ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা শুক্রবার ১৪ আগস্ট ২০২০ ৩০ শ্রাবণ ১৪২৭
ই-পেপার শুক্রবার ১৪ আগস্ট ২০২০

কথা বলার সুন্নত ও আদব
মওলানা মাহমুদ হাসান
প্রকাশ: শনিবার, ১১ জুলাই, ২০২০, ১২:০০ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 28

আল্লাহ তায়ালা মানুষকে সৃষ্টি করেছেন এবং কথা বলার শক্তি দিয়ে সম্মানিত করেছেন। পবিত্র কোরআনে সুরা আর-রহমানে ইরশাদ হয়েছেÑ ‘আল্লাহ মানুষকে দান করেছেন কথা বলার শক্তি।’ (সুরা আর-রহমান : ৪)। মানুষের কথা যেন সুন্দর ও মার্জিত হয় সে জন্য আল্লাহর রাসুলের মাধ্যমে শিখিয়েছেন সুন্দর বাচনভঙ্গি। কথাবার্তা বলার কিছু গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত ও আদব সম্পর্কে আলোকপাত করা হলো।
ভালো ও উত্তম কথা বলা
সবসময় ভালো ও ইতিবাচক কথা বলা চাই। আল্লাহর নির্দেশ হচ্ছে ‘তোমরা মানুষের সঙ্গে ভালো কথা বলবে, নামাজ কায়েম করবে ও জাকাত দেবে।’ (সুরা বাকারা : ৮৩)। অন্য আয়াতে আল্লাহ বলেন, ‘আমার বান্দাদের বলে দাও, তারা যেন এমন কথাই বলে যা উত্তম। নিশ্চয় শয়তান মানুষের মধ্যে ফ্যাসাদ সৃষ্টি করে। নিশ্চয় শয়তান মানুষের প্রকাশ্য শত্রæ।’ (সুরা বনি ইসরাইল : ৫৩)। তাই রূঢ়, রুক্ষ এবং অশালীন ভাষা থেকে বেঁচে থাকা এবং সর্বাবস্থায় উত্তম ও হৃদয়গ্রাহী কথা বলা। কেননা অন্তরে আঘাত দিয়ে কথা বললে মানুষের পক্ষে সত্য বোঝা ও গ্রহণ করা কঠিন হয়ে পড়ে।
নরম ভাষায় কথা বলা
সবার সঙ্গে সবসময় নরম ও কোমল ভাষায় কথা বলা চাই। যারা বার্ধক্যে উপনীত হয়েছেন, বিশেষত মা-বাবার সঙ্গে সর্বদা নম্র ভাষায় কথা বলা। কথায় কঠোর না হওয়া। আল্লাহ বলেন, ‘যদি কখনও তাদের (আত্মীয়স্বজন, অভাবগ্রস্ত ও মুসাফিরদের) থেকে এ কারণে তোমার মুখ ফেরানোর দরকার হয় যে, তুমি তোমার প্রতিপালকের রহমতের প্রত্যাশায় রয়েছ, তবে সে ক্ষেত্রেও তাদের সঙ্গে নম্রতার সঙ্গে কথা বল।’ (সুরা বনি ইসরাইল : ২৮)। অন্য আয়াতে বলেন, ‘পিতা-মাতার কোনো একজন কিংবা উভয়ে যদি তোমার কাছে বার্ধক্যে উপনীত হয়, তবে তাদের ‘উফ’ শব্দ পর্যন্ত বলবে না এবং ধমক দেবে না। বরং তাদের সঙ্গে সম্মানজনক কথা বল।’ (সুরা বনি ইসরাইল : ২৩)
অনুমানের ভিত্তিতে কথা না বলা
অনুমান করে বা সন্দেহের বশবর্তী হয়ে কোনো কথা মানুষের মাঝে বলা উচিত নয়। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘আপনি তাদের বলে দিন তোমরা যদি তোমাদের দাবিতে সত্যবাদী হও, তবে তোমাদের প্রমাণ পেশ কর।’ (সুরা বাকারা : ১১১)। আল্লাহ আরও বলেন, ‘হে মুমিনরা! তোমরা অধিক অনুমান থেকে বেঁচে থাক। কারণ কিছু অনুমান গুনাহের শামিল। তোমরা কারও গোপন ত্রæটির অনুসন্ধানে পড় না এবং একে অন্যের গিবত কর না।’ (সুরা হুজুরাত : ১২)
যাচাই-বাছাই করে কথা বলা
কোনো কথা বলার আগে সেটার সত্যতা সম্পর্কে জেনে তারপর বলা। যাচাই ও অনুসন্ধান না করে কথা বলার কারণে অনেক সময় ভুল তথ্য ও সংবাদ সরবরাহ হয়ে যায়। এতে লজ্জিত হতে হয়। তাই এ থেকে বেঁচে থাকা। আল্লাহ বলেন, ‘হে মুমিনরা! কোনো পাপাচারী যদি তোমাদের কাছে কোনো সংবাদ নিয়ে আসে, তবে ভালোভাবে যাচাই করে দেখবে, যাতে তোমরা অজ্ঞতাবশত কোনো সম্প্রদায়ের ক্ষতি করে না বস। ফলে নিজেদের কৃতকর্মের কারণে তোমাদের অনুতপ্ত হতে হয়।’ (সুরা হুজুরাত : ৬)। আল্লাহ আরও বলেন, ‘যে বিষয়ে তোমার নিশ্চিত জ্ঞান নেই তাকে সত্য মনে করে তার অনুগামী হয়ো না। জেনে রেখ কান, চোখ ও অন্তর; প্রতিটি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে।’ (সুরা বনি ইসরাইল : ৩৬)
গুজব না ছড়ানো
একশ্রেণির অসাধু লোক সমাজে গুজব ছড়িয়ে থাকে। এতে সমাজে অনেক ক্ষতি হয়, শান্তি ও নিরাপত্তার অবনতি ঘটে। আল্লাহ গুজব ছড়ানোর ব্যাপারে শক্ত কথা বলেছেন। কোরআনে এরশাদ হয়েছেÑ ‘মুনাফেকরা, যাদের অন্তরে ব্যাধি আছে এবং যারা নগরে গুজব রটিয়ে বেড়ায়, তারা যদি বিরত না হয়, তবে আমি অবশ্যই তাদের বিরুদ্ধে তোমাকে দিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করাব। ফলে তারা এ নগরে তোমার সঙ্গে অল্প কিছুদিনই অবস্থান করতে পারবে।’ (সুরা আহজাব : ৬০)। যারা গুজব ছড়ায় তাদেরও এমন কঠিন পরিস্থিতির শিকার হতে হবে।
মওলানা মাহমুদ হাসান
সবসময় সত্য ও সঠিক কথা বলা। মিথ্যা, অন্যায় ও অমূলক কোনো কথা না বলা। এ সম্পর্কে আল্লাহর নির্দেশ হচ্ছে ‘যখন তোমরা কথা বলবে, তখন ন্যায়সঙ্গতভাবে বলবে, যদিও নিকটাত্মীয়ের বিষয়ে হয়। আর আল্লাহর প্রতিশ্রæতি পূর্ণ করবে।’ (সুরা আনআম : ১৫২)। অন্য আয়াতে আল্লাহ বলেন, ‘হে মুমিনরা! আল্লাহকে ভয় কর এবং সত্য ও সঠিক কথা বল।’ (সুরা আহজাব : ৭০)। আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে কথাবার্তার সুন্নত ও আদব রক্ষা করার তাওফিক দান করুন। আমিন।






সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]