয় বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে। ইউএনওর উদ্যোগে করোনার মধ্যে চারটি বাল্যবিবাহ রোধ হয়েছে। করোনায় এ পর্যন্ত ৩০ হাজার পরিবারকে খাদ্য সহায়তা দেওয়া হয়েছে জানিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, ১০টি উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র ও তিনটি মা ও শিশুকল্যাণ কেন্দ্রসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের স্বাস্থ্যকর্মীদের মধ্যে পিপিই প্রদান করা হয়েছে।  ইউএনও ইসমত আরার অফিসের একাধিক স্টাফ করোনায় আক্রান্ত হলেও ভড়কে যাননি তিনি। অন্যদিকে নারী হিসেবে করোনা প্রতিরোধে কাজ করায় তার পরিবার থেকে সবসময় উৎসাহ জোগান বলে জানান ৩০ বিসিএসের এই কর্মকর্তা। আর স্থানীয় সংসদ সদস্য নারী হওয়ায় তার কাজগুলো আরও সহজ ও সমন্বিত হয়।
কাবেরী মৈত্রেয় , গণমাধ্যমকর্মী
গত ২০ মে নিছকই কৌতূহলবশত নমুনা দিয়ে যান। ওইদিনও অফিসের অ্যাসাইনমেন্টে ছিলেন তিনি। ২২ মে, শুক্রবার। নিত্যদিনের মতো সকালে ঘুম থেকে ওঠে ফোনটা হাতে নেন। আচমকাই এলো একটি ক্ষুদে বার্তা। যে বার্তায় পুরো সকালটা বিষাদে ভারি হয়ে গেল গণমাধ্যমকর্মী কাবেরী মৈত্রেয়ের। তার অফিসের সিনিয়র এক সহকর্মী জানান, ‘খুব সম্ভবত প্রাথমিক রিপোর্টে আপনি পজিটিভ এসেছেন! চূড়ান্ত রিপোর্ট ডাক্তারই কনফার্ম করবেন। ভয় না পান কিন্তু সচেতন থাকুন।’ এমন খবরে হতচকিত কাবেরীর মাথাটা যেন ফাঁকা হয়ে গেল। কেননা এই ক্ষুদে বার্তার মিনিটপাঁচেক আগেও তার ছোট্ট মেয়েটি বুকে নিশ্চিন্তে ঘুমিয়েছে। পরে চিকিৎসকও জানালেন, করোনা পজিটিভ। তবে দমে যাননি কাবেরী। করোনা জয় করে ফের ফিরেছেন মাঠের রিপোর্টিংয়ে।
টানা ১৪ দিন একা ঘরে বন্দি থেকে যথাযথ নিয়মে আইসোলেশন পালন করেন। ঠিক ২২ জুন ফিরতি পরীক্ষায় করোনা নেগেটিভ আসে সংবাদভিত্তিক টেলিভিশনে কাজ করা কাবেরীর। করোনাভাইরাসের মধ্যেও রোজকার সংবাদ সংগ্রহে মাঠে থাকতে হয় তার। একাত্তর টিভির সিনিয়র এই রিপোর্টার জানান, মার্চ থেকে যখন করোনা সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে, তখন আমি রাজধানীর গার্মেন্টস, ব্যাংক, বাজারের মতো জনবহুল এলাকাগুলোতে ঝুঁকি নিয়ে তথ্য সংগ্রহ করেছি।
ঘণ্টায় ঘণ্টায় সংবাদগুলো দর্শকদের জানিয়েছি। তাই করোনায় আক্রান্ত হতে পারিÑ এমন মানসিক প্রস্তুতি শুরু থেকেই ছিল। কর্মস্থলের নানা সহায়তা ও সুবিধাজনক উদ্যোগ, সঙ্গে সহকর্মীদের পাশে থাকাÑ সব মিলিয়ে করোনা পরীক্ষা ফল পজিটিভ এলেও ভেঙে পড়িনি। তবে আমার শক্ত মনোবল মুহূর্তেই নড়ে গিয়েছিল, কারণ পরিবারে শ^শুর-শাশুড়ি দুজনই বয়স্ক, বাচ্চাও ছোট। অন্যদিকে পজিটিভ রিপোর্ট আসার একদিন আগেই আমার মাকে দেখতে গিয়েছিলাম। জড়িয়ে ধরে এসেছি। ভয়, আতঙ্ক সেখানেই ভর করেছিল। করোনার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পুরো ৩৩ দিনের এই দীর্ঘ যাত্রায় সার্বক্ষণিক কাবেরীর পাশে ছিলেন তার স্বামী। পাশে থেকে সাহস জুগিয়েছেন। পরে করোনামুক্ত হয়ে গত ২৬ জুন আবারও কাজে যোগ দেন তিনি। তার প্রত্যাগমনকে ফুলেল স্বাগত জানিয়েছে একাত্তর টিভি। কাবেরী চান, প্লাজমা দিয়ে কোভিড আক্রান্তদের জীবন বাঁচাতে। মাঝে করোনায় বাগড়া পড়লেও শুরু থেকে এখন পর্যন্ত ফ্রন্টলাইনে কাজ করে যাচ্ছেন এই নারী সংবাদকর্মী। মাঠে নানা সীমাবদ্ধতা, প্রতিবন্ধকতা আর ঝুঁকি নিয়েই পুরুষ সহকর্মীর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ছুটছেন রাজশাহী বিশ^বিদ্যালয় থেকে উঠে সাংবাদিক কাবেরী মৈত্রেয়।




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]