ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা শুক্রবার ১৪ আগস্ট ২০২০ ৩০ শ্রাবণ ১৪২৭
ই-পেপার শুক্রবার ১৪ আগস্ট ২০২০

দশ শ্রেণির মানুষের সুন্দর মৃত্যু
মুফতি আমিনুল ইসলাম
প্রকাশ: সোমবার, ১৩ জুলাই, ২০২০, ১২:০০ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 34

চিরন্তন এক সত্যের নাম মৃত্যু। মৃত্যুকে অস্বীকার করেছেন, এমন কোনো সুস্থ মানুষের কথা পৃথিবীর ইতিহাসে পাওয়া যাবে না। কারণ সব কিছুর স্রষ্টা মহান আল্লাহ কোরআনে কারিমে ইরশাদ করেছেনÑ ‘সকল প্রাণীই মৃত্যুর স্বাদ আস্বাদন করবে।’ (সুরা আলে ইমরান : ১৮৫)।
তাই মৃত্যুকে ভুলে নয়, বরং মৃত্যুর স্মরণেই মুমিনের ঈমান তাজা হয়। প্রত্যেক ঈমানদারই একটি সুন্দর মৃত্যু প্রত্যাশা করে। কারণ সুন্দর মৃত্যুই যে সুন্দর আখিরাতের ইঙ্গিত। হাদিসে বর্ণিত দশটি সুন্দর মৃত্যুর কথা আমরা এখানে উল্লেখ করছি।
১. মৃত্যুর সময় তাওহিদ ও একত্ববাদের কালিমা পাঠ করে মৃত্যুবরণ করা অনেক সৌভাগ্যের বিষয়। হজরত মুয়াজ ইবনে জাবাল (রা.) বলেন, আল্লাহর রাসুল (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘যার শেষ কথা হবে লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।’ (আবু দাউদ : ৩১১৬; মুসতাদরাকে হাকিম : ১/৩৫১)
২. পৃথিবীতে আল্লাহর বাণী ও আহ্বান উচ্চকিত রাখার জন্য শাহাদাতবরণকারী সৌভাগ্যবান। তাদের সম্পর্কে আল্লাহ তায়ালা বলেছেনÑ ‘যারা আল্লাহর পথে নিহত হয়েছে তাদেরকে কখনও মৃত মনে করো না; বরং তারা জীবিত। তাদেরকে তাদের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে রিজিক দেওয়া হয়। আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে তাদেরকে যা কিছু দিয়েছেন তারা তাতে প্রফুল্ল। আর তাদের পরে এখনও যারা (শাহাদাতে) তাদের সঙ্গে মিলিত হয়নি, তাদের ব্যাপারে এ কারণে তারা আনন্দ বোধ করে যে, (তারা যখন তাদের সঙ্গে এসে মিলিত হবে তখন) তাদের কোনো ভয় থাকবে না এবং তারা দুঃখিতও হবে না। তারা আল্লাহর নেয়ামত ও অনুগ্রহের কারণেও আনন্দ লাভ করে এবং এ কারণেও যে, আল্লাহ মুমিনদের কর্মফল নষ্ট করেন না।’ (সুরা আলে ইমরান : ১৬৯-১৭১)
৩. আল্লাহর রাস্তায় সফরে বা হজের ইহরাম বাঁধা অবস্থায় মৃত্যুবরণকারী ব্যক্তি। আল্লাহর রাসুল (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘যে আল্লাহর পথে নিহত হয়েছে সে শহীদ। যে আল্লাহর পথে মৃত্যুবরণ করেছে সে শহীদ।’ (মুসলিম : ১২০৬)। অন্য হাদিসে আছে, ‘হজের ইহরাম অবস্থায় উটের পিঠ থেকে পড়ে একজন ব্যক্তির মৃত্যু হলে আল্লাহর রাসুল (সা.) তার সম্পর্কে বললেন, তাকে বড়ই পাতাযুক্ত পানি দ্বারা গোসল দাও এবং তার (পরিহিত) দুটো কাপড়েই তাকে কাফন দাও। তবে তার মাথা আবৃত করো না। কেননা কিয়ামতের দিন সে তালবিয়া পাঠ করতে করতে উত্থিত হবে।’ (মুসলিম : ১২০৬)
৪. ইবাদত-বন্দেগি অবস্থায় মৃত্যুবরণ করা। হজরত হুযায়ফা (রা.) বলেন, আল্লাহর রাসুল (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ বলবে এবং এটাই হবে তার শেষ আমল, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। যে আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় একদিন রোজা রাখবে এবং এটাই হবে তার শেষ আমল, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। যে আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় সদকা করবে এবং এটাই হবে তার শেষ আমল, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।’
(মুসনাদে আহমদ : ৫/৩৯১)
৫. শরিয়তের পক্ষ থেকে অর্পিত কোনো বিষয় রক্ষা করতে গিয়ে মৃত্যুবরণ করা। হজরত সায়িদ ইবনে যায়েদ (রা.) থেকে বর্ণিত, আল্লাহর রাসুল (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘যে তার সম্পদ রক্ষা করতে গিয়ে নিহত হয়, সে শহীদ। যে তার পরিবার-পরিজনদের রক্ষা করতে গিয়ে নিহত হয়, সে শহীদ। যে দ্বীন রক্ষায় নিহত হয়, সে শহীদ। যে তার জীবন রক্ষায় নিহত হয় সে শহীদ।’ (আবু দাউদ : ৪৭৭২; তিরমিজি : ১৪১৮)
৬. মহামারি জাতীয় কোনো রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করা। হজরত আনাস ইবনে মালেক (রা.) বলেন, আল্লাহর রাসুল (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘তাউন’ হচ্ছে সকল মুসলিমের জন্য শাহাদত। (বুখারি : ১০/১৬৫-১৬৭; মুসনাদে আহমদ : ৩/১৫০, ২২০)
৭. সন্তান প্রসবের সময় ও নেফাস অবস্থায় নারী মৃত্যুবরণ করা। হজরত উবাদা ইবনে সামিত (রা.) থেকে বর্ণিত, আল্লাহর রাসুল (সা.) ইরশাদ করেছেনÑ ‘সন্তান প্রসব করতে গিয়ে নারীর মৃত্যু হলে তা শাহাদাত। তার সন্তান তাকে জান্নাতের দিকে টেনে নিয়ে যাবে।’ (মুসনাদে আহমদ : ৪/২০১, ৫/৩২৩)
৮. পানিতে ডুবে, আগুনে পুড়ে কিংবা ভূমিধসে মৃত্যুবরণ করা। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, ‘শহীদ পাঁচ শ্রেণিরÑ ১. প্লেগ রোগে মৃত্যুবরণকারী। ২. পেটের পীড়ায় মৃত্যুবরণকারী। ৩. পানিতে ডুবে মৃত্যুবরণকারী। ৪. ভূমিধসে মৃত্যুবরণকারী এবং ৫. আল্লাহর পথের শহীদ। (তিরমিজি : ১০৬৩; মুসলিম : ১৯১৫)। অন্য হাদিসে সাত শ্রেণির কথা উল্লেখ হয়েছে। হজরত জাবির ইবনে ওতাইক বলেন, আল্লাহর রাসুল (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘আল্লাহ তায়ালার পথে নিহত হওয়া ছাড়াও আরও সাত শ্রেণির শহীদ আছেন। যথা- ১. প্লেগ রোগে মৃত্যুবরণকারী শহীদ। ২. পানিতে ডুবে মৃত্যুবরণকারী শহীদ। ৩. যাতু ল জাম্বে (ফুসফুসের একটি বিশেষ ব্যাধি) মৃত্যুবরণকারী শহীদ। ৪. পেটের পীড়ায় মৃত্যুবরণকারী শহীদ। ৫. আগুনে পুড়ে মৃত্যুবরণকারী শহীদ। ৬. ধসের নিচে চাপা পড়ে মৃত্যুবরণকারী শহীদ। ৭. সন্তান প্রসব করতে গিয়ে মৃত্যুবরণকারী নারী শহীদ।’ (মুসনাদে আহমদ : ৫/৪৪৬; আবু দাউদ : ৩১১১; নাসায়ি : ৪/১৩-১৪)
৯. জুমার দিন বা রাতে মৃত্যুবরণ করা। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘কোনো মুসলিম শুক্রবার দিনের বেলা কিংবা রাতে মৃত্যুবরণ করলে আল্লাহ তায়ালা তাকে কবরের ফেতনা থেকে মুক্তি দান করেন।’ (মুসনাদে আহমদ : ২/১৬৭; তিরমিজি : ১০৮০)
১০. মৃত্যুর সময় কপাল ঘর্মাক্ত হওয়া। হোসাইব থেকে বোরায়দা বর্ণনা করেন যে, রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘ঈমানদার মৃত্যুবরণ করে কপাল ঘর্মাক্ত অবস্থায়।’ (তিরমিজি : ৯৮২; নাসায়ি : ৪/৬)
এছাড়া সুন্দর মৃত্যুর আরাও নিদর্শন রয়েছে। আমরা প্রসিদ্ধ দশটি উল্লেখ করলাম। সুতরাং এসব মৃত্যু যারা লাভ করবেন, তাদের ব্যাপারে আমরা সুধারণা অবশ্যই পোষণ করব। কিন্তু যারা এর ব্যতিক্রম মৃত্যুবরণ করবেন, তাদের ব্যাপারে কোনো প্রকার অমূলক মন্তব্য করব না। আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে সুন্দর মৃত্যু নসিব করুন। আমিন।

লেখক : শিক্ষক, জামেয়া রাহমানিয়া দারুল ইসলাম, দক্ষিণ কাজলা, যাত্রাবাড়ী, ঢাকা






সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]