ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা  বুধবার ২৮ অক্টোবর ২০২০ ১৩ কার্তিক ১৪২৭
ই-পেপার  বুধবার ২৮ অক্টোবর ২০২০

বৃহত্তম প্রাকৃতিক গুহা
প্রকাশ: শুক্রবার, ১৭ জুলাই, ২০২০, ১২:০০ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 40

দুর্গম এক গুহা। ভিয়েতনাম ও লাওসের সীমান্তে হাং সং ডুং বা সং ডুং গুহা বিশে^র বৃহত্তম প্রাকৃতিক গুহা। স্থানীয় ভাষায় এর নামকরণের অর্থ পাহাড়ের গুহা বা পাহাড়ি নদীর গুহা। ভিয়েতনামের কোয়াং বিন প্রদেশে হোং হা কে বাং জাতীয় উদ্যানে এই চুনাপাথরের গুহার বয়স ২০ থেকে ৫০ লাখ বছর। ১৯৯১ সালে এই গুহাকে আবিষ্কার করেন স্থানীয় এক কৃষক। হো হান নামে ওই কৃষক দুষ্প্রাপ্য ভেষজের খোঁজে গভীর জঙ্গলে ঘুরছিলেন। আচমকাই বৃষ্টি শুরু হয়। আশ্রয়ের খোঁজে থাকা হো তখন এই গুহার সন্ধান পান। তিনি আশ্চর্য হয়ে যান গুহার ভেতরে মেঘ ভেসে থাকতে দেখে। তবে গুহায় তিনি প্রবেশ করেননি। কিন্তু এরপর বন থেকে বেরিয়ে তিনি গুহার পথ হারিয়ে ফেলেন। আবার ১৮ বছর পর শিকার করতে গিয়ে ফের এই গুহার সন্ধান পান। ভিয়েতনামের এই গুহা স্বীকৃতি পায় বিশে^র বৃহত্তম প্রাকৃতিক গুহা হিসেবে। তার আগে পর্যন্ত এই শিরোপা ছিল মালয়েশিয়ার ডিয়ার কেভের। ব্রিটিশ কেভ রিসার্চের অভিযাত্রীরা ভিয়েতনামের এই গুহায় অনুসন্ধান চালান ২০০৯ সালে। কিন্তু সেবার টানা কয়েক দিনের অভিযান আটকে যায় বিশাল এক চুনাপাথরের প্রাচীরের সামনে। ওই প্রাচীরের নাম দেওয়া হয় ‘গ্রেট ওয়াল অব ভিয়েতনাম’। পরের বছর ফের অভিযান শুরু হয়। এবার তারা গুহার এক মাথা থেকে অন্যদিক পর্যন্ত অনুসন্ধান শেষ করেন। এই গুহা প্রায় ৬৬০ ফুট উঁচু। চওড়ায় ৪৯০ ফুট। ৯ কিলোমিটার দৈর্র্ঘ্যবিশিষ্ট গুহাটির ছাদে দুটি বিশাল সিঙ্কহোল বা গহ্বর রয়েছে। সেখান দিয়ে সূর্যালোক প্রবেশ করে। ফলে গুহায় উদ্ভিদের বংশবিস্তার হতে সমস্যা হয়নি। ২০১৯ সালে জানা যায়, ভিয়েতনামের সং ডুং গুহা স্থানীয় আরও একটি গুহার সঙ্গে সংযুক্ত। বিশে^র বৃহত্তম কিছু স্ট্যালাগমাইট অর্থাৎ চুনাপাথরের স্তম্ভ রয়েছে এই গুহায়। এখানে সর্বোচ্চ স্ট্যালাগমাইটের উচ্চতা ২৬২ ফুট। বাধা বলতে শুধু এই চুনাপাথরের স্তম্ভ। না হলে বোয়িং ৭৪৭ উড়ে যেতে পারত এই গুহাপথে। এই গুহার নিজস্ব আবহাওয়া চক্র আছে। ২০১৩ থেকে শুরু হয়েছে এই গুহা ঘিরে পর্যটন। প্রতিবছর খুব সীমিতসংখ্যক পর্যটক অনুমতি পান গুহায় পা রাখার। টানা দুদিন গভীর বৃষ্টি অরণ্যের মধ্য দিয়ে ট্রেক করে তবেই পৌঁছনো যায় গুহামুখে। স্থানীয় প্রশাসনের পরিকল্পনা, সং ডুং গুহায় ভবিষ্যতে কেবল কার বা রোপ ওয়ে চালু করার। কিন্তু তাতে আপত্তি জানিয়েছেন পরিবেশবিদরা। তাদের মতে, পর্যটকদের সংখ্যা বাড়লে গুহার ভেতরে প্রাকৃতিক পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হবে। তবে এই গুহায় পর্যটন শুরু হওয়ার পর স্থানীয় অঞ্চলের অর্থনীতিতে বিপুল পরিবর্তন এসেছে।




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, নির্বাহী সম্পাদক : শাহনেওয়াজ দুলাল, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে
প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]