ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা শুক্রবার ১৪ আগস্ট ২০২০ ৩০ শ্রাবণ ১৪২৭
ই-পেপার শুক্রবার ১৪ আগস্ট ২০২০

কল্যাণ কামনা মুমিনের আদর্শ
মুফতি আতিকুল্লাহ বিন আসাদ
প্রকাশ: শনিবার, ১১ জুলাই, ২০২০, ১২:০০ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 32

কল্যাণ কামনা মুমিনের এক মহৎ ও মর্যাদাপূর্ণ গুণ। মুমিনরা পরস্পর ভাই ভাই। এক ভাই অপর ভাইয়ের জন্য সর্বদা কল্যাণ কামনা করবে। নবী-রাসুলরা মানবতার কল্যাণ কামনা করেছেন। এজন্য রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, দ্বীন হচ্ছে কল্যাণ কামনা করা। আল্লাহ তায়ালা কোরআন মাজিদে হজরত নুহ (আ.)-এর বক্তব্য উল্লেখ করেছেন, হজরত নুহ (আ.) বলেছিলেন, ‘আমি তোমাদের উপদেশ দেই ও কল্যাণ কামনা করি।’ (সূরা আরাফ : ৬২)। হজরত আবু রুকাইয়্যা তামিমি ইবনে আওস দারি (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী করিম (সা.) বলেছেন, ‘দ্বীন হচ্ছে কল্যণ কামনা’। আমরা জিজ্ঞাসা করলাম, কার জন্য? তিনি বললেন, ‘আল্লাহ, তার কিতাবের, তার রাসুলের, মুসলিম নেতাদের এবং সকল মুসলিমের জন্য।’ (বুখারি : ৫৭)।
ইসলামি জীবনব্যবস্থায় মানুষের জন্য কল্যাণ নিহিত রয়েছে। কোথাও অশান্তি নেই, নেই অকল্যাণ। কালেমার অনিবার্য দাবি হলো, পারস্পরিক কল্যাণ কামনা করা। এটি মুমিনদের অধিকারও বটে। হজরত জারির ইবনে আবদুল্লাহ (রা.) বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) আমার থেকে তিনটি বিষয়ে বাইয়াত নিয়েছেনÑ ১. নামাজ কায়েম করা ২. জাকাত প্রদান করা ৩. প্রত্যেক মুসলমানের কল্যাণ কামনা করা।’ (বুখারি : ৫৫)। হজরত আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী করিম (সা.) এরশাদ করেন, ‘তোমাদের কেউ প্রকৃত মুমিন হতে পারবে না, যতক্ষণ না সে তার ভাইয়ের জন্য সেটাই পছন্দ করবে, যা তার নিজের জন্য পছন্দ করে।’ (মুসলিম : ৪৫)। অর্থাৎ অন্য ভাইয়ের জন্য নিজের অনুরূপ কল্যাণ ও মঙ্গলের চিন্তা করা।
অন্য ভাইয়ের কল্যাণ কামনা মানে অন্যকে ভালোবাসা। এ ভালোবাসার মাধ্যমে মুমিন বান্দা নির্লোভী, নিরহঙ্কারী ও নিঃস্বার্থবাদী স্বভাবের হয়। ফলে তিনি মানুষের কাছে পার্থিব মর্যাদা ও আল্লাহর কাছে প্রিয় বান্দা হন।
মুমিনদের জন্য কল্যাণ কামনা হলোÑ পারস্পরিক বিবাদ মীমাংসা করা, দোষত্রæটি গোপন রাখা, বিপদে সাহায্য-সহযোগিতা করা, ভালো কাজের আদেশ করা, অন্যায় কাজ থেকে বিরত রাখা এবং মুমিনদের জন্য দোয়া করা। কল্যাণকামী মুমিনদের ওপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হয়। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘ঈমানদার পুরুষ ও ঈমানদার স্ত্রীলোকরাই প্রকৃতপক্ষে পরস্পর দায়িত্বশীল বা সাহায্যকারী বন্ধু। (এদের পরিচয় ও বৈশিষ্ট্য হলো) তারা নেক কাজের আদেশ দেয়, অন্যায় কাজ থেকে বিরত রাখে, নামাজ কায়েম করে এবং জাকাত আদায় করে। আল্লাহ ও রাসুলের বিধান মেনে চলে। তাদের প্রতিই আল্লাহ তায়ালা রহমত বর্ষণ করেন।’ (সূরা তওবা : ৭১)।
পারস্পরিক ঐক্য সৃষ্টি হয় পরস্পরের মধ্যে ভালোবাসা ও ভ্রাতৃত্ববোধ থেকে। আর ভালোবাসা ও ভ্রাতৃত্ববোধ সৃষ্টি হয় পারস্পরিক কল্যাণ কামনার মাধ্যমে। একজন মুমিনের সঙ্গে অপর মুমিনের সম্পর্ক হচ্ছে, অট্টালিকার একটি ইটের সঙ্গে অন্য ইটের সম্পর্কের মতো। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘মুমিনরা পারস্পরিক একটি প্রাচীরের ইটের মতো, একে অন্য থেকে শক্তি অর্জন করে।’ (বুখারি : ২৬৪৬)। ভ্রাতৃত্ব, দয়া ও সহমর্মিতার ক্ষেত্রে মুুমিনের উদাহরণ একটি দেহের মতো। পৃথিবীর কোথাও কোনো মুসলমান কষ্ট বা বিপদের সম্মুখীন হলে তার সাহায্যে এগিয়ে যাওয়া আমাদের ঈমানি দায়িত্ব। হজরত নুমান ইবনে বাশির (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘বন্ধুত্ব, দয়া ও সহানুভ‚তির ক্ষেত্রে মুমিনের উদাহরণ একটি দেহের মতো। যখন দেহের কোনো অঙ্গ পীড়িত হয়, তখন তার জন্য সারাদেহ অনিদ্রা ও জ্বরে আক্রান্ত হয়।’ (বুখারি : ৬০১১)
লেখক : খতিব, রোশাদিয়া শাহি জামে মসজিদ, উত্তরা, ঢাকা




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]