ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা মঙ্গলবার ৪ আগস্ট ২০২০ ২০ শ্রাবণ ১৪২৭
ই-পেপার মঙ্গলবার ৪ আগস্ট ২০২০

সবসময় আল্লাহর ভয় ও স্মরণ
মো. আফসারুল আলম মামুন
প্রকাশ: সোমবার, ১৩ জুলাই, ২০২০, ১২:০০ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 39

আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কোরআনে ইরশাদ করেছেন, ‘আমি জিন ও মানবজাতিকে একমাত্র আমার ইবাদতের জন্যই সৃষ্টি করেছি।’ (সুরা যারিয়াত : ৫৬)। ফলে মুসলমানরা যদি আল্লাহর নবীর প্রদর্শিত তরিকায় খাওয়া-দাওয়া, ঘুম-আড্ডা, খেলাধুলা ইত্যাদি করে তা হলে সেসবও আল্লাহ তায়ালা ইবাদত হিসেবে গণ্য করবেন। শুধু খাওয়া-দাওয়াই নয়, আমাদের প্রাত্যহিক জীবনের সবকিছুই ইবাদত হিসেবে গণ্য হবে যদি তা আল্লাহর বিধান ও নবীর সুন্নত মোতাবেক পরিচালিত হয়। রাষ্ট্র পরিচালনা থেকে শুরু করে জুতা পরিধান করাÑ সব ক্ষেত্রেই রয়েছে ইসলামের দিকনির্দেশনা। সে হিসেবে খেলাধুলার ক্ষেত্রেও রয়েছে ইসলামের বিশেষ কিছু নির্দেশনা।
খেলাধুলাকে আমরা দু’ভাগে ভাগ করতে পারি। একটি হলো ইনডোর গেমস অর্থাৎ শরীরের কসরতবিহীন খেলাধুলা, আরেকটি হলো আউটডোর গেমস অর্থাৎ শরীরের চর্চা ও ব্যায়াম ইত্যাদি সন্নিবেশিত থাকে। ইনডোর গেমসের ভেতর আমাদের দেশে প্রচলিত রয়েছে দাবা, ক্যারম, পাশা, লুডু, তাস, ছয় ঘুঁটি ইত্যাদি। আর আউটডোর গেমসের ভেতর রয়েছে ক্রিকেট, ফুটবল, ভলিবল, হকি, কাবাডি, গলফ, টেনিস ইত্যাদি। প্রকৃতপক্ষে যা আল্লাহর স্মরণ থেকে বিরত রাখে তা করা কখনও একজন মুসলিমের উচিত নয়।
একজন মুসলমানের সবপ্রকার ধ্যান-ধারণা থাকবে আল্লাহর স্মরণকে প্রাধান্য দিয়ে। সাধারণত খেলাধুলা করার সে সময়টুকু স্বাভাবিকভাবেই মনটা আল্লাহর কাছ থেকে ছুটে যায়। তারপরও ইসলামে কোরআন-সুন্নাহর আলোকে খেলাধুলাকে জায়েজ ঘোষণা করা হয়েছে। তবে তার জন্য মানতে হবে বিশেষ নির্দেশনা। ইনডোর গেমস বা ঘরের ভেতর খেলা যায় এমন খেলার ক্ষেত্রে দাবা, পাশা এবং তাস খেলা সম্পূর্ণভাবে হারাম। আবু মূসা আশআরী (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি পাশা বা দাবা খেলল, সে আল্লাহ ও তার রাসুলের অবাধ্য হলো।’ (মুয়াত্তা মালিক : ৭৬৯; আবু দাউদ : ৪৯৩৮)। অন্য একটি হাদিসে আছে, নবী (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি পাশা বা দাবা খেলল সে যেন তার হাত শূকরের মাংস ও রক্তে ডুবাল।’ (মুসলিম : ২২৬০; আবু দাউদ : ৪৯৩৯; ইবনে মাজাহ : ৩৭৬৩)। তাস খেলা যেহেতু জুয়ার উদ্দেশে ব্যবহৃত হয় তাই ওলামা-কেরাম এটাকেও হারাম বলে উল্লেখ করেছেন। তবে অন্যান্য খেলার মধ্যে যেমন লুডু, ক্যারাম, ছয় ঘুঁটি, চোর-পুলিশ ইত্যাদি খেলা একঘেয়েমিতা বা সময় কাটানোর উদ্দেশে জায়েজ রয়েছে। কিন্তু তার মধ্যে কোনো ধরনের লেনদেন থাকতে পারবে না।
আউটডোর গেমের ভেতর স্বাভাবিকভাবে কোনো খেলার প্রতি কোনো নিষেধ নেই, যদি শরিয়তের খেলাফ কোনো কাজ না হয়ে থাকে। আউটডোর বা বাইরের খেলাগুলোতে যেহেতু শারীরিক পরিশ্রমের একটি বিষয় থাকে, তাই শরীর চর্চার উদ্দেশ্যে যেকোনো মুসলমান তা খেলতে পারবে।
তবে সে ক্ষেত্রেও কোনো ধরনের লেনদেন ইসলামে জায়েজ নেই। এক্ষেত্রে পোশাকের বিষয়টিও মাথায় রাখতে হবে। এমন কোনো পোশাক পরিধান করে খেলা যাবে না সেটাতে পুরুষের নাভি থেকে হাঁটু পর্যন্ত অংশ অনাবৃত থাকে। সাধারণত দেখা যায় ফুটবল খেলার সময় হ্যাফপ্যান্ট পরার কারণে হাঁটু বের হয়ে থাকে তা সম্পূর্ণ হারাম। আল্লাহ তায়ালা যেন সঠিক বুঝ দান করেন এবং কোরআন ও সুন্নাহর আলোকে জীবন গঠনে সাহায্য করেনÑ সে দোয়া ও প্রত্যাশা রইল।






সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]