ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা  বুধবার ৫ আগস্ট ২০২০ ২০ শ্রাবণ ১৪২৭
ই-পেপার  বুধবার ৫ আগস্ট ২০২০

নয়ন তোমারে পায় না দেখিতে, রয়েছ নয়নে নয়নে
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই, ২০২০, ১২:০০ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 10

একদিন পরেই কথাসাহিত্যিক ও নির্মাতা হুমায়ূন আহমেদের মৃত্যুবার্ষিকী। দুরারোগ্য ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে ২০১২ সালের ১৯ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের একটি হাসপাতালে কিংবদন্তি এই কথাসাহিত্যিক মৃত্যুবরণ করেন।
‘সব মৃত্যুই কষ্টের, সুখের মৃত্যু তো কিছু নেই’ কথাটি বলেছিলেন হুমায়ূন আহমেদ। তাকে নিয়ে স্মৃতিচারণ করেছেন শোবিজের তারকারা।

নাটকে উনি আলাদা একটা জগৎ সৃষ্টি করেছিলেন : আবুল হায়াত
হুমায়ূন আহমেদ আর আমি খুব ঘনিষ্ঠ ছিলাম। তার সঙ্গে অনেক কাজ করা হয়েছে। ওনার সঙ্গে যে কয়টা সবই আমার উল্লেখযোগ্য কাজ। পরিবারের সদস্যের মতো সম্পর্ক ছিল। বহু স্মৃতি আছে। বলে শেষ করা যাবে না। খুবই ভালো নির্মাতা ছিলেন। তার মতো নির্মাণ আর কেউ করতে পারবেন না। নাটকের ব্যাপারে উনি আলাদা একটা জগৎ সৃষ্টি করেছিলেন। এছাড়া লেখনীর কথা আর কী বলব। খুবই দারুণ লেখক ছিলেন। উনি যেভাবে নাটকের পাÐুলিপি লেখতেন এখনও অনেকে সেটা অনুসরণ করেন।

মানুষকে নিঃস্বার্থভাবে ভালোবাসতেন : ডা. এজাজুল ইসলাম
হুমায়ূন আহমেদ স্যারকে নিয়ে বিশ্লেষণ করার যোগ্যতা আমার নেই বলে মনে করি। তার লেখা, নাটক বা সিনেমা নিয়ে সমালোচনা করার যোগ্যতা নেই। তবে অতিসাধারণ দর্শক হিসেবে বলতে পারি। আমার চোখে তিনি শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র নির্মাতা, নাট্য নির্মাতা, নাট্য রচয়িতা। ১২ বছরের সম্পর্কের জায়গা স্যারের সম্পর্কে বলতে পারি। আমার জীবদ্দশায় এত ভালো মানুষ দেখিনি। তাকে কখনও কোনো মিথ্যা কথা বলতে দেখিনি। তাকে কখনও মানুষের ক্ষতি করতে দেখিনি। আর দেখবও না বোধহয়। প্রত্যেকটি কাজ আন্তরিকতার সহিত করতেন। মানুষকে নিঃস্বার্থভাবে ভালোবাসতেন।

করোনাকালে স্যার অনেক মানবিক গল্প খুঁজে পেতেন : ফেরদৌস আহমেদ
অবিশ^াস্য যে দেখতে দেখতে এতগুলো বছর কেটে গেল। করোনাকালে স্যারের ‘বহুব্রীহি’, ‘এইসব দিনরাত্রি’, ‘কোথাও কেউ নেই’ দেখে মনে হচ্ছিল সেদিনের নাটক। এত বছর আগের নাটক অথচ কত আধুনিক নির্মাণ। এত সুন্দর সুন্দর সংলাপ, দৃশ্য দেখে মনে হয়েছে সমসাময়িক নাটক। তার মতো গুণী মানুষের চলে যাওয়া আমাদের এ অঙ্গনের জন্য অনেক ক্ষতির। স্যার যদি এই সময়টাতে থাকতেন তা হলে তিনি অনেক মানবিক গল্প খুঁজে পেতেন। আজ যদি হুমায়ূন স্যার থাকতেন তা হলে আগামী বইমেলায় অনেক কিছু পেতাম। বাকি জীবন ধরে স্যার লিখতেন। তাকে সবসময় মিস করি। যখনই কথা হতো বলতেন, ‘আজ সন্ধ্যায় ফ্রি আছো? বাসায় চলে আসো, গল্প করব।’ তার বাসায় গেলে মনেই হতো না তিনি এত বড় একজন মানুষ। মনে হতো বন্ধু। তাকে আমি শিক্ষকের মতো সম্মান করতাম। কারণ তিনি ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষক ছিলেন। আমি পিতার মতও তাকে সম্মান করতাম। বন্ধুর মতো ভালোবাসতাম। নানারকম সম্পর্কের একজন মানুষকে হারিয়েছি। মনে হয় না এ জীবনে তার মতো আরেকজন মানুষ পাব। স্যারের অগুনতি ভক্ত-দর্শক এখনও আছেন। বাংলা সাহিত্যকে সাবলীলভাবে মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার যে প্রয়াস স্যার করেছেন তা মনে হয় না অন্য কেউ করেছেন। হয়তো অনেক ভালো ভালো সৃষ্টি আছে, কিন্তু এত সাবলীল সৃষ্টি বোধহয় আর হবে না। কিছুদিন আগেও শাওন গেল নূহাশপল্লীতে। জানাল আরও সবুজ হয়েছে নূহাশপল্লী। আমার পরিকল্পনা আছে স্যারের প্রয়াণের দিন সেখানে যাব। কিছু সময় কাটাব। নূহাশপল্লীর প্রতি আমার অদ্ভুত মায়া কাজ করে। অনেক সিনেমার শুটিং করেছি ওখানে। অনেক স্মৃতি। আমি চাইব নূহাশপল্লীর সংস্কার করা হোক। সংরক্ষণ করা হোক। স্যারের ভক্ত যারা আছেন সবাইকে বলব সময়-সুযোগ পেলেই নূহাশপল্লীতে যান। নিরিবিলিতে সময় কাটান। কারণ নূহাশপল্লীকে ঘিরেই রয়েছে স্যারের স্মৃতি যা আজীবন থাকবে।

দিনটির কথা আমি কখনও ভুলব না : আজমেরি হক বাঁধন
আমি লাক্স চ্যানেল আই সুপারস্টার প্রতিযোগিতায় নাম দিয়েছিলাম স্যারের সঙ্গে দেখা হবে বলে। কারণ তৌকীর আহমেদ তার উপন্যাস অবলম্বনে ‘দারুচিনি দ্বীপ’ নির্মাণ করবেন। যদিও সে সময় তার সঙ্গে আমার দেখা হয়নি। প্রতিযোগিতা শেষ হওয়ার দিনসাতেক পর নূহাশ চলচ্চিত্র থেকে জানানো হয় তারা আমাকে তাদের নাটকে নিতে চায়। ‘বুয়া বিলাস’ আমার জীবনের প্রথম টেলিভিশন নাটক, যা রচনা ও পরিচালনা করেছিলেন হুমায়ূন আহমেদ স্যার। এরপর আড়াই বছর আমি স্যারের কাজই শুধু করেছি। আমাকে সবাই বলত নূহাশের আর্টিস্ট। তার জন্যই আমার ডাক্তার হওয়া হয়েছে। তিনি আমাকে বলেছিলেন, ‘তুমি অভিনয়ের আরও সুযোগ পাবে কিন্তু এবার পরীক্ষা না দিলে হয়তো পড়ালেখা হয়তো আর হবে না।’ হুমায়ূন স্যার আমার কাছে ট্রেনিং ইনস্টিটিউট। অনুপ্রেরণার জায়গা। আমি তিনটি খÐ নাটক ‘বুয়া বিলাস’, ‘নাট্যকার হামিদ সাহেবের একদিন’, ‘অতঃপর শুভবিবাহ’ ও একটি সিরিয়াল ‘চন্দ্রকারিগর’ করেছিলাম তখন। আমি ভাগ্যবতী তার মতো মানুষের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পেয়েছি। স্যারের একটা গল্প আছে ‘আজ হিমুর বিয়ে’। স্যার ওয়াহিদ ইবনে রেজা বাপ্পি ভাইকে ‘হিমু’ ও আমাকে তার বৌ সাজিয়ে বইমেলায় নিয়ে গিয়েছিলেন। স্যারের সঙ্গে করা আমার নাটকগুলোয় বাপ্পি ভাই আমার বিপরীতে থাকতেন। সেদিন আমাকে অসংখ্য অটোগ্রাফ দিতে হয়েছিল। এক দিনে এত অটোগ্রাফ কখনও দেওয়া হয়নি। ওই দিনটির কথা আমি কখনও ভুলব না। আমার জন্য স্মরণীয় স্মৃতি।

আমাকে ‘যূথী’ নামে ডাকতেন : ফারহানা নিশো
‘এলেবেলে’ আমার পড়া হুমায়ূন স্যারের প্রথম বই। তার আরেকটা বই কেনার জন্য টিফিনের টাকা জমিয়ে রাখতাম। বুয়েটে দ্বিতীয় বর্ষে পড়ার সময় তার ‘এই বর্ষায়’ নাটকের জন্য অডিশন দিয়েছিলাম। এর আগে এশিয়াটিকের ক্লোজআপ ও সানসিল্ক শ্যাম্পুর বিজ্ঞাপন করেছি। তিনি আমার এক্সপ্রেশন দেখছিলেন। একই ডায়ালগ কয়েকভাবে বলতে বলেন। আধ ঘণ্টার মধ্যে তিনি জানান কয়েক দিন পর নাটকের নূহাশপল্লীতে শুটিং। আমি এরপর আর নাটকের কাজ করিনি। শুধু স্যারের কাজ করব বলে ওখানে গিয়েছিলাম। এর কয়েক দিন পর আমার টার্ম ফাইনাল। নূহাশপল্লীতে আমার সঙ্গে টিমমেটরা ছিল, আমার মাও ছিলেন। আমরা পড়াশোনা করতাম, খাওয়া-দাওয়া করতাম আর শুটিং করতাম। কষ্টের ব্যাপার হচ্ছে নাটকটি আমি শেষ করতে পারিনি। এক দিনের শুটিং বাকি ছিল, আর তখনই আমার পরীক্ষার তারিখ পড়ে যায়। এ নাটকের কিছুদিন পর একটা অফিসে আরেকটা নাটকের শুটিং চলছিল। আমি একটা কাজে ওখানে গেলে তিনি আমাকে শট দিয়ে যেতে বলেন। সে নাটকের আগে-পরে আমি নেই, শুধু কয়েকটা দৃশ্যে। তিনি অনেক সময় শিল্পীদের চরিত্রের নামে ডাকতে পছন্দ করতেন। আমাকে ‘যূথী’ নামে ডাকতেন। প্রোফাইলে আমি এটুকু অন্তত লিখতে পারব আমি হুমায়ূন আহমেদ স্যারের নাটকে কাজ করেছি।
স্যারকে আমার কাছে গল্পের মানুষ মনে হতো : বিদ্যা সিনহা মিম
আমার শুরুটাই স্যারের ‘আমার আছে জল’ ছবি দিয়ে। আমি যাতে অস্বস্তিবোধ না করি সে জন্য সবসময় মজা করতেন সেটে। আমাকে বলতেন, ‘তুমি অভিনয় করার দরকার নেই। তুমি যা তাই তাই কর।’ তিনি বুঝতেই দিতেন না যে শুটিং করছেন। অ্যাকশন বললে না আবার ভয় পেয়ে যাই সে জন্য এ কৌশল খাটাতেন। খাওয়া-দাওয়া একসঙ্গে করতেন। অন্য সময় মজার মজার গল্প, কৌতুক বলতেন। আমি তার ফ্যান ছিলাম। স্যারের হিমু সিরিজের বই প্রথম পড়েছিলাম। ক্যারিয়ারের শুরুটাই তার হাত ধরে। তাই তার প্রতি একটা মায়া, ভালোবাসা এমনিতেই ছিল। তখন প্রত্যেকটা মানুষ আমার জন্য নতুন ছিলেন।  তিনি যদি আমাকে সহযোগিতা না করতেন, মনে হয় না আমি কাজ করতে পারতাম। স্যারের ছবির নায়িকা হওয়া আমার জীবনে অনেক বড় পাওয়া। একজন নির্মাতা হিসেবে স্যারকে যতটুকু দেখেছি তাতে মুগ্ধ হওয়া ছাড়া কোনো পথ নেই। তার কাছে অনেক কিছু শিখেছি। তাকে সবসময় আমার কাছে গল্পের মানুষ মনে হতো। গল্পে যেমন চরিত্র পড়ি তেমনি একটা চরিত্র ছিলেন তিনি আমার কাছে। হুমায়ূন স্যার লেখক, নাট্যকার, সিনেমা পরিচালক হিসেবেই শুধু নয় মানুষ হিসেবেও অনেক দিন আমাদের হৃদয়ে বেঁচে থাকবেন। ছবিটির পর স্যারের সঙ্গে কয়েকটি নাটকে কাজ করেছিলাম। এরপর তো তিনি অসুস্থ হয়ে গেলেন।

তিনি মন থেকে দূরে সরে যাননি : ফারুক আহমেদ
হুমায়ূন আহমেদ স্যার যে এতদিন আগে মারা গেছেন সেটা মনে হয় না। মনে হয় কালকেই মারা গেছেন। এমন একটা অনুভ‚তি। মারা গেলেও তিনি মন থেকে দূরে সরে যাননি। আর যাবেনও না। ওনার সঙ্গে সকল স্মৃতিই সারাক্ষণ চোখের সামনে ভাসে।






সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]