ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা বৃহস্পতিবার ১ অক্টোবর ২০২০ ১৬ আশ্বিন ১৪২৭
ই-পেপার বৃহস্পতিবার ১ অক্টোবর ২০২০

সঞ্চয়বিমুখ হয়ে পড়ছে মানুষ
অর্থনৈতিক কর্মকান্ড সচল করার উদ্যোগ নিন
প্রকাশ: সোমবার, ১০ আগস্ট, ২০২০, ১০:১৭ পিএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 22

গত ৮ মার্চ বাংলাদেশে করোনাভাইরাস শনাক্ত হওয়ার পর সব শ্রেণির মানুষের আয় কমে গেছে। তিন মাসব্যাপী লাগাতার লকডাউনের ফলে ঘরবন্দি থাকায় যেকোনো উৎপাদনশীল কর্মকাÐ স্থবির হয়ে পড়ে। শুধু যে আমাদের দেশে এমনটি ঘটেছে তা নয়, করোনাভাইরাসের আগ্রাসনের ধাক্কা বিশ^^ অর্থনীতিকে অচল করে দিয়েছে। আমাদের দেশের চেয়ে বিশে^^র ধনী দেশগুলোর চেহারা আরও ভয়াবহ। এক পরিসংখ্যান বলছে, আমেরিকার মতো দেশে প্রাথমিক হিসাবে বেকার হয়েছে ১ কোটির বেশি মানুষ। অর্থাৎ উৎপাদন নেই বলে বেকার বেড়েছে। উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে আমাদের দেশেও এর প্রতিফলন কম নয়। করোনা মোকাবিলায় সরকারের তরফ থেকে বিভিন্ন খাতে প্রণোদনা দেওয়া হলেও নি¤œ আয়ের মানুষগুলো আর ঘুরে দাঁড়াতে পারছে না। রাজধানীকেন্দ্রিক মধ্যবিত্ত ও নি¤œমধ্যবিত্তের মানুষ করোনাকালে বেশি বিপাকে পড়েছে। করোনাভাইরাস মানুষকে আয়হীন করেছে। বেকার বৃদ্ধি, চাকরি থাকলেও অনেকে বেতনহীন কয়েক মাস যাবৎ। এ অবস্থায় সংসার চালানোই দুঃসহ। এমনিতে মধ্যবিত্ত শ্রেণি উদ্বৃত্ত অর্থ দ্বারা সঞ্চয়পত্র কিনে থাকে। ব্যাংকে ডিপিএসসহ বিভিন্ন সেভিংস অ্যাকাউন্টস তাদের অধিক। গেল কয়েক মাসে করোনাভাইরাস এই শ্রেণিকে সে পথে এগোতে দেয়নি। অর্থাৎ করোনাকাল সঞ্চয়বিমুখ করেছে মধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্তের মানুষগুলোকে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ব্যাংকে টাকা না রাখার প্রবণতা। এই শ্রেণির হাতে টাকা কমে গেছে। যা কিছু আছে তা ব্যাংকে না রেখে নিজেদের কাছেই রাখছে। করোনাকাল কতদিন চলবে এ শঙ্কায় রয়েছে তারা। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, এসব লক্ষণ অর্থনীতির জন্য শুভ নয়। মানুষ সঞ্চয়বিমুখ হয়ে পড়লে এবং ব্যাংক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলে দেশের অর্থনীতিতে বিরূপ প্রভাব পড়তে বাধ্য। সঞ্চয় ও ব্যাংক থেকে মানুষ সরে আসছে নিরুপায় হয়ে। করোনায় কর্মহীনতা, আয়হীনতা মানুষকে ভয়ঙ্কর অবস্থার মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। কেউ কেউ সঞ্চিত টাকা ভেঙে সংসার চালাচ্ছে, কেউ ধারদেনায় চলছে। অথচ দেশের অর্থনীতিতে সঞ্চয়পত্র এবং ব্যাংক আমানতের বড় ভ‚মিকা রয়েছে। এসব জায়গা যদি দুর্বল হয়, অর্থনীতি আরও বিপাকে পড়বে।
দৈনিক সময়ের আলোর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাতীয় সঞ্চয় অধিদফতর এক তথ্যে বলেছে, এক বছরের ব্যবধানে সঞ্চয়পত্র বিক্রি কমেছে ৩৫ হাজার ৫১১ কোটি টাকার। শতকরা হিসাবে ৭১ শতাংশ। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছিল ৪৯ হাজার ৯৩৯ কোটি টাকার। বিদায়ি অর্থবছর ২০১৯-২০ সালে বিক্রি হয়েছে ১৪ হাজার ৪২৮ কোটি টাকার। এমনিতেই ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটে সুদের হার কমিয়ে দিয়ে সঞ্চয়পত্রের গতি কিছুটা টেনে ধরা হয়েছে। তখন থেকেই মানুষ সঞ্চয়পত্রের প্রতি আগ্রহ হারাতে থাকে। এর মধ্যে করোনার সঙ্কট এসে সেখান থেকে মানুষকে আরও সরিয়ে নিচ্ছে।
মানুষ একদিকে যেমন সঞ্চয়পত্র থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে, অন্যদিকে ব্যাংকবিমুখ প্রবণতা লক্ষ করা যাচ্ছে। মধ্যবিত্ত ও সাধারণ মানুষ এখন ব্যাংকে টাকা জমানোর পরিবর্তে নিজের কাছে রাখতে নিরাপদবোধ করছে। ব্যাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, বিগত ছয় মাসে ব্যাংকবহিভর্‚ত জনগণের হাতে অর্থের পরিমাণ প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা। কারোনকাল কতদিন দীর্ঘায়িত হবে তা আপাতত মানুষ জানে না। তার জন্য মানুষ শঙ্কিত। এ অবস্থা নিরসনে সরকারকেই প্রধান ভ‚মিকা রাখতে হবে। কর্মহীন মানুষগুলোর কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা অতীব জরুরি। বিষয়টি দ্রæত না করতে পারলে সব ক্ষেত্রেই জটিলতা বাড়বে। চাকরি অথবা সুদহীন ঋণ দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে, যাতে তারা ন্যূনতমভাবে চলতে পারে। মোদ্দা কথা, সঞ্চয়পত্রের প্রতি মানুষকে আকৃষ্ট করার জন্য সুদের হার বৃদ্ধির বিষয়টিও বিবেচনায় রাখতে হবে। মানুষ সঞ্চয়পত্র থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে তা সঞ্চয়পত্র কেনার হার কমার দিকে তাকালেই বোঝা যায়। সংশ্লিষ্টদের মনে রাখতে হবে, মানুষ ব্যাংকবিমুখ হলে ও ব্যাংক আমানত কম থাকলে দেশের অর্থনীতির ওপরই নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। ব্যাংক আমানত কম হলে ব্যাংকগুলো ঋণ দিতে পারবে না। উদ্যোক্তারা ঋণ না পেলে বিনিয়োগ কমে যাবে। দেশে বেকার আরও বাড়বে। কর্মহীন মানুষের কর্মসংস্থান নিয়ে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া সময়ের দাবি। সর্বোপরি অর্থনৈতিক কর্মকাÐ সচল করার উদ্যোগ গ্রহণ জরুরি।





সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, নির্বাহী সম্পাদক : শাহনেওয়াজ দুলাল, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে
প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]