ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা শনিবার ১৫ আগস্ট ২০২০ ৩০ শ্রাবণ ১৪২৭
ই-পেপার শনিবার ১৫ আগস্ট ২০২০

ভাঙছে বাঁধ, বাড়ছে দুর্ভোগ
সময়ের আলো ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই, ২০২০, ১২:০০ এএম আপডেট: ১৬.০৭.২০২০ ২:১২ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 19

ভাষারপাড়া এলাকায় গর্তের সৃষ্টি হওয়ায় ৩০টি গ্রামের লক্ষাধিক মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। তাদের মধ্যে বিশুদ্ধ পানি, পয়ঃনিষ্কাশন ও খাবারের সঙ্কট দেখা দিয়েছে। গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, বুধবার বিকাল ৪টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় ব্রহ্মপুত্র নদের পানি তিস্তামুখঘাট পয়েন্টে ১৩ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ১১৬ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে পানি বৃদ্ধি গতি কিছুটা কমেছে বলে পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে।
কুড়িগ্রাম : ধরলা নদীর পানি কিছুটা কমলেও দ্রæত বৃদ্ধি পাচ্ছে ব্রহ্মপুত্র নদের পানি। দ্বিতীয় দফা বন্যায় আগের তুলনায় অধিক পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। জেলায় বন্যার পানিতে ডুবে দুই শিশুসহ তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। মহাসড়কসহ উপজেলাকেন্দ্রিক ৫টি জায়গায় সড়কের ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে বলে সড়ক ও জনপদ অধিদফতর জানিয়েছে। দ্বিতীয় দফা বন্যায় জেলার ৬২ ইউনিয়নের ৫৩৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়ে সাড়ে ৩ লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। নতুন করে তলিয়ে গেছে সদর উপজেলার ভোগডাঙ্গা, ঘোগাদহ ও পাঁচগাছী ইউনিয়নের ২৫টি গ্রাম। অব্যাহত পানি বৃদ্ধির কারণে জেলা-উপজেলা শহরের সঙ্গে চরাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন হাজার হাজার মানুষ। বানভাসি মানুষের মাঝে খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি, শুকনো খাবার ও জ্বালানি সঙ্কট দেখা দিয়েছে। উঁচু রাস্তা, বাঁধ ও আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছে হাজার হাজার মানুষ। তবে নৌকার অভাবে অনেকেই নিরাপদ স্থানে যেতে পারছে না। কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুল ইসলাম জানান, কুড়িগ্রামের সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি হয়েছে। কুড়িগ্রাম সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আলী নুরায়েন জানান, জেলার ৫টি গুরুত্বপূর্ণ সড়কের ওপর দিয়ে বন্যার পানি প্রবাহিত হচ্ছে। এর মধ্যে কুড়িগ্রাম-নাগেশ^রী সড়ক, রৌমারী-তুরা সড়ক, সোনাহাট-মাদারগঞ্জ সড়ক, ভুরুঙ্গামারী-সোনাহাট সড়ক ও ভিতরবন্দ-মন্নেয়ারপাড় সড়কের কিছু অংশ পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে।
জামালপুর : ভারী বৃষ্টি আর উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে জামালপুরে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। বন্যার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় জেলার ৭টি উপজেলার ৪৯টি ইউনিয়নের চার লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। জেলার সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা সুলতানা রাজিয়া বলেন, এই উপজেলায় দেড় লাখ মানুষ বন্যার পানিতে আক্রান্ত হয়েছে। তিনি বলেন, পাঁচটি বন্যা আশ্রয়কেন্দ্রে উপজেলার পাঁচ শাতাধিক পরিবার আশ্রয় নিয়েছে। ইসলামপুর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, এ উপজেলায় এক লাখ ২০ হাজার মানুষ বন্যায় পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ ছয় হাজার ১৬০ জন মানুষ ৪৬টি আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছেন। তিনি বলেন, বন্যাদুর্গতদের মাঝে ১৯ টন চাল ও দুই হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে। কৃষি সম্প্রসারণের উপপরিচালক মো. আমিনুল ইসলাম জানান, বন্যার পানিতে ৭৩৯ হেক্টর জমির আমন বীজতলা, ১৬ হাজার ৬৬ হেক্টর জমির আউস ধান এবং ২১ হাজার ২৭ হেক্টর জমির পাট তলিয়ে গেছে। এদিকে বকশীগঞ্জ উপজেলার সাধুরপাড়া, মেরুরচর, বগারচর, নিলক্ষিয়া ও বকশীগঞ্জ সদর ইউনিয়নের ৪০টি গ্রামের প্রায় ৫০ হাজার মানুষ বন্যার কবলে পড়ে পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। গত চার দিন ধরে বকশীগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে দ্রæত গতিতে বন্যার পানি বেড়ে চলেছে। ইতোমধ্যে ১৫টি গ্রামের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। রাস্তাঘাট, ফসল, বীজতলা তলিয়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন মানুষ। বিশেষ করে গোখাদ্যের সঙ্কট ও বিশুদ্ধ পানির সঙ্কট দেখা দিয়েছে। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) হাসান মাহবুব খান জানান, বন্যার পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে বিভিন্ন বিদ্যালয়ে আশ্রয়ণ কেন্দ্র হিসেবে প্রস্তুত করা হচ্ছে।
রাজশাহী : নওগাঁর মান্দা উপজেলার শিবনদীর টেংরা নামক স্থানের বাঁধ কেটে দেওয়ায় রাজশাহীর বাগমারায় ৭টি ইউনিয়ন বন্যায় প্লাবিত হয়েছে। বন্যাকবলিত ইউনিয়নগুলো হলোÑ গোবিন্দপাড়া, নরদাশ, আউশপাড়া, শুভডাঙ্গা, সোনাডাঙ্গা, গনিপুর ও কাচারী কোয়ালীপাড়া। এসব জায়গায় পানি বন্দি হয়েছে হাজার হাজার মানুষ। নষ্ট হয়েছে কয়েক লাখ একর আবাদি জমির ফসল। বন্যায় ভেসে গেছে শত শত পুকুরের মাছ। এছাড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের কোনো কোনো বাঁধ বন্যার পানির কারণে হুমকির মুখে পড়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শরিফ আহম্মেদ মুঠোফোনে জানিয়েছেন, বন্যাসহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলার সকল প্রস্তুতি সম্পূর্ণ করা হয়েছে।
সিরাজগঞ্জ : বন্যায় প্লাবিত হয়েছে নদী তীরবর্তী সদর, কাজিপুর, বেলকুচি, শাহজাদপুর ও চৌহালীর বিভিন্ন এলাকা। পানিতে তলিয়ে গেছে ঘরবাড়ি এবং জমির উৎপাদিত ফসল। খাদ্য, আবাসন সঙ্কটসহ নানা সমস্যায় জর্জরিত এ জনপদের মানুষের অনেকেই এখন মানবেতর জীবনযাপন করছে। জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আবদুর রহিম বলেন, বন্যায় জেলার পাঁচটি উপজেলার ৩৩টি ইউনিয়নের বাঁধ, রাস্তা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ঘরবাড়ি, ফসলি জমি, সেতু, কালভার্টসহ প্রায় ৩৫ হাজার পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ১৭৯টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হলেও এখন পর্যন্ত সেখানে কেউ অবস্থান করেনি। সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী একেএম রফিকুল ইসলাম জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় সিরাজগঞ্জ পয়েন্টে পানি বৃদ্ধি পেয়েছে ৩৩ সেন্টিমিটার। এদিকে আগামী ৭২ ঘণ্টা পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। সিরাজগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক মো. হাবিবুল ইসলাম জানান, দ্বিতীয় দফায় যমুনার পানি বিপদসীমা অতিক্রম করায় নদীবেষ্টিত সিরাজগঞ্জ সদর, কাজীপুর, বেলকুচি, শাহজাদপুর ও চৌহালী উপজেলায় ২৫২০ হেক্টর জমির পাট ও তিল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পানি না কমলে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়বে।
মুন্সীগঞ্জ : বন্যার পানির স্রোতে টঙ্গীবাড়ী উপজেলার কামারখাড়াÑ হাসাইল ও কামারখাড়া- আদাবাড়ি সড়কের বাইনখাড়া এলাকার দুটি ব্রিজের এপ্রোচ সংযোগ সড়কের মাটি ধসে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। এর ফলে ওই দুই রাস্তায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে উপজেলার বাইনখাড়া, নশংকর, কামারখাড়া, ভঙ্গনিয়া, হাসাইল, আদাবড়ি, ভিটিমালধাসহ ১৫টি গ্রামের মানুষের সঙ্গে টঙ্গীবাড়ী উপজেলা হয়ে ঢাকার সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। নারী, শিশু ও বৃদ্ধসহ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন ওই এলাকার মানুষ।





সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]