ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা বৃহস্পতিবার ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০ ৮ আশ্বিন ১৪২৭
ই-পেপার বৃহস্পতিবার ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০

প্রবীনদের জন্য কাজ করছে তরুণরা
তানভীর সিদ্দিক টিপু
প্রকাশ: রোববার, ২৬ জুলাই, ২০২০, ১০:১৫ এএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 270

ছেলে আমার মস্ত মানুষ, মস্ত অফিসার/ মস্ত ফ্ল্যাটের যায় না দেখা এপার ওপার/ নানানরকম জিনিস আর আসবাব দামি দামি/ সবচেয়ে কত দামি ছিলাম একমাত্র আমি- নচিকেতা চক্রবর্তীর কণ্ঠে এই গান শুনে লাখ লাখ বাবা-মায়েরা চোখের পানি ফেলেছেন। যে সন্তানদের এতো পরিশ্রম আর কষ্ট করে মানুষ করেছেন তাদের ভবিতব্য আচরণের কথা ভেবে শিউরে উঠেছেন। তাদের এই চোখের পানি কি পড়তেই থাকবে? দিন বদলের চাবিকাঠি যে তরুণদের হাতে তারা কি কোনো ভূমিকা রাখবে না এই সংকট সমাধানে?

কেউ না এলেও, এগিয়ে এসেছিল নারায়ণগঞ্জের আব্দুল্লাহ আল জুবায়ের আশির। বাবা ছিলেন একটা কলেজের অধ্যাপক। আশির তখন সাউথইস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে পড়ালেখা করেন। কিছুদিন পরেই বাবার অবসর জীবন শুরু হবে। আশিরের কপালে  চিন্তার রেখা দেখা দিল । অবসরের পর কীভাবে সময় কাটবে তার বাবার? এসব চিন্তা করেই বন্ধুদের সাথে আলোচনা করেন। তারা কেউ সাড়া না দিলে আশ্রয় নেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের। সেখান থেকে সহযোদ্ধা হিসেবে পান নাহিদ, রুপা, তন্দ্রা, মিজানুর ও ইমরানকে। ২০১৬ সালের ২৫ জুন রাজধানীর পান্থপথে 'অসহায় প্রবীনদের নিয়ে ইফতার' আয়োজন করেন। সেখান থেকে জন্ম নেয় একটি সংগঠন 'প্যারেন্টস এজিং ফাউন্ডেশন'।  

আশির তার বাবার মতো অন্যসব বাবাদের জন্য শুরু করেন প্রোজেক্ট 'উদাহরণ'। এই প্রোজেক্টের আওতায় অবসর জীবনে কর্মহীনদের জন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেন তারা। 'প্যারেন্ট এক্সপ্রেস' নাম দিয়ে কাউকে দিয়েছেন দোকান, কাউকে কিনে দিয়েছেন রিকশা।

আশির বলেন 'আমাদের সমাজে অবহেলিত প্রবীণদের সংখ্যা অনেক, সংগঠনটি প্রতিষ্ঠা করার চিন্তা যখন মাথায় এলো, তাৎক্ষণিক কাছের বন্ধুদের জানালেও তারা এতে সায় দেয়নি। পরে ফেসবুকের অপরিচিত বন্ধুরাই আগ্রহ প্রকাশ করেন।' ৫ জন সদস্য নিয়ে শুরু করা তাদের এই স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনে এখন পুরো দেশের ২১টি বিশ্ববিদ্যালয় ও ২৭টি জেলা মিলে পাঁচশ'র অধিক সদস্য রয়েছেন। এমনকি যে বন্ধুরা প্রবীণদের নিয়ে কাজ করতে অনাগ্রহ প্রকাশ করেছিল তারাই নিজ থেকে এসে সদস্য হয়েছে।

প্রবীনদের জন্য কাজ করায় কোনো পৃষ্ঠপোষকতা পান না তারা। জানান , 'অনেক সময় আর্থিক সহযোগীতার জন্য বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে গেলে তারা প্রবীণদের জন্য কোনো সাহায্য করতে চায় না। '

আমাদের সমাজে যেসব ছেলেমেয়েরা বাবামায়েদের বাসা থেকে বের করে দেয় বা বৃদ্ধাশ্রমে রেখে আসে  তাদের বাড়িতে ফেরাতে করেছেন 'ব্যাক টু হোম' প্রোজেক্ট। এসব বাবামায়েদের ঠিকানা খুঁজে তাদের বাড়িতে পৌঁছে দেন তারা।  

নারায়ণগঞ্জের জামদানীপল্লীর ১২ শ প্রবীনের জন্য করেছেন মেডিকেল ক্যাম্প। 

প্রবীনদের অধিকার রক্ষায় করছেন সামাজিক আন্দোল।  বাসে বৃদ্ধদের জন্য সংরক্ষিত আসন, শপিংমলে হুইল চেয়ারের ব্যবস্থা করা কিংবা ব্যাংকে বয়স্ক ভাতা তোলার জন্য আলাদা লাইনের জন্য সচেতনতা বৃদ্ধিতে কাজ করছেন তারা। 

অর্জন হিসেবে ২০১৭ সালে পেয়েছেন জয় বাংলা ইয়ুথ অ্যাওয়ার্ড। এছাড়াও ইয়ুথ বাংলা বেস্ট অর্গানাইজেশন সম্মাননা, আমি ঠিক দেশ ঠিক সম্মাননাসহ বেশ কয়েকটি সম্মাননা অর্জন করেছে তারা।

করোনা মহামারীতে বলা হচ্ছে সবচেয়ে ঝুঁকিতে আছেন এই প্রবীনরা। সেকথা শুনে আশিররা বসে থাকতে পারেননি। সুরক্ষার জন্য মাস্ক, হ্যান্ড স্যানিটাইজার, সাবান বিতরণ করেছেন রাতের আঁধারে বাড়ি বাড়ি যেয়ে। সারাদেশে যেখানে তাদের সদস্যরা আছে সেখানকার মসজিদগুলোতে হাত ধোয়ার ব্যবস্থা করেছেন। দুর্যোগ আরো ঘনীভূত হলে এগিয়ে গিয়েছেন ত্রাণ নিয়ে। নারায়ণগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, রাজশাহী , লহ্মীপুর ও ফেনীর ১ হাজার ৯০ জনের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি। এখানেও কাজ করেছেন গোপনীয়তার সাথে।  

করোনার সাথে আম্পানের ভয়াবহতা দেখা দিলে তারা ছুটে যান উপকূলে। পিরোজপুরের তিনটি সাইক্লোন সেন্টারে ত্রাণসামগ্রী ও চিকিৎসা সেবা প্রদান করেন।   

আশার বাণী শুনিয়ে আশির বলেন, ' তিরিশ বছর পরে আমরাও বৃদ্ধ হবো। আমরা তরুণরা আমাদের সেই ভবিষ্যৎ নিয়ে কাজ করছি। বাংলাদেশ একদিন প্রবীনবান্ধব দেশ হবে, সেই লক্ষ্যে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। '

আশিররা বর্তমান প্রজন্মের সাথে প্রবীনদের দুরত্ব লাঘব করতে 'আমি হবো বাবা,বাবা হবে খোকা' প্রোজেক্ট হাতে নিয়েছে। 

তাদের এসকল কাজের মধ্য দিয়ে আমাদের দেশটা একদিন বদলে যাবে। শুধু মা দিবস বা বাবা দিবস নয়, সারাবছর হোক বাবামায়েদের জন্য।




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, নির্বাহী সম্পাদক : শাহনেওয়াজ দুলাল, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে
প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]