ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা শুক্রবার ১৪ আগস্ট ২০২০ ৩০ শ্রাবণ ১৪২৭
ই-পেপার শুক্রবার ১৪ আগস্ট ২০২০

উচ্চফলনশীল আউশের বাম্পার ফলন : বিনাধান-১৯ ও বিনাধান-২১ কৃষিতে বিপ্লব নিয়ে এলো
জাহাঙ্গীর কবির জুয়েল ময়মনসিংহ ব্যুরো
প্রকাশ: সোমবার, ১৩ জুলাই, ২০২০, ১২:০০ এএম আপডেট: ১৩.০৭.২০২০ ২:০৫ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 25

কৃষিতে যেন বিপ্লব নিয়ে এল বিনাধান-১৯ ও বিনাধান-২১। চলতি আউশ মৌসুমে আবাদকৃত উচ্চফলনশীল বিনাধান-১৯ ও বিনাধান-২১ বপনের ৯৫ দিন পর কর্তনের নতুন রেকর্ড করেছে। ফলনও হয়েছে বাম্পার। হেক্টর প্রতি সাড়ে ৪ টন। কম সময়ে কম খরচে অধিক ফলন হওয়ায় বিনাধান-১৯ ও বিনাধান-২১ চাষিদের কাছে অনেক জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। আগামীতে ময়মনসিংহ অঞ্চলে আউশ ধানের আবাদ বৃদ্ধির উজ্জ্বল সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে বলে জানিয়েছেন কৃষিবিদ ও বিজ্ঞানীরা।
ময়মনসিংহের সদর উপজেলার বয়রা এলাকার প্রবীণ চাষি আমির খসরু বলেন, এক সময় ময়মনসিংহ অঞ্চলের বিস্তীর্ণ জমিতে আউশ ধানের আবাদ হতো। একর প্রতি ১০-১২ মণ ধান উৎপন্ন হতো। স্থানীয় জাতের ধানের আবাদ করে চাষিরা উৎপাদন খরচই তুলতে পারতেন না। এক পর্যায়ে আউশের আবাদ শূন্যের কোঠায় নেমে আসে।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে শস্যের নিবিড়তা বাড়াতে বর্তমান সরকারের নির্দেশনায় বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিনা) আউশ ধানের দুটি উন্নত জাত বিনাধান-১৯ এবং বিনাধান-২১ উদ্ভাবন করে। যা আউশ মৌসুমে আবাদ করে হেক্টর প্রতি উৎপাদন পাওয়া যায় গড়ে ৫ টন। কম খরচে কম সময়ে অধিক ফলন হওয়ায় চাষিরাও ফের আউশ ধান উৎপাদনে উৎসাহী হয়ে উঠছেন। আগাম ফলন হওয়ায় একই জমিতে আউশ মৌসুমে বিনাধান-১৯ এবং বিনাধান-২১, আমন মৌসুমে বিনাধান-১১ এবং খরিপ মৌসুমে সরিষার চাষ করে তিনটি ফসল ঘরে তুলতে পারছেন চাষিরা।
ময়মনসিংহ সদর উপজেলার বয়রা গ্রামের কৃষক হাজী জয়নাল আবেদিন চলতি মৌসুমে বিনাধান-১৯ এবং বিনাধান-২১ ছিটিয়ে আবাদ করে হেক্টর প্রতি সাড়ে ৪ টন করে ফলন পেয়েছেন। তিনি জানান গত দু’বছর ধরে গভীর নলকূপ অচল হয়ে পড়ায় তাদের এলাকার জমি পতিত থাকছে। এ বছর  বিনার ফলিত গবেষণা ও সম্প্রসারণ বিভাগ থেকে চাষি জয়নাল আবেদিনকে প্রদর্শনী প্লট হিসাবে বিনাধান-১৯ এবং বিনাধান-২১ বীজ বিনামূল্যে সরবরাহ করা হয়। বিনাধান-১৯ এবং বিনাধান-২১ বপনের ৯৫ দিনের মধ্যে তিনি কর্তন করতে পেরেছেন।
জয়নাল আবেদিন বলেন, বীজ ছিটিয়ে বপনের ফলে আমার উৎপাদন খরচ কম হয়েছে। শুধু একবার নিড়ানি দিয়েছি। কোনো ওষুধ ছিটাইনি। সামান্য পরিমাণে সার দিয়েছি। খুব একটা যত্নও করতে হয়নি। কিন্তু ফলন দেখে অবাক হয়েছি নিজেই। পাড়ার অনেকেই এখন আফসোস করেছেন কেন তারাও আউশের আবাদ করেননি। এ সময় তাদের অনেক জমিই পতিত রয়েছে। তবে আগামী আউশ মৌসুমে গ্রামের চাষিরা সবাই বিনাধান-১৯ ও বিনাধান-২১ আবাদ করবেন বলে জানিয়েছেন।
বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের পরিচালক ও বিনাধান-১৯-এর উদ্ভাবক ড. আবুল কালাম আজাদ জানান, স্বল্প জীবনকালীন বিনাধান-১৯ ও বিনাধান-২১ খরাপীড়িত বরেন্দ্র ও পাহাড়ি এলাকাসহ উঁচু ও মধ্যম এবং বৃষ্টি নির্ভর জমিতেও আবাদ করা যায়। এ দুটি জাতের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো সেচের পানি কম লাগে। জীবনকাল কম হওয়ায় ৯৫-১০৫ দিনে ফলন ঘরে তোলা যায়। একর প্রতি ফলন পাওয়া যায় ৪০-৬০ মণ। চাল চিকন, লম্বা এবং খেতেও সুস্বাদু। তবে এ জাত চাষ করার ক্ষেত্রে দুটি সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। এক. যে জমিতে সবসময় পানি থাকে সেই জমিতে এই জাতের ধান চাষ না করাই ভালো। দুই. জীবনকাল কম হওয়ায় ধান রোপনের জন্য চারার বয়স ২০-২৫ দিন হওয়াই বাঞ্ছনীয়।
বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক এবং বিনাধান-২১-এর উদ্ভাবক ড. মির্জা মোফাজ্জল ইসলাম জানান, এক ফসলি জমিতে ৩-৪টি ফসলের আবাদ করতে হলে বোরো ধানের আবাদ কমিয়ে আগাম জাতের আউশ ধানের আবাদ বাড়াতে হবে। এতে ভূ-গর্ভস্থ পানির ওপর চাপ কমবে। একই সঙ্গে সেচ খরচ বাবদ প্রতিবছর চাষিদের বিপুল পরিমাণ অর্থের সাশ্রয় হবে।
তিনি জানান, গবেষক ও সরকারের পরিকল্পনা হলো, ভূ-গর্ভস্থ পানির অভাব দূর করার জন্য আউশের আবাদ বাড়াতে হবে। সেই লক্ষ্য নিয়ে কম খরচে স্বল্প জীবনকালীন উচ্চ ফলনশীল বিনাধান-১৯ ও বিনাধান-২১ উদ্ভাবন করা হয়। যা চাষিদের জন্য খুবই লাভজনক।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর অতিরিক্ত পরিচালক নিখিল চন্দ্র সেন বলেন, সরকারের নির্দেশনা হলো যেসব শস্যের উৎপাদনে পানি কম লাগে সেসব শস্যের আবাদ বাড়াতে হবে। গত বছর ১৭ হাজার ৭৩৫ হেক্টর জমিতে প্রায় ৫০ হাজার টন ধান উৎপাদন হওয়ায় চলতি মৌসুমে প্রায় ২৩ হাজার হেক্টর জমিতে আউশের আবাদ হয়। এ ক্ষেত্রে চাষিদের প্রথম পছন্দই হলো বিনাধান-১৯ ও বিনাধান-২১।






এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]