ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা সোমবার ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০ ১৩ আশ্বিন ১৪২৭
ই-পেপার সোমবার ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০

চট্টগ্রামে এবারও চামড়া ফেলে দিতে হলো রাস্তায়
চট্টগ্রাম ব্যুরো
প্রকাশ: বুধবার, ৫ আগস্ট, ২০২০, ১২:০০ এএম আপডেট: ০৫.০৮.২০২০ ৪:০৬ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 24

আশঙ্কাই সত্য হলো। এবারও চট্টগ্রামে চামড়া নিয়ে হয়ে গেল গত বছরের মতো কেলেঙ্কারি। বিক্রি করতে না পেরে কোরবানি পশুর শত শত চামড়া রাস্তায় ফেলে দিতে বাধ্য হয়েছেন মৌসুমি ব্যবসায়ীরা। আড়তসমূহে দুই দিন পরে কিছু কিছু চামড়া কেনা হলেও দাম দেওয়া হয়েছে সরকার নির্ধারিত মূল্যের অনেক কম।
সংশ্লিষ্টরা জানান, ঈদুল আজহার দিন ও পরদিন রোববার নগরীর আতুরার ডিপো এলাকায় আড়তসমূহে মৌসুমি ব্যবসায়ীরা নিয়ে আসতে থাকেন কোরবানি পশুর চামড়া। কিন্তু আড়তদাররা লবণ ছাড়া চামড়া কিনতে আগ্রহ না দেখানোর ফলে বিপাকে পড়েন বিক্রেতারা। এই চামড়া ফেরত নিতে গেলে আরও আর্থিক ক্ষতি হবে। তাই রাগে ক্ষোভে শত শত চামড়া রাস্তার ওপরে ফেলে দিয়ে চলে যান তারা।
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা স্ট্যান্ডিং কমিটির সভাপতি কাউন্সিলর শৈবাল দাশ সুমন জানান, চামড়া নিয়ে এবারও সিন্ডিকেটের কারসাজি হয়েছে। একটি গরুর চামড়া আড়তদাররা কিনতে চেয়েছে ১০০-২০০ টাকায়। ছাগলের চামড়া ১০/১৫ টাকায় কিনতে চাওয়া হয়। অথচ প্রতিটি চামড়া তারা কিনেছেন তিন-চারশ টাকায়। বিভিন্ন স্থান থেকে সংগ্রহ এবং আড়তে নিয়ে আসার পরিবহন খরচও রয়েছে। অনেক আড়ত লবণ 
ছাড়া চামড়া কিনবে না বলে জানিয়ে দেয়। এ অবস্থায় শত শত চামড়া রাস্তায় ফেলে দিয়ে কাঁদতে কাঁদতে চলে গেছেন ব্যবসায়ীরা।
তিনি জানান, করপোরেশনের পরিচ্ছন্ন কর্মীরা ২০ হাজারের মতো চামড়া রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে ডাম্পিং ইয়ার্ডে ফেলেছে।
বিভিন্ন উপজেলা থেকে প্রাপ্ত খবরে জানা যায়, গ্রাম-গঞ্জে শত শত চামড়া মাটির নিচে পুঁতে ফেলা হয়েছে। বহু চামড়া নদীতে, খালে বিলে ফেলে দেওয়া হয়েছে।
চট্টগ্রাম কাঁচা চামড়া আড়তদার সমিতির সভাপতি মো. মাহবুবুল আলম জানান, এবার লবণ দিয়ে কাঁচা চামড়া আনার জন্য সবাইকে আগেই জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ঈদের দিন ও পরদিন যারা চামড়া এনেছেন তারা লবণ দেননি। পরে যারা লবণ দিয়ে এনেছেন তাদের চামড়া কেনা হয়েছে।
ব্যবসায়ীরা জানান, সরকার চট্টগ্রামের জন্য গরুর চামড়া প্রতি বর্গফুট ২৮ থেকে ৩২ টাকা নির্ধারণ করে। সে হিসাবে একটি গরুর চামড়ার দাম আসে ৯০০ টাকার ওপরে। কিন্তু লবণ দেওয়া চামড়া আড়তে কেনা হয়েছে তিন-চারশ টাকায়। এবার করোনা পরিস্থিতির কারণে কোরবানি অনেক কম হয়েছে। যা হয়েছে সেসব চামড়ার ৬০ ভাগও বিক্রি করা যায়নি। সিন্ডিকেটের কাছে এবারও মার খেলেন মৌসুমি ব্যবসায়ীরা। এতিম অসহায় মানুষ বঞ্চিত হলো তাদের ন্যায্য হক থেকে।







সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, নির্বাহী সম্পাদক : শাহনেওয়াজ দুলাল, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে
প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]