ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা  বুধবার ৫ আগস্ট ২০২০ ২০ শ্রাবণ ১৪২৭
ই-পেপার  বুধবার ৫ আগস্ট ২০২০

নতুন করে প্লাবিত ১১ জেলা কষ্টে পানিবন্দি মানুষ
সময়ের আলো ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ১৩ জুলাই, ২০২০, ১২:০০ এএম আপডেট: ১৩.০৭.২০২০ ১:৫৩ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 23

ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে নদ-নদীর পানি বাড়তে শুরু করায় দেশের বিভিন্ন এলাকার নিম্নাঞ্চল নতুন করে প্লাবিত হয়েছে। রোববার বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দেশের ১১ জেলার বিভিন্ন অঞ্চলে আগামী ২৪ ঘণ্টায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে। এতে বলা হয়েছেÑ নীলফামারী, লালমনিরহাট, রংপুর, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, বগুড়া, জামালপুর, নাটোর, সিলেট, সুনামগঞ্জ এবং নেত্রকোনা জেলার নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় যমুনা, কাজীপুর ও সিরাজগঞ্জ পয়েন্টে এবং পদ্মা নদী-গোয়ালন্দ পয়েন্টে পানি বিপদসীমা অতিক্রম করতে পারে। এ ছাড়া ব্রহ্মপুত্র-যমুনা, গঙ্গা-পদ্মা এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলের আপার মেঘনা অববাহিকার প্রধান নদ-নদীরগুলোর পানি সমতলে বৃদ্ধি পেতে পারে, যা আগামী ৭২ ঘণ্টা পর্যন্ত অব্যাহত  থাকতে পারে।
আগামী ২৪ ঘণ্টায় তিস্তা ও ধরলা নদীর পানি সমতলে বৃদ্ধি অব্যাহত থাকতে পারে এবং বিপদসীমার ওপর দিয়ে অতিক্রম করতে পারে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় দক্ষিণ-পূর্ব পার্বত্য অঞ্চলে ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে এ অঞ্চলের সাঙ্গু, হালদা ও মাতামুহুরী নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। অন্যদিকে দেশের ১০১টি পর্যবেক্ষণাধীন পানি সমতলে স্টেশনের মধ্যে বৃদ্ধি পেয়েছে ৭৬টির, হ্রাস পেয়েছে ২৩টির, অপরিবর্তিত রয়েছে দুটির এবং বিপদসীমার ওপরে রয়েছে ১৬টির। সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাত হয়েছে সুনামগঞ্জে ১৫০ মিলিমিটার, লালাখালে ১৪৮ মিলিমিটার, ঠাকুরগাঁওয়ে ১২১ মিলিমিটার, কমলগঞ্জে ১০৮ মিলিমিটার, মনু রেলওয়ে ব্রিজে ১০৪ মিলিমিটার, শেরপুরে ৯২ মিলিমিটার, সিলেটে ৯৫ মিলিমিটার, পঞ্চগড়ে ৯২ মিলিমিটার, শ্যাওড়ায় ৯২ মিলিমিটার, নোয়াখালীতে ৮৫ মিলিমিটার। আমাদের নিজস্ব প্রতিবেদক এবং প্রতিনিধিদের পাঠানো খবরÑ
নীলফামারী : ভারত থেকে আসা উজানের ঢল, পাহাড় ও সমতলে একটানা বৃষ্টি ও গজলডোবা থেকে প্রচুর পানি ছেড়ে দেওয়ার জেরে ভয়ঙ্কর রূপে ফুঁসে উঠেছে তিস্তা নদী। পানি বেড়ে যাওয়ায় ওপারে দোমহনী থেকে বাংলাদেশের জিরো পয়েন্ট পর্যন্ত ভারত কর্তৃপক্ষ তিস্তা নদীর অরক্ষিত এলাকায় লাল সঙ্কেত জারি করেছে। অন্যদিকে বাংলাদেশ অংশে হলুদ সঙ্কেত রাখা হয়েছে। রোববার সকাল ৬টায় তিস্তার পানি বিপদসীমার ২৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) নীলফামারীর ডালিয়ার নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম জানান, ভারতের ওয়েবসাইটের সূত্র মতে, প্রচুর পরিমাণে বৃষ্টি হওয়ার কারণে তিস্তার পানি আরও বাড়তে পারে। তবে পরিস্থিতি সামাল দিতে তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি জলকপাট খুলে রাখা হয়েছে।
কুড়িগ্রাম : ভারী বর্ষণ ও উজানের ঢলে কুড়িগ্রামের নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। ধরলা ও ব্রহ্মপূত্র নদের পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় দেড়শতাধিক চর ও নিম্নাঞ্চলের গ্রামগুলো প্লাবিত হয়েছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে ৬৫ হাজার মানুষ। ঘরবাড়িতে পানি ওঠায় অনেকেই রাস্তা ও বাঁধের ওপর আশ্রয় নিয়েছে। এদিকে পানি বৃদ্ধি পেয়ে দ্বিতীয়বার বাড়িঘর তলিয়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছে চরাঞ্চল ও নদ-নদী তীরবর্তী এলাকার মানুষজন। প্রথম দফা বন্যার পানি নেমে যেতে না যেতেই আবারও বন্যার কবলে পড়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছে তারা। কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার ভোগডাঙ্গা ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। পানিবন্দি হয়েছে ২০ গ্রামের মানুষ। পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আরিফুল ইসলাম জানিয়েছেন, জেলায় ১৯টি পয়েন্টে ভাঙন তীব্র রূপ নিয়েছে।
গাইবান্ধা : গত চারদিনের ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে গাইবান্ধায় ব্রহ্মপুত্র, ঘাঘট, তিস্তা ও করতোয়াসহ সবকটি নদ-নদীর পানি আবারও বৃদ্ধি পেতে শুরু করেছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় রোববার দুপুর ১২টা পর্যন্ত ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বিপদসীমার ২৭ সেন্টিমিটার এবং তিস্তা নদীর পানি বিপদসীমা অতিক্রম করে ১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় নদ-নদীর পানি আরও বৃদ্ধি পাবে এবং জেলার বন্যা পরিস্থিতি আরও অবনতি হবে বলে জানানো হয়েছে। সাঘাটা, ফুলছড়ি, সুন্দরগঞ্জ ও গাইবান্ধা সদর উপজেলার নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চলের বসতবাড়ি আবারও পানিতে নিমজ্জিত হয়ে পড়েছে এবং ৩০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। আকস্মিক বন্যার তীব্র স্রোতে গাইবান্ধা শহর রক্ষা বাঁধসহ ফুলছড়ি ও সাঘাটা বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ হুমকির মুখে পড়েছে।
জামালপুর : ভারী বৃষ্টি আর উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে জামালপুরে আবারও দ্বিতীয় দফায় বন্যা দেখা দিয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় যমুনা নদীর পানি বাহাদুরাবাদ ঘাট পয়েন্টে ৩৭ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ৩৬ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় জেলার ইসলামপুর ও দেওয়ানগঞ্জ উপজেলায় নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের বসতবাড়িতে পানি ঢুকতে শুরু করেছে। ইসলামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মিজানুর রহমান জানান, উপজেলায় আটটি ইউনিয়নের ৫২টি গ্রামে আগে থেকে বন্যার পানি থাকলেও নতুন করে যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় এসব এলাকায় ফের পানি ঢুকতে শুরু করেছে। স্থানীয় এমপি ফরিদুল হক খান দুলাল ইসলামপুর উপজেলায় নতুন করে বন্যা আক্রান্ত এলাকাগুলো পরিদর্শন করেছেন।
শেরপুর : গত কয়েকদিনের টানা বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের তোরে শেরপুরের নালিতাবাড়ীতে ভোগাই নদীর বাঁধ ভেঙে প্লাবিত হয়েছে কয়েকটি গ্রাম। এ ছাড়াও নিম্নাঞ্চলে ভোগাই ও চেল্লাখালী নদী দুটির পানি প্রবেশ করে তলিয়ে গেছে ফসলের মাঠ। ভোগান্তি বেড়েছে কয়েক হাজার মানুষের। রোববার সরেজমিন পরিদর্শন করে দেখা গেছে, উপজেলার মরিচপুরান ইউনিয়নের ফকিরপাড়া গ্রামের ভোগাই নদীর বাঁধ প্রায় ১শ’ মিটার এলাকাজুড়ে ভেঙে প্রবল বেগে পাহাড়ি ঢলের পানি প্রবেশ করছে আশপাশের কয়েকটি গ্রামে। বেশকিছু এলাকার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। তলিয়ে গেছে আমন বীজতলাসহ ফসলি জমি। ভেসে গেছে অসংখ্য পুকুরের মাছ।
সিলেট : উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল আর অতি বৃষ্টিতে সিলেটের সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। এই দুই নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। একই সঙ্গে সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার সারি নদীর পানিও বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এদিকে নদ-নদীতে পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সিলেটের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী উপজেলা গোয়াইনঘাট, কানাইঘাট, কোম্পানীগঞ্জ, জৈন্তাপুরের বিভিন্ন এলাকা তলিয়ে গেছে। এতে সীমান্ত এলাকার মানুষের ভোগান্তি বেড়েছে। কোথাও কোথাও সড়ক ডুবে গিয়ে যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। সিলেট পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, রোববার বিকাল ৩টা পর্যন্ত সুরমা নদীর পানি কানাইঘাট পয়েন্টে বিপদসীমার ৭৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আর সিলেট পয়েন্টে পানি বিপদসীমার ১০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। কুশিয়ারা নদীর পানি ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে বিপদসীমার ৩১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। অন্যদিকে গোয়াইনঘাটের সারি নদীর পানি বিপদসীমার ১০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]