ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা  বুধবার ৫ আগস্ট ২০২০ ২০ শ্রাবণ ১৪২৭
ই-পেপার  বুধবার ৫ আগস্ট ২০২০

পাবনায় ঘুড়ি বানিয়ে আর্থিক অভাব ঘুচিয়েছেন সুবিধা বঞ্চিত মুক্তিযোদ্ধা মোজাফোর
পাবনা প্রতিনিধি
প্রকাশ: সোমবার, ১৩ জুলাই, ২০২০, ৫:০৫ পিএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 127

ঘুড়ি বানানো শিল্পকে কাজে লাগিয়ে সংসারের অভাব ঘুচিয়েছেন পাবনা বেড়া উপজেলার ছোট পায়না গ্রামের রিক্সা চালক সুবিধা বঞ্চিত সহযোগী মুক্তিযোদ্ধা মোঃ মোজাফোর মোল্লা। বয়সের ভারে ক্লান্ত হয়ে পরা মোজাফোর রিক্সা চালানো ছেড়ে দিয়েছেন প্রায় দুই বছর হলো। ছেলের উপর নির্ভর করে অভাবের মধ্যে দিনযাপন করছিলে তিনি। করেনা কালীন সময়ে দীর্ঘ পঞ্চাশ বছরের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে বাড়িতে বসে ঘুড়ি বানিয়ে মাসে আয় করছেন ৬০/৭০ হাজার টাকা। ফেসবুকের সুবাদে মোজাফোরের বানানো ঘুড়ির সুনাম এখন জেলার গোন্ডি ছাড়িয়ে অন্য জেলাতে।

গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহনকারীর মধ্যে অন্যতম ঘড়ি ওড়ানো খেলা। ছোট বা কিশোর বয়সে শখে লাটাই আর ঘুড়ি হাতে নেয়নি এমন মানুষ নেই বল্লেই চলে। ইট পাথরের আবাসন আর যান্ত্রিক শহরের কোলাহল থেকে মুক্ত হতে নারীর টানে প্রকৃতির মাঝে গ্রামের বাড়িতে ছুটে আসে মানুষ। অবসর সময় আর ভালো লাগা থেকে মুক্ত আকাশে ঘুড়ি উড়াতে সকলের ইচ্ছা করে। তবে সেই সময় বিগত দিন গুলিতে পাওয়া না গেলেও করেনা ভাইরাসের কারণে এখন অনেকেই নিজ বাড়িতে অলস ও কর্মহীন সময় পার করছেন। এই সময়টি নিজেদেরমত করে গ্রামের বাড়িতে পার করার জন্য ছোট বড় সকলের হাতে এখন ঘুড়ি আর নাটাই। বিকেল হলেই মুক্ত আকাশে উড়িয়ে দিচ্ছে বিশাল বিশাল বিভিন্ন আকারের ঘুড়ি। বিশাল আকাশে বাতাসের সাথে সুন্দর এক দৃশ্যে তৈরি হয় নীল আকাশের দীগন্তে। 

আকাশ জুড়ে সাধারন ঘুড়ির ভাবনাকে পাল্টে দিয়েছে পাবনার ঘুড়ি শিল্পি মুক্তিযোদ্ধা মোজাফোর। তার ঘুড়ির সুনাম এখন জেলার গোন্ডি ছাড়িয়ে অন্যজেলায় ছড়িয়ে গেছে। চলতি বছরের রোজার আগে বাড়িতে বসে একটি সাপা ঘুড়ি বানান তিনি। সেই ঘুড়ি স্থানীয় কয়েক যুবক ফেসবুকে ছেড়ে দেয়। তার পর থেকে অডার আসতে থাকে তার কাছে ঘুড়ি বানোর। প্রথম ঘুড়ি সারে চার হাজার টাকায় বিক্রি করেছেন তিনি। সময় লেগেছিলো তিনদিন। এখন পর্যন্ত প্রায় অর্ধশত ঘুড়ি তৈরি করে বিক্রি করেছেন তিনি। এক একটি ঘুড়ির লেজ নিচে নব্বাই হাত আর সব চাইতে বড় দুইশত পঞ্চাশ হাত। ডাউশ, সাপা, ডোল, ফ্যাসকা, মাছ, প্রজাপ্রতি, চিল, উড়জাহাজ, কৌড় ও মানুষ অনুকরণের প্রায় দশ ধরনের ঘুড়ি বানিয়েছেন তিনি। রিক্সা চালক সহযোগি মুক্তিযোদ্ধা মোজাফোর শুধু ঘুড়ি বানোর শিল্পই নয় হাতের কাজে বেশ পারদর্শি।

ঘুড়ির  ক্রেতা ও স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানাযায়, মোজাফোরের ঘুড়ি বেশ ভালো উড়ে। ফেসবুকের মাধ্যমে এই ঘুড়ি বানোর ছবি দেখে নাটোর, সিরাজগঞ্চ, উল্লাপাড়া, বাঘাবাড়িসহ বিভিন্ন অঞ্চল  থেকে তার কাছে মানুষ আসছে ঘুড়ি ক্রয়ের জন্য। আর এই কারনে এলাকার সুনাম ছড়িয়ে পরছে সবখানে। পিতার সাথে সহযোগিতা করছেন তার ছেলে রাজীব মোল্লা। এক বেলা রিক্সা চালায় আর বাকী সময়টা বাবার ঘুড়ি বানোর কাজে সময় দিচ্ছেন তিনি।

শখের বসে ঘুড়ি বানানো সহযোগি মুক্তিযুদ্ধা মোজাফোর মোল্লা বলেন, মুক্তিযুদ্ধ করেও এখনো স্বীকৃতি পাইনি। সরকারের কোন ধরনরে সাহায্য সহযোগিতা এখনো আমার কাছে আসেনি। তবে এই ঘুড়ি বানোর অভিজ্ঞতা আমাকে অনেক সম্মান দিয়েছে। রিক্সা চালানো বাদ দিয়ে বেকার হয়েছে ছিলাম। রোজার আগে আকাশে ঘুড়ি উড়া দেখে বাড়ি এসে একটি ঘুড়ি তৈরি করি। এখন প্রতিমাসে ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকা আয় করছি আমি। তবে কষ্টো আছে অনেক সরকার  প্রধানের কাছে আবেদন জীবনের শেষ বয়সে মুক্তিযুদ্ধের সম্মান টুকু চাই আমি।

পাবনা জেলা প্রশাসক কবির মাহামুদ জানান, গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী ঘুড়ি বানানো শিল্পি হাতে গোনা যাবে। আমি নিজেও ফেসবুকে তার ঘুড়ির ছবি দেখেছি বেশ ভালো লেগেছে। তিনি যদি মুক্তিযোদ্ধা হন তবে অবশ্যই তার বিষয়টি দেখা হবে কেনো তিনি সহযোগিতা পাননি। সংশ্লিষ্ঠ উপজেলার কর্মকর্তাকে তার বিষয়ে খোঁজ নিতে বলা হয়েছে। তার শিল্পিমনা কাজের জন্য আমরা তাকে সম্মান করি। তার অভাব অনুযোগ সমস্যার বিষয়ে আমার কাছে লিখিত দিলে ভালো হয়। গুনি লোকের সম্মান করতে কুণ্ঠাবোধ করবে না পাবনা জেলা প্রশাসন।




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]