ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা বৃহস্পতিবার ১ অক্টোবর ২০২০ ১৬ আশ্বিন ১৪২৭
ই-পেপার বৃহস্পতিবার ১ অক্টোবর ২০২০

মাস্ক ব্যবহারে উদাসীনতা
স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা জরুরি
প্রকাশ: রোববার, ৯ আগস্ট, ২০২০, ১২:০০ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 22

দেশে করোনাকাল প্রায় ছয় মাস চলছে। বিশ^জুড়ে এর ভয়াবহ প্রভাব সম্পর্কে সবাই সম্যক ধারণা রাখেন। ইতোমধ্যে করোনার আগ্রাসনে বিশে^ ৭ লাখের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। আক্রান্তের সংখ্যা ২ কোটি ছুঁই ছুঁই। বিশ^ জুড়ে প্রতিদিন এর সংক্রমণ বেড়েই চলছে। আমাদের দেশেও এর আগ্রাসনে মৃত্যুর সংখ্যা ৩ হাজার ছাড়িয়েছে। আক্রান্তের সংখ্যা ২ লাখ ৫০ হাজার অতিক্রম করেছে। সূচনালগ্নে দেশে যখন কঠোর লকডাউন চলছিল তখন এর সংক্রমণ ও মৃত্যুর সংখ্যা দেখে অনেকেই মন্তব্য করেছেন, এভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারলে করোনাভাইরাস দেশে ব্যাপক হারে প্রভাব বিস্তার করতে পারবে না। বিষয়টির মধ্যে সত্য ছিল। আমরা যদি লকডাউন বা স্বাস্থ্য সংস্থার স্বাস্থ্যবিি মেনে চলতে পারতাম তা হলে হয়তো মহামারি আকারে এ সংক্রমণ নাও হতে পারত। আজ দেশবাসী যে শঙ্কায় দিনযাপন করছে তা হয়তো করতে হতো না। প্রথমত দেশের কিছু মানুষ স্বাস্থ্যবিধির তোয়াক্কা করেনি। করোনাভাইরাস একটি ছোঁয়াছে রোগ। কাউকে ক্ষমা করে না। না হলে বিশে^র ধনী দেশগুলোর মৃত্যু ও সংক্রমণের পরিসংখ্যানের দিকে তাকালে তা সহজেই অনুমান করা যায়। বরং আশা কথা, আমাদের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলো জনবহুল হওয়া সত্তে¡ও আক্রান্ত ও মৃত্যু আনুপাতিক হারে কম। কেন আমরা এর নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারিনি, এর জন্য দায়ী কে? ৮ মার্চ প্রথম করোনাভাইরাস শনাক্ত হওয়ার পর সরকার এর ভয়াবহ সংক্রমণ রোধে গণসচেতনতা, নাগরিক করণীয় নিয়ে যে কার্যক্রম শুরু করেছিল তা যদি আমরা নিজেদের সুরক্ষার জন্য মেনে চলতে পারতাম, তা হলে দেশে ভাইরাসটি নিয়ন্ত্রণে থাকত। সরকার বিগত সময়ে দেশের মানুষকে প্রতিনিয়ত স্মরণ করিয়ে দিয়েছে, বিশ^ স্বাস্থ্য সংস্থার বিধি মোতাবেক চলাচলের জন্য। বারবার বলা হয়েছে, এখনও এ ভাইরাসটির কোনো ওষুধ তৈরি হয়নি। এ থেকে নিজকে সুরক্ষা একমাত্র উপায় মাস্ক ব্যবহার, ঘন ঘন সাবান দিয়ে ২০ সেকেন্ড হাত ধোয়া, গরম পানির ভ্যাপ নেওয়া, বেশি করে ভিটামিন-এ এবং সি জাতীয় খাদ্যগ্রহণ করা। সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে মাস্ক ব্যবহার করার ওপর। বিশ^ স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, মাস্ক ৪০ শতাংশ করোনাভাইরাস প্রতিরোধ করে থাকে। অথচ এই গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশটি আমাদের দেশে সবচেয়ে বেশি লঙ্ঘিত হচ্ছে। নাগরিক অবহেলা, অসচেতনতা, দেশের অনেক মানুষ করোনা প্রতিরোধ সচেতনতার পরিচয় দেয়নি বা দিচ্ছে না। ফলে নিজের সুরক্ষা তো হচ্ছেই না, বরং পরিবার এবং সমাজকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দিচ্ছে।
দৈনিক সময়ের আলোর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাসস্থানের বাইরে মাস্ক পরিধান বাধ্যতামূলক করে ২১ জুলাই আদেশ জারি করে সরকার। এই আদেশ বাস্তবায়নে প্রয়োজনে আইন প্রয়োগের কথা বলা হলেও মাঠে তা দেখা যাচ্ছে না। ফলে সরকারি নির্দেশনার এতদিন পরও করোনাভাইরাস সংক্রমণরোধে মাস্ক ব্যবহারের তোয়াক্কা করছে না রাজধানীর অনেকেই। দিন যত যাচ্ছে মাস্ক পরার ক্ষেত্রে অনীহা তৈরি হয়েছে নগরবাসীর মধ্যে। যেখানে কার্যকর পদক্ষেপের অভাবে উপেক্ষিত হচ্ছে বিশ^ স্বাস্থ্য সংস্থার গাইডলাইন এবং স্বাস্থ্য অধিদফতরের নির্দেশনা। আদেশ কীভাবে বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা হবে, সে বিষয়েও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে পরিপত্রে।
মাস্ক ব্যবহারে অনীহা এটা ভালো লক্ষণ নয়। মহামারি করোনাভাইরাস প্রতিরোধে মাস্ক এযাবৎকাল একমাত্র বা প্রধান প্রতিরোধ হিসেবে গণ্য করা হয় । অথচ মাস্ক ব্যবহারে অবহেলা নাগরিক কর্তব্য হতে পারে না। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু প্রজ্ঞাপন দিলেই কাজ হয় না। যে সংখ্যক মানুষ মাস্ক ব্যবহার করছে তা নিজস্ব সচেতনতা থেকে। যারা ব্যবহার করছে না, তা মূলত সংশ্লিষ্টদের ব্যর্থতা। মহামারি প্রতিরোধে এ ব্যাপারে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে যুক্ত করলে দ্রæত সুফল পাওয়া সম্ভব। মূলত ভাইরাস সংক্রমণ ঠেকাতে মাস্ক ব্যবহার ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার বিকল্প নেই। বিগত ৬ মাস এত প্রচার, জনসচেতনতা, নাগরিক কর্তব্যের কথা বলা হলেও মাস্কের মতো জরুরি ভাইরাস প্রতিরোধে আগ্রহী হয়ে ওঠেনি কিছু সংখ্যক মানুষ। এটা দেশের জন্য শুভ নয়। বিষয়টি অবশ্যই সংশ্লিষ্টদের ভাবতে হবে। দেশের মানুষকে ভাবতে হবে করোনাভাইরাস রোধে মাস্ক ব্যবহারের বিকল্প নেই।





সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, নির্বাহী সম্পাদক : শাহনেওয়াজ দুলাল, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে
প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]