ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা  বুধবার ৫ আগস্ট ২০২০ ২০ শ্রাবণ ১৪২৭
ই-পেপার  বুধবার ৫ আগস্ট ২০২০

যারা গান সৃষ্টি করবে, তাদের জায়গাটা সীমিত হয়ে গেছে
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই, ২০২০, ১২:০০ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 11

কণ্ঠশিল্পী ডলি সায়ন্তনী। করোনাকালে নতুন করে গানে ব্যস্ত হয়েছেন। তিন কন্যাকে নিয়ে প্রথমবারের মতো গান করেছেন। গানের ব্যস্ততা ও অন্যান্য প্রসঙ্গ নিয়ে কথা বলেছেন তিনি। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মোহাম্মদ তারেক
তিন কন্যাকে নিয়ে গান করলেন। বিস্তারিত জানতে চাচ্ছি?
আমার বড় মেয়ে গান করেন। তার নিজস্ব ইউটিউব চ্যানেল আছে। সেখানে গান দিতেন। কিন্তু আমার দুই মেয়েকে গান করতে কখনও দেখিনি। মেঝ মেয়ে টুকটাক কিন্তু ছোটজন একদমই না। লকডাউনে তাদের আমি বের হতে দেইনি। তারা বাসায় থাকতে থাকতে আমাকে বলে, ‘আম্মু কি করব? বোরড হয়ে গেছি।’ এদিকে ‘পারিনি ভুলতে’ শীর্ষক গানটির কম্পোজিশন প্রস্তুত। আমি শুধু ভয়েজ দেব। আগে গান করে এসে মাকে শোনাতাম। কোনো গান ভালো লাগলে মা মাথায় হাত দিয়ে কাঁদতেন। বলতেন, ‘মা, আমার জিনিস তোরা ধরে রেখেছিস। মন থেকে দোয়া করি।’ ব্যাপারটি খুবই মিস করি। এখন তো শোনার কেউ নেই। আমার এ ভালো লাগা, খারাপ লাগা আমি হাজব্যান্ডের সঙ্গে শেয়ার করি। তাকে শোনালে সে পরামর্শ দিল শুরুটা ইংরেজিতে করে মেয়েদের দিয়ে গাওয়াতে। আমি বললে তারা রাজি হলো না, বাবা তাদের রাজি করাল। এই প্রথম আমার দুই মেয়ে মাইক্রোফোনের সামনে দাঁড়াল। তারা গান গাওয়ার পর আমি যখন গান শুনলাম, আমার মা যেমন আবেগে কাঁদত আমার ভেতরেও সে অনুভ‚তি কাজ করেছে। উপস্থিত যারাই শুনেছে তারাই প্রশংসা করেছে।
তাদের নিয়ে কোনো পরিকল্পনা করছেন?
পরিকল্পনা বলতে বড় মেয়ের ইউটিউব চ্যানেল অনেক বছর বন্ধ ছিল, আমি নিয়মিত হতে বলেছি। ছোটদের ইউটিউব চ্যানেল খুলে সেখানে গাইতে বলেছি।
সদ্যপ্রয়াত কণ্ঠশিল্পী এন্ড্রু কিশোরের সঙ্গে আপনি অসংখ্য গান করেছেন। গল্পটা শুনতে চাই?
সিনেমায় এন্ড্রু দাদা ও মিলু ভাইয়ের সঙ্গে অধিকাংশ গান আমি করেছি। দাদা এমন একজন মানুষ ছিলেন যে উনার সঙ্গে সব ধরনের আলাপ করা যেত। একজন অভিভাবকের মতো। আমি তখন একদমই নতুন। ১৯৮৯ সালে তার সঙ্গে প্রথম কাজ করি। উনি আমাকে সে সময় অনেক কিছু শিখিয়েছেন। এখন ওসব মনে পড়ে। আমি কখনই ভাবিনি উনি এভাবে চলে যাবেন। অসুস্থ হওয়ার পর কথা না হলেও খবর রাখতাম। চেয়েছিলাম গান গাইতে না পারলেও দাদা বেঁচে থাকুক আমাদের মাঝে। উনার শূন্যতা পূরণ করার মতো কেউ নেই। কিশোরদা তো কিশোরদাই। আমি উনাকে ট্রিবিউট করে গানও করলাম আমার ইউটিউব চ্যানেলে। সর্বশেষ দাদার সঙ্গে শওকত আলী ইমনের ‘তোমার ও তোমারে’ গানটি করার সময় দেখা হয়েছিল। ওই দেখাই শেষ দেখা।
বর্তমানে প্লেব্যাকের পরিবেশ কেমন দেখছেন?
আগের মতো গান হচ্ছে না। এমনও দিন গেছে এক দিনে চারটা গান করেছি। বাসায় থাকতে পারতাম না। এখন অবশ্য ছায়াছবিও তো কম। জানি না আর সেই সময় ফিরে আসবে কি না। চিন্তামুক্ত থাকলে মানুষ ছবি দেখতে যাবে, গান শুনবে। মানুষের মধ্যে তো আনন্দই তো নেই এখন।
করোনাকালে সঙ্গীতে কেমন প্রভাব পড়েছে বলে মনে করেন?
করোনাকালে সবাই ক্ষতিগ্রস্ত। তবে একটা বিষয়কে আমি ভালোভাবে নিচ্ছি। এ সময়ে আমরা বাসা থেকে বের না হয়ে ঘরে বসে কাজ করছি। আগে আমরা ঘুম থেকে উঠে কাজে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত হতাম। এখন ঘুম থেকে উঠেই আমরা মোবাইল দেখছি। সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে কাজগুলো সহজেই মানুষের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে। আমরা ঘরে থাকলেও ইউটিউব, ফেসবুকে সরব হয়েছি। এটাকে ইতিবাচকভাবেই দেখছি আমি।
এখন ঘরে বসে কাজ হচ্ছে। পরবর্তীতে সঙ্গীতে এর কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে?
না না, তা হবে কেন? আমাদের দর্শক শ্রোতারা যখন যা আসে তাই গ্রহণ করে। একটা সময় মানুষ শুধু হিন্দি গান শুনত। এখন তো আবার বাংলা গান শুনছে। আবার ফোক গানের প্রচলন শুরু হলে‌া। যে কখনও ফোক গান করেনি সেও সে গান করল। পৃথিবী স্বাভাবিক হলে মানুষ আবার আগের অভ্যাসে ফিরে যাবে।
স্টেজ শো কবে ফিরতে পারে বলে মনে হয়?
আমার মনে হয় না এক-দুই বছরের আগে স্টেজ শো ফিরবে। কারণ কারা দেখবে? পৃথিবী আগের মতো না হলে তো মানুষ গান শুনতে যাবে না।
গাম্প্রতিক সময়ে গান শোনার পাশাপাশি ভিডিওতে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে আপনার কী অভিমত?
বাড়ি করতে গিয়ে পাইলিং ঠিক না থাকলে বাড়ি টিকবে না। তেমনি গান ভালো না হলে ভিডিও ভালো করেও লাভ নেই। মানুষ এখন বলে অডিওর চেয়ে ভিডিও গুরুত্বপূর্ণ। আমার কাছে তা মনে হয় না। আমার কাছে গানটাই গুরুত্বপূর্ণ। গান ভালো হলে ভিডিও যাই হোক দর্শক শ্রোতার কাছে পৌঁছাবে।
আগেকার গান যতটা শ্রোতাপ্রিয় হতো এখন তেমনটি হচ্ছে না। এ প্রসঙ্গে আপনার মন্তব্য কী?
এখন টিকে থাকার মতো গান হচ্ছে না। হলেও খুবই কম। এখনও আমরা আমাদের গুরুজনদের গান নতুন করে কম্পোজিশন করে করছি। এখনকার গান কী কুড়ি বছর পর কেউ শুনবে? মনে তো হয় না। আগে আনোয়ার পারভেজ, সত্য সাহা, প্রণব ঘোষের মতো গুণিজনরা কাজ করতেন। আমার কাছেও শ্রোতারা তাদের সময়কার গান শুনতে চায়। যারা গান সৃষ্টি করবে, তাদের জায়গাটা সীমিত হয়ে গেছে। সে জন্যই হয়তো শ্রোতাদের কাছে গানগুলো টিকে থাকছে না।
বর্তমানে আর কী কাজ করছেন?
আমার চ্যানেলের জন্য কিছু ফিউশন করছি। ৯টি গান প্রস্তুত আছে। আস্তে আস্তে ছাড়ব। লকডাউনের আগেই কাজ শেষ করে রেখেছি। ঈদে মেয়েদের সঙ্গে করা গানটি ছাড়ব। এর মধ্যে শওকত আলী ইমনের সঙ্গে অনেক বছর পর একটি প্লেব্যাক করলাম।
করোনায় কী উপলব্ধি এলো?
আগে গানে ধারাবাহিকতা ছিল না। এখন সে ধারাবাহিকতা ফিরে এসেছে। মাঝে গান ছেড়েই দিয়েছিলাম। কিন্তু মাঝে করোনা নিয়ে একটা গান ছেড়েছি আমার ইউটিউব চ্যানেলে। তারপর সোশ্যাল মিডিয়ায় এত বার্তা পেয়েছি শ্রোতাদের, অবিশ^াস্য। সবাই আমার গান আগের মতো শুনতে চায়। এতে করে আমার মাঝে আবার নিয়মিত গান করার উৎসাহ এসেছে। দর্শক শ্রোতাদের জন্যই তে‌া আমি ডলি সায়ন্তনী। এমনও হয়েছে করোনার গানটি যখন করি তখন ভয়াবহ পরিস্থিতি। কেউ বাসা থেকে বের হতে সাহস পেত না। সে অবস্থায় সুমন কল্যাণের স্টুডিওতে গিয়ে গান করেছি।
ভবিষ্যতে গান নিয়ে পরিকল্পনা করছেন?
আমি শিল্পী। যতদিন পারব গেয়ে যাব। যেদিন গাইতে পারব না নিজেই সরে যাব।
দর্শক-শ্রোতার প্রতি আহŸান...
আপনারা ভালো গান শুনবেন। আপনারা যত গান শুনবেন ততই আমরা গাইব। ভালো কাজ করার উৎসাহ বাড়বে।






সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]