ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা  বুধবার ২০ জানুয়ারি ২০২১ ৬ মাঘ ১৪২৭
ই-পেপার  বুধবার ২০ জানুয়ারি ২০২১

স্বাস্থ্যবিধির তোয়াক্কা না করে ঢাকায় ফিরছে মানুষ
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: বুধবার, ৫ আগস্ট, ২০২০, ১২:০০ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 61

করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি নিয়েই প্রিয়জনের সঙ্গে ঈদ আনন্দ ভাগাভাগি করতে গ্রামে গিয়েছিল বহু মানুষ। ছুটি শেষে আবারও তারা কর্মস্থল ঢাকায় ফিরতে শুরু করেছে। এ কারণে দেশের সড়ক-মহাসড়ক, নৌবন্দরসহ অন্যান্য টার্মিনালে রাজধানীমুখী মানুষের চাপ দেখা গেছে। ফেরিঘাটগুলোতেও দেখা গেছে মানুষের ভিড়। তবে অধিকাংশ পরিবহনে স্বাস্থ্যবিধি মানতে দেখা যায়নি। মঙ্গলবার রাজধানীর সদরঘাট, সায়েদাবাদ, কল্যাণপুর-গাবতলী ও মহাখালী বাসস্ট্যান্ড এলাকা ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।
সদরঘাটে গিয়ে দেখা যায়, দেশের দক্ষিণাঞ্চল থেকে ঢাকায় ফেরা অধিকাংশ লঞ্চেই ছিল কর্মজীবী মানুষের ভিড়। লঞ্চের ডেক থেকে শুরু করে কেবিন এমনকি কেবিনের সামনের গলিপথেও মানুষের চাপ দেখা গেছে। টার্মিনালের প্রতিটি পন্টুনে ছিল উপচে পড়া ভিড়। স্বাস্থ্যবিধির কোনো নমুনা দেখা যায়নি। অধিকাংশ যাত্রীর মুখে ছিল না মাস্কও।
বরিশাল থেকে আসা যাত্রী কামাল হোসেন বলেন, লঞ্চে তো মানুষের জন্য পা রাখার জায়গা নেই। কোনোভাবে ডেকের এক কোণে একটু বিছানা করে নিয়েছি। রাতে বৃষ্টিও হয়েছে। নির্ঘুম রাত কেটেছে। মানুষের চেঁচামেচি আর প্রচÐ ভিড় দেখে মনে হচ্ছে যেন করোনা বলতে কিছুই আর নেই। এর পরেও আসতে হয়েছে। কারও মুখে মাস্কও নেই। অফিস তো আর এসব বুঝবে না। তাই করোনা ঝুঁকি মাথায় রেখেই চলে এসেছি। হাতিয়া থেকে ছেড়ে আসা লঞ্চ এমভি তাশরীফের যাত্রী সমীর উদ্দিন বলেন, সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে লঞ্চ ছাড়ার পর মনপুরা ও ভোলার কয়েকটি ঘাট থেকে যাত্রী নেওয়ার পরপরই
পুরো লঞ্চ ভর্তি হয়ে যায়। মানুষের ভিড়ে কোথাও কোনো জায়গা ফাঁকা ছিল না। অনেক কষ্ট করে ঢাকায় এসেছি। আজকের তুলনায় আগামীকাল মানুষের ভিড় আরও বাড়বে।
একই চিত্র দেখা গেছে গাবতলী বাস টার্মিনালেও। তবে অধিকাংশ বাসে স্বাস্থ্যবিধি পালন করতে দেখা গেছে। যারা বাসে পরিবার-পরিজন নিয়ে এসেছেন তারা পাশাপাশি দুই সিটে বসে এসেছেন। বিষয়টি নিয়ে পরিবহন চালকরা জানিয়েছেন, যাত্রীরা মানতে রাজি হয়নি। তারা বলছে, তারা আত্মীয়-স্বজন। সে কারণেই তারা পাশাপাশি সিটে বসেছে।
পরিবহন চালকরা জানিয়েছেন, ঈদের আগ মুহূর্তে অধিকাংশ কর্মজীবী মানুষ প্রায় একসঙ্গেই ঢাকা ছাড়লেও ফেরার সময় আলাদা আলাদাভাবে ফেরে। অনেকেই ঈদের ছুটির সঙ্গে বাড়তি ছুটি যোগ করে নেয়। কেউ কেউ ঈদ শেষে অফিস ধরতে ঢাকায় ফিরলেও তাদের পরিবার বাড়িতে রেখে আসে। সে কারণে ফেরার সময় সাধারণত যাত্রীদের চাপ কিছুটা কম থাকে। ছুটি শেষে যশোর থেকে ঢাকায় ফিরেছেন সরকারি চাকরিজীবী আশরাফুল ইসলাম। তিনি বলেন, সোমবার অফিস খুলেছে। বসের কাছ থেকে আরও দুই দিন ছুটি নিয়েছি। মঙ্গলবার টিকেট পেয়ে বউ-বাচ্চাকে বাড়িতে রেখেই ঢাকায় চলে এসেছি। তারা আরও কয়েক দিন বেড়াবে। এরপর আসবে। কারণ এখন এলে যাত্রীদের যে চাপ তাতে দুর্ভোগের পাশাপাশি করোনা সংক্রমণ ঘটার আশঙ্কা রয়েছে।
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্যাহ বলেন, যাত্রীদের চাপ কিছুটা বাড়ছে। তবে ফেরিঘাটগুলোতে ভিড় থাকার কারণে জট লেগে যাচ্ছে। আমরা পরিবহন মালিকদের বলে দিয়েছি কোথাও স্বাস্থ্যবিধি লঙ্ঘন করে পরিবহনে যাত্রী নেওয়া যাবে না।
এদিকে মঙ্গলবার দক্ষিণবঙ্গের ২১ জেলার মানুষের ঢল দেখা গেছে মুন্সীগঞ্জের শিমুলিয়া ঘাটে। সকাল থেকে কাঁঠালবাড়ি ঘাট হয়ে লঞ্চ, স্পিডবোট ও ফেরিযোগে শিমুলিয়া ঘাটে আসতে শুরু করে ঢাকামুখী যাত্রীরা। ফেরি স্বল্পতার কারণে অধিকাংশ যাত্রী লঞ্চ ও স্পিডবোটে পদ্মা পাড়ি দিয়েছে। প্রতিক‚ল আবহাওয়া ও নদীতে তীব্র স্রোত থাকায় শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ী নৌরুটে বর্তমানে চারটি রো রোসহ সাতটি ফেরি চলাচল করছে। এসব ফেরিতে অন্যান্য যানবাহনের চেয়ে মোটরসাইকেলের সংখ্যা বেশি। অন্যদিকে, শিমুলিয়া ঘাটে গণপরিবহন সঙ্কটে যাত্রীদের দীর্ঘক্ষণ ঘাট এলাকায় অবস্থান করতে দেখা গেছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছে অনেক যাত্রী। দীর্ঘক্ষণ ঘাটে দাঁড়িয়ে থেকে গাড়ি না পেয়ে বিকল্প পথে গন্তব্যে গেছে অনেকে।
বিআইডবিøউটিসি শিমুলিয়া ঘাটের ব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) আব্দুর নূর তুষার বলেন, ঘাটে ঢাকামুখী যাত্রীদের চাপ বেশি। ফেরিতে প্রচুর সংখ্যক মোটরসাইকেল আরোহী আসছেন। অনেক যাত্রী লঞ্চে যাওয়ায় ফেরিতে চাপ কমেছে। ঘাটে বর্তমানে শতাধিক পণ্যবাহী ট্রাকসহ তিন শতাধিক ছোটবড় যানবাহন রয়েছে। সিরিয়াল অনুযায়ী সব যানবাহন পার করা হবে।
শিমুলিয়াÑকাঁঠালবাড়ি নৌরুটে কর্মস্থলে ফেরা যাত্রীদের ঢল : মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি, শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ি নৌ-রুটে কর্মস্থলে যোগ দিতে ঢাকামুখী নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের ঢল পড়েছে ঘাটপ্রান্তে। মঙ্গলবার সকাল থেকেই কাঁঠালবাড়িঘাট হয়ে লঞ্চ, স্পিডবোট ও ফেরি যোগে যাত্রীরা শিমুলিয়া ঘাটে এসে ভিড়ছে। তবে ফেরি স্বল্পতার কারণে অধিকাংশ যাত্রীরা লঞ্চ ও স্পিডবোটে পদ্মা পারি দিচ্ছে।
প্রতিক‚ল আবহাওয়া ও নদীতে তীব্র স্রোত থাকায় শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ি নৌরুটে বর্তমানে ৪টি রোরোসহ মোট ৭টি ফেরি চলাচল করছে। এসব ফেরিতে অন্যান্য যানবাহনের চেয়ে মোটরসাইকেলের আধিক্য রয়েছে।
এদিকে শিমুলিয়াঘাটে গণপরিবহন সংকটের কারণে ঘাটপ্রান্তে এসে ফেরি থেকে নামতে একে অপরের শরীরের ওপর দিয়ে রীতিমতো প্রতিযোগিতায় লেগে যাচ্ছে যাত্রীসাধারণ। গণপরিবহন সংকটে যাত্রীদের দীর্ঘক্ষণ ঘাট এলাকায় অবস্থান করতে হচ্ছে। এতে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে অনেক যাত্রীকে। কোনো উপায় না দেখে তারা আটো, সিএনজি, টেম্পো, নসিমন, করিমন, উবারের অফলাইনের মোটরসাইকেল ও গাড়িতে করে ভেঙে ভেঙে তারা গন্তব্যে ফিরছে। এতে তাদেরকে কয়েকগুণ বেশি ভাড়া গুনতে হচ্ছে।
বিআইডাবিøউটিসি শিমুলিয়াঘাটের ব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) আব্দুর নূর তুষার জানান, ঘাটে ঢাকা মুখী যাত্রীদের চাপ রয়েছে। ফেরিতে প্রচুর পরিমাণে মোটসাইকেল আরোহী আসছে। অনেক যাত্রী লঞ্চে আসায় ফেরিতে চাপ কমেছে। আর ঘাটে বর্তমানে শতাধিক পণ্যবাহী ট্রাকসহ ৩ শতাধিক ছোট-বড় যানবাহন রয়েছে। সিরিয়াল অনুযায়ী সকল যানবাহন পার করা হবে।






সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, নির্বাহী সম্পাদক : শাহনেওয়াজ দুলাল, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে
প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]