ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা শনিবার ১৫ আগস্ট ২০২০ ৩০ শ্রাবণ ১৪২৭
ই-পেপার শনিবার ১৫ আগস্ট ২০২০

করোনাকালে মাস্ক পরার বাধ্যবাধকতা ওরা জেনেও যেন জানে না
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই, ২০২০, ১২:০০ এএম আপডেট: ১৬.০৭.২০২০ ২:২৮ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 74

সারা বিশ^ করোনাভাইরাসে টালমাটাল। বাংলাদেশও এর বাইরে নয়। কিন্তু বিশে^র অন্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশে কিছুটা কম বলে বিশেষঞ্জদের কাছে প্রতীয়মান হয়। এই করোনাভাইরাসের সংক্রমণের থেকে রক্ষা করতে বিশ^স্বাস্থ্য সংস্থার গাইডলাইন অনুযায়ী বাংলাদেশ স্বাস্থ্যবিধি তৈরি করেছে। মোটা দাগে বলা হয়েছে, ঘরের বাইরে বের হলে মাস্ক পরতে হবে। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। আর ঘন ঘন বিশ সেকেন্ড ধরে হাত ধোয়া। কিন্তু অনেকে এই জেনেও পালন করছেন না।
প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. এবিএম আবদুল্লাহ জানান, এই সব স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললে সংক্রামক থেকে অনেকটা দূরে থাকা সম্ভব হবে। একদিকে যেমন নিজেকে সুরক্ষা করা সম্ভব। অন্যদিকে পরিবারের অন্য সদস্যদেরও সুরক্ষা হবে। এভাবে সারা দেশ সুরক্ষা পাবে। এভাবে হয়তো একদিন দেশ থেকে সংক্রামক কমানো সম্ভব হবে। তিনি জানান, ঘরের বাইরে গেলে অবশ্যই মাস্ক পরতে হবে। কারণ, এই ভাইরাস সংক্রমণ ব্যক্তির মুখের ড্রপ আউট থেকে ছড়িয়ে পড়ে। মাস্ক থাকলে অনেকটা সুরক্ষা হবে। অনেকে মাস্ক ছাড়াই ঘুরে বেড়াচ্ছে। কিন্তু তারা জানে না, তারা এই সংক্রমণ কিভাবে ছড়াচ্ছে। বিশ^স্বাস্থ্য সংস্থা মাস্কের ওপর সবচেয়ে বেশি এখন গুরুত্ব দিচ্ছে। এক সময় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মাস্ক পরতেন না। সম্প্রতি তিনি সহ তার পরিবারের সবাই এখন মাস্ক পরছেন। তিনি নিজেই হয়তো এর গুরুত্ব অনুধাবন করতে পেরেছেন।
বাংলাদেশে এখন বেশিরভাগ মানুষ মাস্ক পরতে অভ্যস্ত হয়েছেন। এক জরিপে দেখা গেছে, শহরে ৯৭ ভাগ মানুষ এখন মাস্ক পরছেন। আর গ্রামে ৮৫ ভাগ মানুষ মাস্ক পড়ছেন। ঢাকা শহরের অনেক রিকশাচালক আগে মাস্কের প্রতি অনীহা ছিল। এই অনীহার অন্যতম কারণ হিসেবে অনেক রিকশাচালক বলেছেন,  বেশিক্ষণ মাস্ক রাখলে দম বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়। আর ঘামে ভিজে যায়। পরে তা পড়তে ইচ্ছে করে না। তবে এখন এই অনীহা অনেকটা কমে গেছে। সচেতন হয়েছে বেশির ভাগ রিকশাচালক। কিন্তু এক শ্রেণীর মানুষ এখনও সচেতন হচ্ছেন না। আর সচেতন না হওয়ার ফলে তারা নিজের অজান্তে এই রোগ ছড়াচ্ছেন।
কারা এ ব্যাপারে উদাসীন? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে বেশিদূর যেতে হবে না। মালিবাগ, রাজারবাগের আশপাশে কিছু দৃশ্য দেখলেই তা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। অথচ এরই উল্টো চিত্র রয়েছে ঢাকা শহরের অনেক স্থানে। মাস্ক ছাড়া কোনো দোকানে ক্রেতা গেলে তাদের কাছে কোনো পণ্যই বিক্রি করে না। শুধু ঢাকা শহরে নয়, খুলনা, রাজশাহী ও চট্টগ্রামের সিটি করপোরেশন এলাকায় ক্রেতা বিক্রেতার মধ্যে এমন সর্ম্পক গড়ে উঠেছে যে, মাস্ক ছাড়া কোনো দোকানে যাওয়ার কোনো উপায় নেই। পাশাপাশি বিক্রেতা মাস্ক ছাড়া ক্রেতার কাছে কোনো পণ্য বিক্রি করে না। অর্থাৎ মাস্ক পরা একটি নিত্য দিনের একটি অপরিহার্য হয়ে উঠেছে।
মালিবাগ, রাজারবাগ পুলিশ লাইনের কাছাকাছি বসবাসকারী মাস্ক ছাড়া এই মানুষগুলোর মধ্যে কোনো ধরনের করোনাভাইরাসের ভয়, আতঙ্ক কিংবা কোনো ধরনের অনুভ‚তি কাজ করে না। এ দিব্যি ঘুরে বেড়াচ্ছে। কখনও একা, আবার কখনও দলবদ্ধভাবে। এদের মধ্যে অনেকে ছোট ছোট ব্যবসায় নেমেছেন। কখনও ছোট ছোট পিকআপ করে জমজমের পানি, জয়তুন ফলসহ আরও অনেক ধরনের আইটেম বিক্রি করছে। কিন্তু কারও মুখে মাস্ক নেই। এদের কয়েকজনকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, মাস্ক নেই কেন? এরা পাল্টা প্রশ্ন করেছে, মাস্ক আবার কি? আমাদের মাস্ক লাগে না। এর মূলত সন্ধ্যার পর ব্যবসার পসরা নিয়ে বসে।
মালিবাগ, শান্তিনগর, শহীদবাগের মুখের সামনে রাজারবাগ পুলিশ লাইন। এখানে কত পুলিশ সদস্য করোনাকালে ফ্রন্টলাইনার হিসেবে জাতিকে সেবা দিচ্ছেন। সেবা দিতে গিয়ে এই করোনাকালে অনেক পুলিশ সদস্য করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। আবার অনেকে আক্রান্ত হয়ে সুস্থ হচ্ছেন। দৃঢ় মনোবল নিয়ে জাতির সেবায় নিজেদের উৎসর্গ করছেন। রাজারবাগ পুলিশ লাইনের এত কাছে কারা এভাবে মাস্ক ছাড়া ঘোরাফেরা করছেন, কারা ব্যবসা করছেন তা নজরদারিতে আনা প্রয়োজন বলে মনে করছেন এলাকাবাসী। কারণ, এদের দ্বারা আশপাশের অনেকেই সংক্রমণ হতে পারে বলে এলাকার অভিজ্ঞমহল শঙ্কা প্রকাশ করেছে। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা দরকার বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ ব্যাপারে স্বাস্থ্যবিভাগের দায়িত্বশীল একটি সূত্র জানান, মাস্ক না পড়ার জন্য সংক্রামক আইনে শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। আর শাস্তি হচ্ছে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা ও ৬ মাসের জেল। এই শাস্তির বিধান প্রয়োগ করলে মাস্ক না পড়ার প্রবণতা অনেকাংশে কমে আসবে। কিন্তু এই শাস্তির প্রয়োগ করার মতো জনবলের সংকট রয়েছে। অর্থাৎ এই সব দেখভাল করার জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণ ম্যজিস্ট্রেট নেই। নেই ভ্রাম্যমাণ আদালত। তবে এই মহামারি করোনাকালে এই শাস্তির বিধান প্রয়োগ করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।





সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]