ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা  বুধবার ৫ আগস্ট ২০২০ ২০ শ্রাবণ ১৪২৭
ই-পেপার  বুধবার ৫ আগস্ট ২০২০

চীন-ভারত সম্পর্ক বদলে দিতে পারে বাংলাদেশের অর্থনীতি
প্রকাশ: বুধবার, ৮ জুলাই, ২০২০, ১২:০০ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 298

এ কে আবদুল হালিমআমাদের পররাষ্ট্রনীতির ভিত্তি হলোÑ কারও সঙ্গে শত্রুতা নয়, সবার সঙ্গে বন্ধুতা। আমাদের এই নিরপেক্ষ নীতি যদি আমরা ঠিক একইভাবে চীন-ভারত দ্বন্দ্বের প্রেক্ষাপটেও ধরে রাখতে পারি তাহলে আমরাই সবচেয়ে বেশি লাভবান হতে পারি। সাম্প্রতিককালে ভারত, চীন, পাকিস্তান ও নেপাল স্ব-স্ব অবস্থান থেকে নিজেদের সামর্থ্য বা তারও বেশি আক্রমণাত্মক ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে। নেপাল ও পাকিস্তানের আক্রমণাত্মক ভূমিকার রিমোট চীনের হাতে বলেই মনে করা হচ্ছে। বিশ্বের অর্থনীতিতে চীনের প্রভাব এখন শীর্ষে। চীনের তৈরি পণ্য ও কাঁচামাল মূলত তিন শ্রেণির হয়ে থাকে। চীনের সুদূরপ্রসারী চিন্তা থেকেই তারা গরিব, উন্নয়নশীল ও উন্নত দেশÑ অর্থাৎ সব শ্রেণির মানুষের চাহিদা ও সামর্থ্য বিবেচনা করে ভিন্ন ভিন্ন মূল্যমানের পণ্য ও কাঁচামাল সরবরাহ করে সব শ্রেণির মানুষকে শৌখিন ও চীননির্ভর করে তুলেছে। চীনা পণ্যের কাছে সারা বিশে^র মানুষই এখন অনেকটা জিম্মি। চাইলেই চীনা পণ্যমুক্ত হওয়া যেকোনো দেশের জন্য সম্ভব নয়।বিশ্ব অর্থনীতিতে ভারতেরও বড় অবদান রয়েছে। বিশেষ করে এশিয়ার মুসলিম দেশগুলোর কাছে ভারতের গুরুত্ব অনেক। মুসলিম দেশগুলোর খাদ্যাভ্যাসের সঙ্গে ভারতের অমিলের চেয়ে মিলই বেশি। দেশটির দক্ষ ও প্রশিক্ষিত শ্রমিকের আধিক্য লক্ষ করা যায় মধ্যপ্রাচ্যে। দেশ হিসেবে বাংলাদেশ আয়তনে ছোট হলেও ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে আমাদের অবস্থান পরাশক্তির পেটের ভেতরে। ফলে বাংলাদেশের চলন-বলন ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ওপর ভারতের নজরদারি বেশি। তাই বাংলাদেশের বন্ধু হয়ে বাংলাদেশে শক্ত ঘাঁটি গেড়ে চীন, পাকিস্তান বা আমেরিকার মতো কোনো রাষ্ট্র ভারতের জন্য মাথাব্যথার কারণ হবেÑ সেটা ভারত কোনোভাবেই মানতে চাইবে না। আমাদের স্বাধীনতায় রয়েছে ভারতের বড় ত্যাগ, যা বাংলাদেশের মানুষ মনেপ্রাণে শ্রদ্ধার সঙ্গে মনে রেখেছে। কিন্তু অভিন্ন নদ-নদীতে ভারতের তরফ থেকে পানি ছাড়তে  অনীহা ও সীমান্তে বাংলাদেশিদের প্রতি বন্যপ্রাণীর মতো আচরণ দুদেশের সম্পর্ক পুরোপুরি স্বাস্থ্যকর রাখার পথে বাধা। ভৌগোলিকভাবে বাংলাদেশকে চারপাশ থেকে ঘিরে রাখা ভারত তাদের এই ছোট্ট প্রতিবেশীর সঙ্গে অন্য কোনো বড় দেশের বন্ধুত্বকে অপ্রয়োজনীয় মনে করে। বাংলাদেশ সরকারের আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক সম্পর্কের খোঁজ-খবরই শুধু নয় বরং অন্য রাষ্ট্রের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক তৈরির ক্ষেত্রে তাদের ভেতরে একটা দাদাসুলভ মনোভাব রয়েছে। বাংলাদেশের স্বাবলম্বী হওয়া ভারতের চক্ষুশূল হওয়ার কারণ বলেই বিশেষজ্ঞদের ধারণা। আমাদের আন্তর্জাতিক রাজনীতির উচ্চাভিলাষ ভারতের কাছে একটি ভয়ের কারণ বলে মনে করি। বৃহৎ রাষ্ট্র হিসেবে ভারত এশিয়ার রাজনীতিকে নিজের আয়ত্তে নিতে দাদাগিরি করার চেষ্টা করবে এটা অনেকটা স্বাভাবিক। অন্যদিকে চীন অর্থনীতি, প্রযুক্তি, সমরশক্তি সব দিক দিয়ে এগিয়েছে। উনিশ শতকের প্রথম অর্ধ শতাব্দী চীনের জন্য ছিল অপমানজনক একটি সময়, যা ছিল নিজেদের আত্মতুষ্টি ও বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন করার জন্য একটি সাজার মেয়াদ। গত কয়েক দশকে চীন অর্থনীতিসহ সব দিক দিয়ে এগিয়েছে। চীন এখন এমন আত্মবিশ^াসী যে বিশ্বের যেকোনো পরিবেশে, যেকোনো দেশে, যেকোনো বিষয়ে প্রতিযোগিতা করতে সক্ষম। আমাদের পররাষ্ট্রনীতির মূল অনুসরণ করেই আজকে ভারতকে আমাদের নিশ্চয়তা দিতে হবে যে চীন বা পাকিস্তান আমাদের দেশে ব্যবসা বা উৎপাদন কাজে সংশ্লিষ্ট থাকলেও এই দুই দেশের সঙ্গে ভারতের যেকোনো বিরোধের রেশ বাংলাদেশের ওপর পড়বে না। তবে বাংলাদেশ যেকোনো আমদানি-রফতানি বা যেকোনো দেশের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের ক্ষেত্রে ভারতের জন্য ক্ষতিকর সবকিছু থেকে বিরত থাকবে। এটা অবশ্য বাংলাদেশ করেও থাকে। বাংলাদেশের সরকার এদেশের এক ইঞ্চি জায়গাও চীন ও ভারতকে তাদের বিরোধের প্রতিহিংসায় ব্যবহার করতে দেয়নি, দেবেও না। বর্তমান প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের একমাত্র উদ্দেশ্য হতে হবে, ভারত এবং চীনের বিনিয়োগকারীরা শুধু ব্যবসায়িক কার্যক্রম করতে বাংলাদেশে আসবে। বাংলাদেশ সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থা রাজনীতির সঙ্গে যাদের ন্যূনতম সম্পর্ক আছে দেশ দুটির সে রকম ভিজিটরদের ওপর কড়া নজরদারি করবে।
চীন ও ভারতের ব্যবসায়ীদের জন্য বাংলাদেশ অভয়ারণ্য। চীন ও ভারতের ব্যবসায়ীরা নিরাপদ ব্যবসা ক্ষেত্র হিসেবে আমাদের দেশে ব্যবসা করলে দেশের বেকার সমস্যা দূর হবে ও দেশের অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াবে। বাংলাদেশে গড়ে উঠবে বড় বড় শিল্প ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। এভাবে পৃথিবীর বুকে বাংলাদেশ একটি বহুমুখী উৎপাদনশীল রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে পারে। বাণিজ্যিক কারণে বাংলাদেশে তৈরি পোশাকের লেবেলে মেইড ইন কোরিয়া, মেইড ইন চায়না লেখা হয়। চীন-ভারত বৈরিতা থেকে যদি এক দেশ আরেক দেশের পণ্য বর্জন করতে থাকে তাহলে ভারতের প্রতিষ্ঠিত অনেক কলকারখানার উৎপাদন নিরবচ্ছিন্ন রাখতে অনেক কাঁচামাল চীন থেকে বাংলাদেশে এনে বাংলাদেশের লেবেল এঁটে ভারতকে নিতে হবে। এতে করে আমাদের অর্থনীতিই ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ পাবে। বাংলাদেশের পণ্য যেমন শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পেয়েছে চীনে ও ভারতে তেমনি তাদেরকেও শুল্কমুক্ত সুবিধা দেওয়া যেতে পারে তাদের উৎপাদনে ব্যবহৃত কাঁচামালের ওপর। যদি একে অন্যের পণ্য দুই দেশেই নিষিদ্ধ হয়ে যায়, তখন জরুরি ও অভ্যস্ত পণ্যের উৎপাদন ওইসব দেশের ব্যবসায়ীরা বাংলাদেশে করতে পারে এবং সরাসরি অনেক নিত্যব্যবহার্য পণ্য বাংলাদেশ থেকে নিতে হবে ভারত ও চীন দুই দেশকেই। যেসব ভারতীয় প্রতিষ্ঠান চীন থেকে ব্যবসা গুটিয়ে নেবে সেসব প্রতিষ্ঠান থেকে কিছু প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশে তাদের কার্যক্রম শুরু করতে পারে তাদের উৎপাদন। একইভাবে অনেক চীনা প্রতিষ্ঠান ভারত থেকে গুটিয়ে বাংলাদেশে সেটআপ করতে পারে মেইড ইন বাংলাদেশ লেবেল লাগিয়ে ভারতের মার্কেট ধরে রাখার কৌশল হিসেবে।
এতে করে আমাদের দেশটি হবে চীন-ভারতের বিনিময় মাধ্যম। নিরপেক্ষ বাংলাদেশ হবে ভারতীয় ও চীনাদের অবাধ ব্যবসা পরিচালনা কেন্দ্র। এখানে তারা নিজেদের ব্যবসা সৎভাবে করবে এবং আমাদের সমুদ্রবন্দর, বিমানবন্দর ও সড়কগুলো সত্যিকারের আন্তর্জাতিক মান পাবে। এক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক চেইন হোটেল ও রেস্টুরেন্টগুলো আমাদের জেলা পর্যায়ে গিয়ে পৌঁছবে। দেশের জনসংখ্যা ও রাষ্ট্র পরিচালনার সততা, গোপনীয়তা আমাদের জাতীয় সম্পদ হবে। চীন ও ভারতের সঙ্গে বিশ্বস্ততার সম্পর্কের ওপর প্রতিষ্ঠিত উদার ও নিরাপদ বাণিজ্যিক সুবিধা হবে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক মুক্তির পথ।

ষ ব্যবসায়ী






সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]