ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা  বুধবার ৫ আগস্ট ২০২০ ২০ শ্রাবণ ১৪২৭
ই-পেপার  বুধবার ৫ আগস্ট ২০২০

নারী পাচার চক্রের হোতাসহ গ্রেফতার ৩
আট বছরে হাজার তরুণীকে দুবাইয়ে পাচার
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: সোমবার, ১৩ জুলাই, ২০২০, ১২:০০ এএম আপডেট: ১৩.০৭.২০২০ ১:৫১ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 14

চাকরির নামে গত আট বছরে দেশের হাজারেরও বেশি তরুণী-কিশোরীকে দুবাইয়ে পাচার ও দেহ ব্যবসায় বাধ্য করেছে আন্তর্জাতিক নারী পাচার চক্র। এই চক্রের বাংলাদেশের মূল হোতা আজমসহ দুই সহযোগীকে গ্রেফতারের পর এসব তথ্য বেরিয়ে  এসেছে। গ্রেফতার অন্যরা হলোÑ ময়না ও আলামিন হোসেন ওরফে ডায়মন্ড।
রোববার দুপুরে সিআইডির সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সিআইডির অর্গানাইজড ক্রাইমের প্রধান ডিআইজি ইমতিয়াজ আহমেদ এসব কথা জানান। তিনি বলেন, চক্রটি হোটেলে চাকরি দেওয়ার কথা বলে ২০-২২ বছরের তরুণী-কিশোরীদের প্রথমে প্রলুব্ধ করত। বিশ^স্ততা অর্জনে বেতন হিসেবে ২০-৩০ হাজার টাকা নগদ পরিশোধও করা হতো। শুধু তাই নয়, দুবাইয়ে যাওয়া-আসা বাবদ সবধরনের খরচও দিত দালাল চক্র। কিন্তু দুবাই যাওয়ার পর তাদের হোটেলে জিম্মি করে জোরপূর্বক দেহ ব্যবসাসহ ডান্স ক্লাবে নাচতে বাধ্য করা হতো।
সিআইডির এই কর্মকর্তা জানান, মানবপাচার একটি ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম। দুবাইয়ে এই চক্রের গডফাদার আজমের তারকাবহুল বিলাসবহুল হোটেল রয়েছে। সে ফরচুন পার্ল হোটেল অ্যান্ড ড্যান্স ক্লাব, হোটেল রয়েল ফরচুন, হোটেল ফরচুন গ্রান্ড ও হোটেল সিটি টাওয়ারের অন্যতম মালিক। এর মধ্যে তিনটি হচ্ছে ফোর স্টার, একটি থ্রি স্টারমানের। সে বাংলাদেশে অর্ধশত দালালের মাধ্যমে কিশোরী অথবা ২০-২২ বছরের মেয়েদের উচ্চ বেতনে কাজ দেওয়ার কথা বলে প্রলুব্ধ করেছে। দালালরা মেয়েদের প্রলুব্ধ করে নির্ধারিত দুটি বিদেশি এয়ারলাইন্স এজেন্সির মাধ্যমে দুবাই পাঠাত। দুবাই যাওয়ার পর তাদের প্রথমে ছোটখাটো কাজ দেওয়া হতো। এরপর জোরপূর্বক ড্যান্স ক্লাবে নাচতে বাধ্য করা হতো। আটকে রাখা হতো। খাবার দেওয়া হতো না। এমনকি শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হতো। বৈদ্যুতিক শক পর্যন্ত দেওয়া হতো। এভাবে দেহ ব্যবসায় পর্যন্ত বাধ্য করা হতো।
ডিআইজি ইমতিয়াজ আহমেদ জানান, ভুক্তভোগীদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে দুবাই সরকার দূতাবাসকে জানিয়ে চক্রের গডফাদার আজমের পাসপোর্ট জব্দ করে দেশে ফেরত পাঠায়। দেশে ফেরার পর আজম আত্মগোপনে যায় এবং বারবার নিজের অবস্থান পরিবর্তন করতে থাকে। নতুন পাসপোর্ট করে সে সীমান্ত দিয়ে পাশের দেশে পালানোর চেষ্টাও করে। তবে তার আগেই দুই সহযোগীসহ সিআইডির চৌকস দল তাকে আটক করে। এখন পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে ১৫টি মামলার তথ্য পাওয়া গেছে। যার মধ্যে ছয়টি হত্যা মামলা রয়েছে।
তিনি আরও জানান, দেশের সহযোগী দালালরা প্রতিটি মেয়ের জন্য ১০ হাজার করে টাকা পেত। আর ভিকটিমদের অগ্রিম বেতন দেওয়ার কথা বলে প্রলুব্ধ করা হতো। দুবাই পর্যন্ত ভিকটিমদের যাওয়া, খাওয়া ও থাকার সব খরচ দালাল চক্র পরিশোধ করত। অগ্রিম বেতন হিসেবে ২০-৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত পরিশোধ করত আজম। কিন্তু দুবাই ড্যান্সবারে হোটেলে নেওয়ার পর তাদের আর বেতন দেওয়া হতো না। এসব ঘটনায় আসামিদের জড়িত থাকার অডিও ক্লিপ ইতোমধ্যে সিআইডি উদ্ধার করছে।
জিজ্ঞাসাবাদে গডফাদার আজম স্বীকার করেছে যে, গত আট বছরে সে হাজারেরও বেশি তরুণীকে দুবাই পাচার করেছে। এ বিষয়ে সিআইডি বাদী হয়ে গত ২ জুলাই রাজধানীর লালবাগ থানায় একটি মামলা করেছে। যেটি বর্তমানে সিআইডির তদান্তাধীনে।





সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]