ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা রোববার ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০ ১২ আশ্বিন ১৪২৭
ই-পেপার রোববার ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০

গানগুলো গেঁথে থাকবে হৃদয়ে
শাহনেওয়াজ
প্রকাশ: সোমবার, ১০ আগস্ট, ২০২০, ১০:০৬ পিএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 24

কেউ কোনোদিন আমারে তো কথা দিল না, গানটির মতো অসংখ্য গানের সুরের জাদুকর সুরকার আলাউদ্দীন আলী আর নেই। কিন্তু তার অসংখ্য গানের সুরে তিনি বেঁচে আছেন। তার সুরে বাংলাদেশের এমন কোনো শিল্পী নেই যে কণ্ঠে সুর তোলেননি। কিংবদন্তি শিল্পী রুনা লায়লা, সাবিনা ইয়াসমিন, শাহনাজ রহমতুল্লাহ, সৈয়দ আবদুল হাদী, সুবীর নন্দী,এন্ড্রু কিশোর থেকে শুরু পরবর্তী প্রজন্মের শিল্পীরাও তার সুর কণ্ঠে তুলে নিয়ে নিজেদের আসন প্রতিষ্ঠিত করেছেন। এর মধ্যে সামিনা চৌধুরী, শাকিলা জাফর, আবিদা সুলতানা, রিজিয়া পারভীনসহ আরও অনেক শিল্পী রয়েছেন।
চলচ্চিত্র থেকে শুরু করে দেশাত্মবোধক গানের অসংখ্য সুরের ¯্রষ্টা আলাউদ্দীন আলীর গানের সংখ্যা এখন বাংলাদেশে সংগীত জগতে রেকর্ড তৈরি করেছে। রুনা লায়লার স্বাধীনতা দিবসের একটি গানের অনবদ্য সুর শ্রোতাকে মুগ্ধ করে। আর সেই গানটি হচ্ছে, ‘আমায় গেঁথে দাও না মাগো একটি পলাশ ফুলের মালা’। একইভাবে মানুষের মন জয় করে শাহনাজ রহমতুল্লাহর গাওয়া ‘প্রথম বাংলাদেশ আমার শেষ বাংলাদেশ’, সৈয়দ আবদুল হাদীর গাওয়া ‘সূর্যোদয়ে তুমি সূর্যাস্তে তুমি ও আমার বাংলাদেশ’।
একটি গান চলচ্চিত্রকে কতদূর এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে আর চলচ্চিত্রকে জনপ্রিয়তার তুঙ্গে নিয়ে যেতে পারে তার জ¦লন্ত দৃষ্টান্ত ‘হায়রে কপালমন্দ চোখ থাকিতে অন্ধ’ গানটি। আর এই গানের সুর¯্রষ্টা আলাউদ্দীন আলী। একইভাবে ‘আছেন আমার মোক্তার আছেন আমার বারিস্টার’ গানটি জনপ্রিয়তার তুঙ্গে ওঠে। সৈয়দ আবদুল হাদীর গাওয়া আরও একটি গান ‘একবার যদি কেউ ভালোবাসত’।
মিতালী মুখার্জির গাওয়া ‘ভালোবাসা যত বড় জীবন তত বড় নয়’। গানটি গাওয়ার পর শিল্পী নিজেই আবেগে আপ্লুত হয়ে যান বলে একাধিক সূত্রে জানা গেছে। গানটি পরে সবার কাছে এক গ্রহণযোগ্যতার দাবি রেখেছে। কনকচাঁপার গাওয়া ‘কিছু কিছু মানুষের জীবনে ভালোবাসা চাওয়াটাই ভুল’। গানটির সুরের ¯্রষ্টা আলাউদ্দীন আলী বেশ প্রশংসিত হন কয়েকজন সুরকারের কাছ থেকে। এর মধ্যে অন্যতম হলেন আরেক প্রথিতযশা সুরকার প্রয়াত আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল।
সাম্প্রতিক সময়ে একজন রিকশাওয়ালার মুখে শোনা যায় ‘আমার মতো এত সুখী’ গানটি। এই গানটি এত দ্রæত সবার প্রাণে সাড়া জাগাবে সে কথা স্বয়ং আলাউদ্দীন আলীও বিশ^াস করতে পারেননি বলে তিনি এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন।
সাবিনা ইয়াসমিন অসংখ্য গান গেয়েছেন বিভিন্ন সুরকারের। কিন্তু যখন আলাউদ্দীন আলীর সুরে গান গাইতেন তখন নতুনভাবে প্রস্তুতি নিতেন বলে জানিয়েছেন অন্য এক সাক্ষাৎকারে। সাবিনা ইয়াসমিন গাইলেন, ‘এ জীবন তোমাকে দিলাম’। সুরটি আলাউদ্দীন আলীর। এন্ড্রু কিশোরের গাওয়া ‘ভেঙেছে পিঞ্জর মেলেছে ডানা’। সুরের জাদুকরী কী তা শিল্পী উপলব্ধি করেছিলেন।
শাহনাজ রহমতুল্লাহ গেয়েছিলেন ‘যে ছিল দৃষ্টির সীমানায়’, ‘পারি না ভুলে যেতে’। তারই ভাই সুদর্শন নায়ক জাফর ইকবাল গেয়েছিলেন, ‘সুখে থাকো ও আমার নন্দিনী’, ‘হয় যদি বদনাম হোক আরও’। গান দুটি শ্রোতাপ্রিয়তা পায় খুব অল্প সময়ে। রুনা লায়লার গাওয়া একটা চটুল গান ‘বন্ধু তিনদিন তোর বাড়িত গেলাম’ সুরটি পরীক্ষামূলক বলে অভিহিত করেছেন অনেকে।
এ কথা আর বলার অপেক্ষা রাখে না, আলাউদ্দীন আলী সুরের ভেলায় ভেসেছেন। পরিবেশ ও গানের বাণীর ওপর নির্ভর করে সুর নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছেন। অর্কেস্ট্রা নিয়ে খুব মনোযোগ না দিয়ে দেশীয় যন্ত্রাদির ওপর বেশি নির্ভর করেছেন। যে কারণে তার সুরের বৈচিত্র্য নিয়ে আগামীতে গবেষণা হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।





সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, নির্বাহী সম্পাদক : শাহনেওয়াজ দুলাল, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে
প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]