ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা বৃহস্পতিবার ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০ ৮ আশ্বিন ১৪২৭
ই-পেপার বৃহস্পতিবার ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০

করোনা থামাতে পারেনি আসাদের বইপ্রীতি
তানভীর সিদ্দিক টিপু
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২০, ১১:৫৩ এএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 398

করোনাভাইরাস আতঙ্কে ব্যক্তিগত প্রয়োজন বা নিরূপায় হওয়া  ছাড়া কেউ ঘর থেকে দুই পা বাইরে ফেলতে রাজি না। আবার আটকে পড়া মানুষের সময় কাটানোর জন্য চাই চিত্তাকর্ষণের ব্যবস্থ।  মাধ্যম হিসেবে  অনেকের পছন্দের সারিতে প্রথমদিকে অবস্থান করছে বই পড়া। কিন্তু ঘরে তো পর্যাপ্ত বইও নেই সবার। আবার ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহার করে বই পড়াও সবাই পছন্দ করেন না। কেমন হয় যদি এর মধ্যে বাসায় এসে কেউ বই দিয়ে যায়?

গ্রামের রাস্তায় টুংটাং শব্দ করে সাইকেল চালিয়ে বাড়ি বাড়ি গিয়ে বই দিয়ে আসেন শেখ মুহাম্মদ আতিফ আসাদ। ময়মনসিংহ বিভাগের জামালপুর জেলার সরিষাবাড়ী উপজেলার ডোয়াইল ইউনিয়নের একটি গ্রাম হাসড়া, মাজালিয়া। এখানেই আসাদের বসবাস।

ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ার সময় বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাকের একটি পাঠাগার থেকে ধার নিয়ে বই পড়ার শুরু করে আসাদ। আস্তে আস্তে পড়ার অভ্যাস বেড়েছে। মুক্তিযুদ্ধ তার ভালো লাগার বিষয়। এরপর হাইস্কুলে ভর্তি হলেন। লেখাপড়া করেছেন তাদের হরখালী মজিবর রহমান আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে। স্কুলে থাকার সময়ও অনেক বই পেয়েছেন পাঠাগারে। তবে পাস করে যাওয়ার পর আর বই পড়ার সুযোগ হলো না সেখানে। এসএসসিতে তার জিপিএ ছিল ৪ দশমিক ৫০। এরপর ভর্তি হলেন পোগলদিঘা ডিগ্রি কলেজে। তবে সেখানে বইপাগল আসাদের বই পড়ার তেমন কোনো সুযোগ হলো না। তাই একটি লাইব্রেরি গড়ার খুব ইচ্ছা হলো তার। কিন্তু তাদের সরিষাবাড়ী উপজেলায় কেউ কোনো পাঠাগার গড়ে তোলেননি। গ্রামের বখাটে ছেলেরা এখন তো অনলাইনেই বই পড়া যায়, পাঠাগারের আর দরকার কী বলে তাকে নিয়ে, তার স্বপ্নটাকেও উপহাস করেছে। নানা জায়গায় পড়লেও তারা বই পড়ার স্বপ্নটাকে ছড়িয়ে দিতে রাজি হলো না। এরপর কী করা যায়, অনেক ভেবে বড় ভাই রবিউল ইসলাম মিলনের সঙ্গে আলাপ করলেন। তাদের বাড়ির বারান্দাতে একটি গ্রামের লাইব্রেরির যাত্রা শুরু হয় ২০টি বই দিয়ে। অপঘাতে মিলনের মৃত্যু হলে তার নামে পাঠাগারটির নামকরণ করা হয় -  মিলন স্মৃতি পাঠাগার।  

গ্রামের স্কু, কলেজ পড়ুয়াদের মধ্যে বই পড়ার আগ্রহ গড়ে তুলতে তার গ্রাম থেকে দূরদূরান্তে বই দিয়ে আসেন। আবার নিজেই সেগুলো সংগ্রহ করেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার কাজ দেখে অনেকেই বই উপহার দেয় তার পাঠাগারের জন্য। এই করোনার সময়েও কেনো করছেন এটা? জানতে চাইলে বলেন, " করোনাভাইরাসের কারণে সবাই গৃহবন্দ।  মানুষের সময় কাটানোর জন্য বই দরকার। আমাকে ফোন করলে আমি না করতে পারি না। বই নিয়ে ছুটে যাই।     

এসএসসি ও এইচএসসির বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র আসাদ এইচএসসিতে পেয়েছেন ৩ দশমিক ৬৭। কখনো দিনমজুর, কখনো রাজমিস্ত্রির কাজ করে তিনি তার লাইব্রেরি এবং জীবনের স্বপ্নটিকে বাঁচিয়ে রেখেছেন। তাদের পরিবার এখন চলে ভাই আল আমিনের পেট্রল পাম্পের কর্মচারীর বেতনের টাকায়। দরকারে রডমিস্ত্রি হিসেবে কাজ করেও আসাদ সংসারের ঘানি টানেন। কখনো তিনি রংমিস্ত্রি হয়ে টাকা উপার্জন করেন।  আত্মবিশ্বাস ও চেষ্টা থাকলে জীবনে অনেক কিছুই অর্জন করা সম্ভব বিশ্বাস করেন তিনি।




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, নির্বাহী সম্পাদক : শাহনেওয়াজ দুলাল, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে
প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]