ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা সোমবার ৩ আগস্ট ২০২০ ১৯ শ্রাবণ ১৪২৭
ই-পেপার সোমবার ৩ আগস্ট ২০২০

গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৩ বসন্তে পা
তানভীর আহম্মেদ
প্রকাশ: সোমবার, ১৩ জুলাই, ২০২০, ১০:৩২ এএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 140

সাভারের বংশী নদীর তীরে গড়ে উঠা গ্রাম শহরের মিশ্র এক পরিবেশ হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন গড়ার জায়গা। প্রতিবছর দূর দূরান্ত থেকে ছুটে আসা শিক্ষার্থীরা এই জায়গাটি বেছে নিয়েছেন  নিজের ভবিষ্যৎ জীবনের কাণ্ডারী হিসেবে। কেননা এই জায়াটিতেই সগর্বে দাঁড়িয়ে আছে বহু স্বপ্নচারীর নিজের ভবিষ্যৎ গড়ার স্বপ্নের ঠিকানা। 

মানুষ গড়ার অভিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে তৈরী ৩৪ একরের সবুজে ঘেরা নান্দনিক ক্যাম্পাসটি গুটি গুটি পায়ে দীর্ঘ ২৩ বসন্তে পা দিয়েছে আর এগিয়ে গেছে অনেক দূর। এটি প্রাচ্যের কিংবা উপকূলীয় অক্সফোর্ড নয় এটির নামের সাথে জুড়ে আছে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় তৈরী  একটি অলাভজনক এবং ব্যতিক্রমধর্মী প্রতিষ্ঠানের তকমা।

১৯৯৮ সালের ১৪ই জুলাই স্বনামধন্য বেসরকারি প্রতিষ্ঠান গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান হিসেবে সাভারের নলামে এর সূচনা হয়। প্রতিষ্ঠানটির শুরুটা সমাজ উন্নয়ন এবং মানবকল্যাণের ক্ষেত্রে শিক্ষা বিস্তারের মাধ্যমে সচেতনা বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে হলেও ধীরে ধীরে অনেক কিছুতেই সমৃদ্ধ লাভ করেছে। অনেক চড়াই-উতরাই ফেরিয়ে এটি এখন ব্যতিক্রমধর্মী এবং অলাভজনক প্রতিষ্ঠান হিসেবে খ্যাতি কুড়াচ্ছে।

হাঁটি হাঁটি পা পা করে তেইশটি বছর পাড়ি দিয়ে আজকের এই অবস্থানে আসা গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের পিছনে রয়েছে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের এক রোমাঞ্চকর ইতিহাস আর এই ইতিহাসের নির্মাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর কথা যার নামের সঙ্গে মিশে আছে মুক্তিযুদ্ধের অভূতপূর্ব সংগ্রামী অধ্যায়।

গণ বিশ্ববিদ্যালয় একজন স্বাস্থ্য হিরো, নারী ক্ষমতায়নের অগ্রদূত,  ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর আর্দশে গড়া প্রতিষ্ঠান বলেই হয়তো অলাভজনক ও ব্যতিক্রমী হিসেবে প্রতিষ্ঠানর মাত্র তেইশ বছরে এত দূর এগিয়ে গেছে।

কেননা তার প্রতিষ্ঠানটিতে নিম্ন আয়ের পরিবারের সন্তানের জন্য, মুক্তিযোদ্ধার সন্তানের জন্য, প্রতিবন্ধী এবং উপজাতি শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তি, বিনা বেতনে অধ্যয়ন, টিউশন ফি ছাড়সহ নানান সুযোগ রয়েছে। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে একমাত্র এই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরাই স্বল্প খরচে পড়তে পারে। এর ব্যতিক্রমী বৈশিষ্ট্যগুলোর কথা বললে প্রথমেই বলা যায় ভর্তির বিষয়ে। একমাত্র এই প্রতিষ্ঠানেই ভর্তি হওয়ার আগে প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব মেডিকেলে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাতে হয়, ধূমপায়ী, নেশাগ্রস্থদের ভর্তির কোন সুযোগ নেই। ভর্তিকৃত শিক্ষার্থীদের বই পড়ার জন্য পয়সা খরচ করে বই কিনে নিতে হয়, নিজস্ব লাইব্রেরিতে বই পড়ার জন্য সবসময় উদ্বদ্ধ করা হয়। সাঁতার, মোটরসাইকেল চালানো শিখে নিতে হয়। 

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে একমাত্র এই বিশ্ববিদ্যালয়েই ভেটেরিনারি এন্ড এনিমেল সায়েন্স নামক প্রাণী চিকিৎসা এবং খাদ্য নিরাপত্তার মতো অতিব গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রের বিষয়ের অধ্যয়ন করার সুযোগ করে দিয়েছে। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে একমাত্র এই বিশ্ববিদ্যালয়েরই রয়েছে নির্বাচিত কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ। আছে বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ার, ফিজিওথেরাপির মতো আনকমন বিষয়ে অধ্যয়নের সুযোগ।

এছাড়াও খেলাধুলায়ও এই প্রতিষ্ঠান বেশ সুনজর দিয়েছে ইনডোর আর আউটডোরের বড় বড় মাঠই স্পষ্টভাবে তা প্রমাণ করে দেয়। এজন্য তার ফলও পেয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। 

বিভিন্ন বড় বড় পর্যায়ের খেলায় লাভ করেছে অভূতপূর্ব সাফল্য, ২০১৯ বঙ্গবন্ধু স্পোর্টস চ্যাম্প ফুটবলে নারী এবং পুরুষ দুটো দলই চ্যাম্পিয়ন, সেবারের সাতটি ইভেন্টে অংশ নিয়ে চারটিতেই তারা জয়লাভ করে, ২০১৮ তে ফারাজ গোল্ডকাপ চ্যাম্পিয়ন এবং এবারের ২০২০ বঙ্গবন্ধু স্পোর্টস চ্যাম্পেও মেয়েরা দু'টি খেলায় ফাইনালে পৌঁছে গেছে। এরপর করোনার জন্য খেলা বন্ধ হয়ে যায়। জাতীয় প্রমীলা দলের ফুটবল অধিনায়ক সাবিনা খাতুন  ছাড়াও আরো দুজন নামকরা খেলোয়াড এই প্রতিষ্ঠানে পড়ছে। জাতীয় প্রমীলা হ্যান্ডবল দলের খেলোয়াড ছন্দা রাণী সরকারও এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। 

এই প্রতিষ্ঠান নারী ক্ষমতায়নের জন্যও ব্যতিক্রমী হিসেবে পরিচিত লাভ করে। নারীদের খেলাধুলায় উৎসাহিত করা থেকে শুরু করে নিজের জীবন গড়তে অনেক সেকরিপাইস করছে। তৃতীয় লিঙ্গের সদস্যদেরও কাজ করে জীবন-যাপন করার সুযোগ তৈরি করে দিয়েছেন। এই প্রতিষ্ঠানে ১০ জনের মতো হিজড়া কর্মরত আছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী শিক্ষার্থীরা খেলাধুলায় অংশ নিলে ২৫% টিউশন ফি রেয়াতের সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে। নারী শিক্ষার্থীরাও স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করছে এবং বিভিন্ন বড় বড় টুর্নামেন্ট জয় করছে প্রতিনিয়ত। 

পথচলার ২৩ বছরে অনেক অনেক অর্জন আর অনেক সুখ্যাতি বয়ে নিয়ে যাওয়া প্রতিষ্ঠানটি সামনের দিনগুলোতে সগৌরবে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকবে, অর্জনের পরিধি ক্রমশ বাড়াতে থাকবে এটাই কামনা করে এই প্রতিষ্ঠানের সর্বস্তরে জড়িয়ে থাকা মানুষগুলো। এই প্রতিষ্ঠানের একজন হিসেবে গর্ববোধ করার খ্যাতিটা সবসময় উজ্জ্বল থাকবে এটাই চায় তারা।




এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]