ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা শনিবার ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০ ১১ আশ্বিন ১৪২৭
ই-পেপার শনিবার ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০

গাইবান্ধায় দুর্ভোগে বানভাসি মানুষ
সিরাজগঞ্জে বাড়ছে নদীভাঙন পানিবাহিত রোগ
সময়ের আলো ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ৫ আগস্ট, ২০২০, ১২:০০ এএম আপডেট: ০৫.০৮.২০২০ ৪:২৪ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 20

সিরাজগঞ্জে যমুনা নদীর পানি কমতে থাকায় নদী তীরবর্তী এলাকায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। এসব এলাকায় বাড়ছে পানিবাহিত রোগ। অন্যদিকে ব্রহ্মপুত্র ও ঘাঘটসহ গাইবান্ধার সবগুলো নদ-নদীর পানি এখনও বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে জেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও বন্যাকবলিত এলাকায় মানুষের ঘরবাড়ি থেকে এখনও পানি নেমে যায়নি। ফলে জেলার পানিবন্দি মানুষের দুর্ভোগ বেড়েই চলছে। এ ছাড়া আরও সাত জেলায় বন্যা স্থিতিশীল এবং আট জেলায় উন্নতি হয়েছে। আমাদের প্রতিনিধিদের পাঠানো খবরÑ
সিরাজগঞ্জ : যমুনার পানি কমতে শুরু করেছে। ফলে নদী তীরবর্তী এলাকায় দেখা দিয়েছে ভাঙন। সে সঙ্গে বন্যার্ত ও বাঁধে আশ্রয় নেওয়া মানুষের মধ্যে দেখা দিয়েছে পানিবাহিত রোগ। তবে এখনও বন্যার্তরা বাড়িতে যাওয়া শুরু করেনি। আবার কৃষকরা বন্যার পানিতে কাজে লাগাতে পাট জাক ও পাটের আঁশ ছাড়াতে ব্যস্ত সময় পার করছে। তৃতীয় দফায় ২৩ জুলাই থেকে পানি বাড়তে শুরু করে ২৮ জুলাই পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়। ২৯ জুলাই থেকে ৩১ জুলাই পর্যন্ত পানি কমতে থাকলেও পরবর্তী সময়ে ১ থেকে ৩ আগস্ট পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়। আবার মঙ্গলবার থেকে পানি কমতে শুরু করেছে। পানি কমতে শুরু করায় নদী তীরবর্তী এলাকা ও কাজিপুরের চরাঞ্চল, সিরাজগঞ্জ সদরের চরাঞ্চল ও চৌহালী উপজেলার চরাঞ্চলের ইউনিয়নগুলোর বিভিন্ন গ্রামে দেখা দিয়েছে ভাঙন। মঙ্গলবার সকালে যমুনার পানি সিরাজগঞ্জ পয়েন্টে রেকর্ড করা হয়েছে ১৩ দশমিক ৬৬ মিটার। গত ২৪ ঘণ্টায় ৯ সেন্টিমিটার কমে বিপদসীমার ৩১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। অন্যদিকে কাজিপুর পয়েন্টে রেকর্ড করা হয়েছে ১৫ দশমিক ৫১ মিটার, যা গত ২৪ ঘণ্টায় ৯ সেন্টিমিটার কমে বিপদসীমার ২৬ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারী প্রকৌশলী রণজিৎ কুমার সরকার জানান, গত তিনদিন বাড়ার পর আবারও পানি কমতে শুরু করছে। তবে চতুর্থ দফায় যমুনার পানি দ্রæত কমতে থাকায় বিভিন্ন এলাকায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে বন্যাকবলিত মানুষরা আতঙ্কের মধ্যে দিন পার করছে।
এদিকে ঘরবাড়ি থেকে পানি না নামায় দুর্ভোগ বেড়েই চলেছে বানভাসি মানুষের। বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ও বিভিন্ন উঁচু জায়গায় আশ্রয় নেওয়া মানুষ গবাদিপশুর সঙ্গে গাদাগাদি করে বসবাস করায় দেখা দিয়েছে নানা রোগবালাই। ডায়রিয়া, জ্বর, চর্মসহ ঠান্ডাজনিত রোগে ভুগতে দেখা গেছে অনেককেই। একদিকে যেমন আয়-রোজগার নেই, অন্যদিকে পানিবন্দি থাকায় সঠিকভাবে চিকিৎসাও করাতে পারছে না। এতে রোগ-বালাই নিয়েই তাদের কষ্টে দিন কাটাতে হচ্ছে।
গাইবান্ধা : গাইবান্ধায় বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও দুর্ভোগ কমেনি বানভাসি মানুষের। গরু-ছাগল, হাঁস, মুরগি নিয়ে চরম বিপাকে দিন কাটাচ্ছে তারা। এসব বানভাসি মানুষের মধ্যে বিশুদ্ধ পানি, খাবার ও স্যানিটেশনের সঙ্কট দেখা দিলেও ত্রাণ সহায়তা না পাওয়ার অভিযোগ বানভাসিদের। ব্রহ্মপুত্র ও ঘাঘটসহ জেলার সবগুলো নদ-নদীর পানি এখনও বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে জেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতি হলেও বন্যাকবলিত এলাকায় মানুষের ঘরবাড়ি থেকে এখনও পানি নেমে যায়নি। ফলে বাঁধসহ বিভিন্ন স্থানে আশ্রয় নেওয়া বন্যার্ত মানুষ তাদের গরু-ছাগল নিয়ে বাড়িতে ফিরে যেতে পারছে না। এদিকে চরাঞ্চলে কাঁচা ঘরবাড়ি দীর্ঘদিন পানিতে নিমজ্জিত থাকায় অধিকাংশ বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অন্যদিকে পানি কমতে থাকায় বন্যার্ত মানুষের মধ্যে হাত ও পায়ে চুলকানিসহ নানা ধরনের চর্মরোগ দেখা দিয়েছে।
৭ জেলায় বন্যা স্থিতিশীল, ৮ জেলায় উন্নতি
দেশের আট জেলায় বন্যা পরিস্থিতির ধীরে ধীরে উন্নতি হচ্ছে। অন্যদিকে সাত জেলায় স্থিতিশীল রয়েছে। মঙ্গলবার বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র আগামী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলেছে, মুন্সীগঞ্জ, ফরিদপুর, মাদারীপুর, চাঁদপুর, রাজবাড়ী, ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জ জেলার বন্যা পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকতে পারে। স্থিতিশীল থাকতে পারে ঢাকা সিটি করপোরেশন সংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতিও। অন্যদিকে কুড়িগ্রাম, বগুড়া, জামালপুর, টাঙ্গাইল, নওগাঁ, নাটোর, মানিকগঞ্জ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে। পূর্বাভাসে আরও বলা হয়, ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদ-নদীর পানি কমছে, যা আগামী ৭২ ঘণ্টা পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। গঙ্গা-পদ্মা নদীর পানি স্থিতিশীল, যা আগামী ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। কুশিয়ারা ছাড়া উত্তর-পূর্বাঞ্চলের উজানে মেঘনা অববাহিকার প্রধান নদীর পানি কমছে, যা আগামী ৪৮ ঘণ্টা পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। রাজধানী ঢাকার আশপাশের নদীর পানি স্থিতিশীল, যা আগামী ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে।






সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, নির্বাহী সম্পাদক : শাহনেওয়াজ দুলাল, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে
প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]