ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা সোমবার ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০ ১৩ আশ্বিন ১৪২৭
ই-পেপার সোমবার ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০

ঘরের বাইরে চিকিৎসা চায় পরিবার ও দল
খালেদা জিয়ার স্থায়ী জামিন চেয়ে আদালতে যাবেন আইনজীবীরা
সাব্বির আহমেদ
প্রকাশ: বুধবার, ৫ আগস্ট, ২০২০, ১২:০০ এএম আপডেট: ০৫.০৮.২০২০ ৩:৫৮ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 20

পরিবারের চেষ্টায় ৬ মাসের মুক্তি পেয়ে ৪ মাস অতিবাহিত হয়েছে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার। গেল ২৫ মার্চ মুক্তি পাওয়ার পর থেকে আছেন গুলশানের ভাড়া বাসা ফিরোজায়। মহামারি করোনা ভাইরাসের মধ্যে এক প্রকার সঙ্গ নিরোধেই কাটিয়েছেন এতদিন। বাসা থেকে নিচ্ছেন চিকিৎসা।
তবে খালেদা জিয়ার চিকিৎসকরা বলছেন, বাসার চিকিৎসায় তেমন উন্নতি হচ্ছে না। মডার্ন কোনো হাসপাতালে গিয়ে উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন। ঘরে থেকে হাসপাতালের চিকিৎসা সম্ভব না হওয়ায় আগের মতোই আছেন সত্তরোর্ধ্ব বিএনপি চেয়ারপারসন। অন্যদিকে ৬ মাসের মুক্তির সময়ও ফুরিয়ে যাওয়ায় আলোচনায় এখন খালেদা জিয়ার চিকিৎসা।
ঈদুল আজহার দিন থেকে গেল কয়দিন দল ও পরিবারের কয়েক দফা বৈঠকে বিএনপি চেয়ারপারসনের শারীরিক 
অবস্থা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে বিদেশ গিয়ে খালেদা জিয়া চিকিৎসা নেবেন কি নাÑ এখনও চ‚ড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। খালেদা জিয়ার মুক্তিতে সরকার তাকে বিদেশ গমনে বারণ করেছে। টানা ২৫ মাস কারাভোগের পর ২৫ মার্চ সরকারের নির্বাহী আদেশে ৬ মাসের জন্য মুক্তি পান খালেদা জিয়া। কারণ শর্ত আছে, এই সময়ে তিনি বাসায় থেকে চিকিৎসা নেবেন, যেতে পারবেন না দেশের বাইরে।
একদিকে করোনা, অন্যদিকে সরকারের এমন শর্তÑ এমন অবস্থায় ঘরের বাইরে চিকিৎসার অনুমতি চেয়ে শিগগিরই সরকারের কাছে আবেদন করবে তার পরিবার। দলীয় সূত্রে জানা যায়, চিকিৎসার বিষয়ে খালেদা জিয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে সরকারের উচ্চ পর্যায়ে আবেদন করবে তার পরিবার।
আর বিএনপি চেয়ারপারসনের স্থায়ী জামিনের বিষয়ে দলের আইনজীবীরা চলতি মাসেই আদালতের দ্বারস্থ হবেন। যেহেতু পরিবারের আবেদনের ভিত্তিতেই খালেদা জিয়া মুক্তি পেয়েছেন তাই এখন আবারও পরিবারের পক্ষ থেকেই সরকারের কাছে মুক্তির সময়সীমা বাড়ানোর আবেদন করা হবে। পরিবার খালেদা জিয়াকে বিদেশ নিয়ে চিকিৎসার কথাও ভাবছে। তবে খালেদা জিয়ার পছন্দ রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতাল।
ইতোমধ্যে সরকারের কাছে সময়সীমা বাড়ানোর আবেদন করার প্রস্তুতি নিচ্ছে পরিবার। প্রয়োজনীয় কাগজপত্রও নিয়ে আবেদনপত্র স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া হবে। পরিবারের পক্ষ থেকে ভাই সাঈদ ইস্কাদার আবেদন করতে পারবেন বলে জানা গেছে। খালেদা জিয়ার বোন সেলিমা ইসলাম সময়ের আলোকে বলেন, খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা ভালো না। আগের মতোই আছে। অন্যের সাহায্যে ওয়াশরুমে যেতে হয়। মুখে রুচিও তেমন নেই। মুক্তির সময়সীমা বাড়ানোর জন্য অবশ্যই আবেদন করা হবে। তবে বিদেশে নিয়ে চিকিৎসা করানোর বিষয়ে এখনও কোনো আলোচনা হয়নি।
প্রায় ৭৭ বছর বয়সি খালেদা জিয়া আর্থ্রাইটিস ও ডায়াবেটিসসহ নানা রোগে ভুগছেন। মুক্তি পাওয়ার আগে তিনি বঙ্গবন্ধু মেডিকেলে চিকিৎসাধীন ছিলেন।
সম্প্রতি আইনমন্ত্রী গণমাধ্যমকে জানিয়ে ছিলেন, সরকার অনুমতি দিলে খালেদা জিয়াকে বিদেশে নিয়েও চিকিৎসা দেওয়া যাবে। অন্যদিকে ঈদের পরদিন রোববার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা থেকে রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত খালেদা জিয়ার সঙ্গে একান্ত বৈঠক করেন তার আইনজীবী ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন। এ সময় বেগম জিয়ার ছোট ভাই শামীম এস্কান্দারও বৈঠকে ছিলেন।
খালেদা জিয়ার আইনজীবী খোকন জানান, বিএনপি চেয়ারপারসনের শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটছে। তার উন্নত চিকিৎসা ও হাঁটুর রিপ্লেসমেন্টের চিকিৎসার জন্য তাকে অবশ্যই বিদেশে যেতে হবে। তাই খালেদা জিয়ার পরিবার সরকারের কাছে বিদেশে চিকিৎসার সুযোগ চেয়ে ও তার সাজার স্থগিতাদেশের মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন করবেন।
তিনি বলেন, সেপ্টেম্বরে খালেদা জিয়ার মুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই আবেদনটি করা হবে। খালেদা জিয়া খুবই অসুস্থ জানিয়ে তার আইনজীবী জানান, ঈদের দিন দুপুরের খাবার খাওয়ার পর রোববার রাত পর্যন্ত খালেদা জিয়া কিছু খেতে পারেননি। তার হাতের সমস্যাও বেড়েছে। করোনার কারণে হাসপাতালে গিয়ে পরীক্ষাও করাতে পারছেন না।
খালেদা জিয়ার বিদেশে চিকিৎসার বিষয়ে আবেদন করা হচ্ছে কি-নাÑ এমন প্রশ্নে খোকন বলেন, ওনার চিকিৎসা তো বাংলাদেশেই হবে। যদি বিদেশে চিকিৎসার প্রয়োজন হয় তখন আশা করি সরকার বিবেচনা করবে। সাক্ষাৎ শেষে আইনজীবী আরও বলেন, ঈদের দিন দুপুরের খাবার খাওয়ার পর রোববারে রাত পর্যন্ত খালেদা জিয়া কিছু খেতে পারেননি। তার হাতের সমস্যাও বেড়েছে। করোনার কারণে হাসপাতালে গিয়ে পরীক্ষাও করাতে পারছেন না। তাই উন্নত চিকিৎসার জন্য তার বিদেশ যাওয়া প্রয়োজন। এর আগে ঈদুল আজহার দিন-রাতে স্থায়ী কমিটির সদস্যরা খালেদা জিয়ার সঙ্গে দীর্ঘ প্রায় ২ ঘণ্টা বৈঠকের পর মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন যে, তার চিকিৎসা দরকার। কিন্তু কোথায় চিকিৎসা নেবেন সেটা এখনও ঠিক হয়নি।
প্রসঙ্গত, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রæয়ারিতে কারাগারে যান খালেদা জিয়া। এ দুই মামলায় তাকে ১৭ বছরের কারাদÐ দেওয়া হয়। ২৫ মাস পর চলতি বছরের ২৫ মার্চ দুর্নীতির দুই মামলার সাজা স্থগিত করে নির্বাহী আদেশে খালেদা জিয়াকে ৬ মাসের জামিন দেওয়া হয়। সে অনুযায়ী আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর তার সাজা স্থগিতাদেশের মেয়াদ শেষ হবে।




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, নির্বাহী সম্পাদক : শাহনেওয়াজ দুলাল, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে
প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]