ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা  বুধবার ৫ আগস্ট ২০২০ ২০ শ্রাবণ ১৪২৭
ই-পেপার  বুধবার ৫ আগস্ট ২০২০

টেস্ট ও হাসপাতালে ভিড় কমেছে
চট্টগ্রামে করোনা চিকিৎসায় ব্যস্ততা পল্লী চিকিৎসকদের
জসীম চৌধুরী সবুজ
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই, ২০২০, ১২:০০ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 13

চট্টগ্রামে করোনা টেস্টে যেমন ভিড় কমেছে তেমনি রোগী কমেছে হাসপাতালসমূহে। উপসর্গ দেখা দিলে অধিকাংশ ব্যক্তিই চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে বাড়িতে থেকেই চিকিৎসা নিচ্ছেন। নগরে চিকিৎসকদের সিংহভাগ ব্যক্তিগত চেম্বার করছেন না। আবার হাসপাতালে ভর্তি হয়েও যথাযথ সেবা না পাওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এসব বিড়ম্বনায় হাসপাতালমুখী হচ্ছে না রোগীরা। উপজেলাসমূহে গ্রামগঞ্জে দিনরাত মানুষের পাশে থেকে চিকিৎসাসেবা দিয়ে যাচ্ছেন পল্লী চিকিৎসকরা। তারাই এখন সাধারণ মানুষের ভরসাস্থল। করোনা ছাড়াও যেকোনো রোগে অসুস্থ হলে তাদের শরণাপন্ন হচ্ছে মানুষ। তারাও বাড়ি বাড়ি গিয়ে চিকিৎসা দিচ্ছেন। করোনাযোদ্ধা হিসেবে ভ‚মিকা রাখলেও তার যথাযথ মূল্যায়ন পাচ্ছেন না গরিব মেহনতি মানুষের প্রিয়জন এসব পল্লী চিকিসকরা। তারা সরকারি প্রণোদনা ছাড়াও চান করোনা রোগের চিকিৎসায় ট্রেনিং। চায় ব্যক্তিগত ও সামাজিক সুরক্ষা।
বাংলাদেশ পল্লী চিকিৎসক সমিতির চট্টগ্রাম বিভাগীয় সভাপতি সুনীল ভট্টাচার্য জানান, সারা দেশে পল্লী চিকিৎসক কোর্স করা ২৭ হাজারেরও বেশি চিকিৎসাকর্মী এই মহাদুর্যোগকালে নিজেদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রত্যন্ত অঞ্চলে চিকিৎসাসেবা দিয়ে যাচ্ছেন। ১৯৭৯ সালে তৎকালীন সরকার চীনের আদলে এক বছরের একটি কোর্স চালু করেছিল। তা চার বছর চালু ছিল। এ সময়ে মোট ২৭ হাজার ১০০ জন এই কোর্স পাস করে গ্রামেগঞ্জে চিকিৎসাসেবায় নিজেদের নিয়োজিত করেন।
তিনি বলেন, বিপদে দিশেহারা মানুষ ছুটে আসে আমাদের কাছে। আমরা এই মহামারিকালেও মানুষের পাশে আছি। আমাদের প্রাথমিক চিকিৎসা পেয়ে শত শত লোক সুস্থ হচ্ছেন। যাদের অবস্থা জটিল
মনে করা হয় তাদের আমরা টেস্টের জন্য ও হাসপাতালে ভর্তি হতে পাঠিয়ে দিই। কোর্স করা পল্লী চিকিৎসক ছাড়াও ডিপ্লোমা চিকিৎসক রয়েছেন যারা সেবা দিচ্ছেন। এছাড়া বিভিন্ন ডিগ্রিধারী চিকিৎসকের সহকারী হিসেবে কাজ করে অভিজ্ঞতা নিয়েও অনেক গ্রাম ডাক্তার সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। আমরা রাতদিন যেকোনো মুহূর্তে রোগীর ডাকে সাড়া দিয়ে ছুটে যাচ্ছি বলেই করোনা মহামারিতে গ্রামাঞ্চল এখনও অনেক সুরক্ষিত রয়েছে।
চট্টগ্রাম জেলা পল্লী চিকিৎসক সমিতির যুগ্ম সম্পাদক অজিত দেব জানান, নিজেরা পিপিইসহ ব্যক্তিগত সুরক্ষাসামগ্রী সংগ্রহ করে আমরা কাজ করে যাচ্ছি নিজেদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে। কাজ করতে গিয়ে আমাদের অনেক সহকর্মী নিজেরাই করোনা আক্রান্ত হচ্ছেন। অনেকে মারাও গেছেন। সুস্থ হয়ে আবার কাজে ফিরছেন। অসহায় মানুষের পাশে চিকিৎসাসেবা নিয়ে আমরা আছি। কিন্তু এর কোনো স্বীকৃতি নেই। আমাদের কোনো মূল্যায়ন নেই। তিনি করোনা চিকিৎসায় করণীয় বিষয়ে পল্লী চিকিৎসকদের জন্য সরকারিভাবে ১-২ দিনের সংক্ষিপ্ত ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়ে বলেন, এতে আমরা ফ্রন্ট লাইনার হিসেবে আরও বেশি ভ‚মিকা রাখতে পারব।
চট্টগ্রামে ১৫টি উপজেলার বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষের সঙ্গে আলাপ করে পল্লী চিকিৎসকদের অবদানের কথা জানা গেছে। তারা মনে করেন, করোনা নিয়ে যে আতঙ্ক ও ভয় ছড়িয়ে পড়েছিল তা দূর করে মানুষকে স্বাস্থ্যবিধি মানাসহ সচেতন করতে এসব চিকিৎসাকর্মী যথেষ্ট ভ‚মিকা রেখে চলেছেন। তারা সক্রিয় না থাকলে মাঠ পর্যায়ে অবস্থা অনেক খারাপের দিকে চলে যেত।
চট্টগ্রামে বুধবার প্রকাশিত রিপোর্টে করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ২৯৫ জন। এর মধ্যে নগরীতে ২১৬ এবং ১৫ উপজেলায় ৭৯ জন। সিভিল সার্জন ডা. শেখ ফজলে রাব্বী স্বীকার করেছেন শহরের চেয়ে গ্রামে করোনায় আক্রান্তের হার অনেক কম। তিনি বলেন, মানুষ এখন অনেক সচেতন হয়েছেন। সামান্য উপসর্গ দেখা দিলেই টেস্টের জন্য হুমড়ি খেয়ে পড়ছেন না। আবার হাসপাতালে গিয়েও ভিড় জমাচ্ছেন না। চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে অধিকাংশ লোক এখন বাসাবাড়িতে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হচ্ছেন। চট্টগ্রামে এ পর্যন্ত করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ১০ হাজার ৭৭২ জন। যারা টেস্টের বাইরে থেকে চিকিৎসা নিয়েছেন তাদের সংখ্যা এর পাঁচ গুণের বেশি হবে।





সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]