ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা মঙ্গলবার ৪ আগস্ট ২০২০ ২০ শ্রাবণ ১৪২৭
ই-পেপার মঙ্গলবার ৪ আগস্ট ২০২০

ফজিলতপূর্ণ কয়েকটি সুরার বর্ণনা
তাওহীদুল ইসলাম তায়্যিব
প্রকাশ: রোববার, ১২ জুলাই, ২০২০, ১২:০০ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 67

কোরআন মাজিদ তেলাওয়াত করতে পারা একজন মুমিনের জন্য পরম সৌভাগ্যের ব্যাপার। নিঃসন্দেহে এ সৌভাগ্য মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের এক মহানেয়ামত। কোরআন মাজিদকে আল্লাহ তায়ালা ‘লওহে মাহফুজে’ সংরক্ষণ করেছেন।
সেখান থেকে হযরত জিবরাঈলের (আ.) মাধ্যমে তাঁর সবচেয়ে প্রিয়, সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ রাসুল হজরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি নাজিল করেছেন। তিনি পরম সৌভাগ্য ও কৃতজ্ঞতার অনুভূতি নিয়ে এই কোরআন তেলাওয়াত করতেন। তাঁর কাছ থেকে শিখে তেলাওয়াত করেছেন সাহাবায়ে-কেরাম। এমনিভাবে তেলাওয়াত করেছেন যুগে যুগে উম্মতের শ্রেষ্ঠ মনীষীরা। আনন্দের কথা হলো, রাসুলে কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, সাহাবায়ে-কেরাম এবং আল্লাহর প্রিয় বান্দারা ঠিক যেভাবে কোরআন তেলাওয়াত করেছেন এখনও তা সেভাবেই সংরক্ষিত আছে। শব্দ বাক্য উচ্চারণ ধ্বনি হুবহু সেভাবেই। আমাদের মতো গোনাহগারদের
জন্য সেই তেলাওয়াতে শরিক হতে পারা মহাসৌভাগ্য নয় তো কি?
কোরআনে কারিমে ১১৪টি সুরা আছে। কোরআনের প্রতিটি সুরা, এমনকি প্রতিটি হরফ তেলাওয়াতে নির্দিষ্ট সওয়াব ও ফজিলতের পাশাপাশি কিছু সুরার বিশেষ ফজিলত হাদিস শরিফে উল্লিখিত হয়েছে।
এখানে কয়েকটি সুরার ফজিলত সম্পর্কে আলোচনা করা হলো।
সুরা কাহাফের ফজিলত
হজরত আবু দারদা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি সুরা কাহাফের প্রথম দশ আয়াত মুখস্থ করবে, সে দাজ্জালের ফেতনা থেকে মুক্ত থাকবে। (মুসলিম : ৮০৯; আবু দাউদ : ৪৩২৩)। মুফাসসিরীনে কেরাম বলেন, নিয়মিত এই দশ আয়াত তিলাওয়াতের মাধ্যমে দাজ্জালের ফেতনা থেকে বাঁচার পাশাপাশি সমকালীন সব ফেতনা থেকে বাঁচা যাবে। হজরত আবু সাঈদ খুদরী (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি জুমার দিন সুরা কাহাফ তিলাওয়াত করবে, একটি বিশেষ নূর তাকে পরবর্তী জুমা পর্যন্ত বেষ্টন করে রাখবে। (মুসতাদরাকে হাকেম : ৩৩৯২; সুনানে কুবরা বাইহাকী : ৫৯৯৬)।
সুরা ইয়াসিনের ফজিলত
হজরত জুনদুব (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসল্লাম বলেন, যে ব্যক্তি আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টির জন্য রাতের বেলা সুরা ইয়াসিন তিলাওয়াত করবে, তাকে ক্ষমা করে দেওয়া হবে। (ইবনে হিব্বান : ২৫৭৪)। হজরত আতা ইবনে আবি রাবাহ রহ. বলেন, আমার কাছে এই হাদিস পৌঁছেছে যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি দিনের শুরুতে সুরা ইয়াসিন তিলাওয়াত করবে তার যাবতীয় প্রয়োজন পূরণ করা হবে। (সুনানে দারেমি : ২/৫৪৯)
সুরা ওয়াকিয়ার ফজিলত
হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি প্রতি রাতে সুরা ওয়াকিয়াহ তিলাওয়াত করবে দারিদ্র্য তাকে স্পর্শ করবে না।
হাদিস বর্ণনাকারী বলেন, হজরত ইবনে মাসউদ (রা.) তার মেয়েদেরকে আদেশ করতেন যেন তারা প্রতি রাতে এই সুরা তিলাওয়াত করে। (শুআবুল ঈমান বাইহাকি : ২৪৯৯)
সুরা মূলকের ফজিলত
হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, কোরআনে ৩০ আয়াতবিশিষ্ট একটি সুরা আছে। যে ব্যক্তি নিয়মিত সেই সুরা তিলাওয়াত করবে তার জন্য ক্ষমা আদায় না করা পর্যন্ত সুরাটি সুপারিশ করবে। সেই সুরা হলো, তাবারাকাল্লাযি বিয়াদিহিল মূলক। (আবু দাউদ : ১৪০০; তিরমিজি : ২৮৯১)। হজরত আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কোরআনে ৩০ আয়াতবিশিষ্ট একটি সুরা আছে।
নিয়মিত যে ব্যক্তি সেই সুরা তিলাওয়াত করবে (কিয়ামতের দিন) তার জন্য সে তর্ক করবে। এক পর্যায়ে তাকে জান্নাতে নিয়ে যাবে। সেটি হলো সুরা মূলক। (আলমুজামুল আউসাত তাবারানি : ৩৬৫৪)। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) বলেন, যে ব্যক্তি প্রতি রাতে সুরা মূলক পড়বে আল্লাহ তায়ালা তাকে এর উসিলায় কবরের আজাব থেকে মুক্ত রাখবেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জামানায় এই সুরাকে আমরা ‘কবরের আজাব প্রতিরোধকারী’ নামে চিনতাম। যে ব্যক্তি প্রতি রাতে এই সুরা তিলাওয়াত করল, নিশ্চয় সে অনেক তিলাওয়াত করল এবং উত্তম কাজ করল। (সুনানে কুবরা নাসায়ি : ১০৫৪৭)
এই সুরাগুলো ছাড়া আরও কয়েকটি সুরার নির্দিষ্ট ফায়দা ও ফজিলত হাদিস শরিফে বর্ণিত হয়েছে। বিশিষ্ট এই সুরাগুলো তেলাওয়াতের মাধ্যমে হলেও কোরআনের সঙ্গে নিজেকে যুক্ত রাখা উচিত। কোরআন তেলাওয়াতের এই মহান আমলে সব মুমিনের সাগ্রহ অংশগ্রহণ কাম্য। সৌভাগ্যের এই দীর্ঘ সূত্রে নিজেকে জুড়ে দেওয়া নিশ্চিত সফলতার পথে অগ্রযাত্রা। এ অগ্রযাত্রায় আল্লাহ আমাদেরকেও শামিল করুন। আমিন।







সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]