ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা সোমবার ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০ ১৩ আশ্বিন ১৪২৭
ই-পেপার সোমবার ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০

আইনি পরামর্শ চেয়ে ওসি প্রদীপের ফোনালাপ ফাঁস
সিনহা হত্যার পরই বুঝে যায় তার দিন শেষ
জসীম চৌধুরী সবুজ চট্টগ্রাম
প্রকাশ: সোমবার, ১০ আগস্ট, ২০২০, ১০:৪০ পিএম আপডেট: ০৯.০৮.২০২০ ১১:১৪ পিএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 297

টেকনাফ থানার সাবেক ওসি প্রদীপ কুমার দাশ কথায় কথায় মানুষ মারার হুমকি দিতেন। প্রকাশ্য সমাবেশে তিনি হুমকি দিতেন মেরিন ড্রাইভে নিয়ে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের। কঠোর ব্যবস্থা মানেই ঠান্ডা মাথায় গুলি করে হত্যা। তার দায়িত্ব পালনকালীন সময়ে তিনি ‘বন্দুকযুদ্ধের’ নামে হত্যা করেছেন অনেক নিরীহ নিরাপরাধ মানুষকে। ক্রসফায়ারের ভয়ভীতি দেখিয়ে টাকা আদায়ের নেশায় হয়ে উঠেছিলেন উন্মত্ত। টেকনাফ ছাড়িয়ে পাশের থানা উখিয়া থেকেও লোকজন ধরে এনে বড় অঙ্কের টাকা আদায় করতেন। ইয়াবা ব্যবসায়ী বলে চিহ্নিত করে মারা হতো প্রতিপক্ষের এসাইনমেন্ট নিয়ে। কোনো জবাবদিহি করতে হয়নি বলে তিনি হয়ে উঠেছিলেন বেপরোয়া। কিন্তু কথায় আছে চোরের দশ দিন গেরস্থের এক দিন। সাবেক সেনা কর্মকর্তা মেজর সিনহা মো. রাশেদ খানকে খুন করার পরই তিনি বুঝে গিয়েছিলেন তার দিন শেষ। ‘মহাবিপদের’ আশঙ্কায় তিনি হয়ে পড়েন বিচলিত। প্রতিটি হত্যাকাÐের পরে ওসি প্রদীপ একটি গল্পের পাÐুলিপি সাজাতেন এজাহারে। কিন্তু সিনহা সাবেক সেনা কর্মকর্তা জানার পর গল্পের প্লট কীভাবে সাজাবেন তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় তার ঘুম হারাম হয়ে যায়। তাই এই ‘মহাবিপদ’ থেকে বাঁচতে কী করা যায় সে জন্য তিনি নিয়েছেন আইনি পরামর্শ। সাবেক এক এসপির সঙ্গে এ নিয়ে করেন দীর্ঘ আলাপ। তার সেই ফোনালাপের অডিও ফাঁস হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরালও হয়েছে বিষয়টি।
এই কথোপকথনে সুস্পষ্ট হচ্ছে যে, ভ্রমণভিত্তিক ভিডিও ডকুমেন্টারি তৈরি করতে গেলে ঠান্ডা মাথায় রাশেদকে হত্যা করা হয় এবং পুলিশের দায়েরকৃত মামলা সম্পূর্ণ মিথ্যার ওপর ভিত্তি করে করা হয়েছে। ওসি প্রদীপ ও পরামর্শদাতার কথোপকথন তুলে ধরা হলোÑ
পরামর্শদাতা : হ্যালো।
ওসি প্রদীপ : স্যার আমি ওসি টেকনাফ প্রদীপ, স্যার।
পরামর্শদাতা : হ্যাঁ কী খবর প্রদীপ কোরবানির গরুর মধ্যে কী...
ওসি প্রদীপ : স্যার একটা মহাবিপদে পড়ছি, আপনার সাহায্য দরকার।
পরামর্শদাতা : বল, বল।
ওসি প্রদীপ : এখন আমরা স্যার একটা ১৫৩, ১৮৬ ও ৩০৭-এ মামলা নিছি স্যার।
পরামর্শদাতা : ওয়ান ফিফটি থ্রি।
ওসি প্রদীপ : স্যার থ্রি ফিফটি থ্রি।
পরামর্শদাতা : থ্রি ফিফটি থ্রি সরকারি কর্মচারী আরেকটা হচ্ছে।
ওসি প্রদীপ : আরেকটা হচ্ছে ১৮৬ পুলিশের কাজে বাধা।
পরামর্শদাতা : আর্মিদেরকে ইন্টিমেশন দিছ কি না?
ওসি প্রদীপ : এরপরে স্যার জানাইছি, আর্মি থেকে লোকজন আসছে।
পরামর্শদাতা : এ কি আর্মির নাকি?
ওসি প্রদীপ : স্যার অবসরপ্রাপ্ত।
পরামর্শদাতা : ও তাইলে এত ডরের কী আছে?
ওসি প্রদীপ : এখন স্যার ও মারা গেছে, ইনজিওরড অবস্থায় হাসপাতালে মারা গেছে।
পরামর্শদাতা : এর সঙ্গে যে লোকটা ছিল ওইটা কী?
ওসি প্রদীপ : ওইটা স্যার একটা ছাত্র, ইউনিভার্সিটির। সে বলছে যে তারা রাতের বেলা পাহাড়ের সিন নেওয়ার জন্য আসছে।
ওসি প্রদীপ : ওরা নাকি ইউটিউবের একটা চ্যানেল করার জন্য আসছে ভ্রমণের ওপরে।
পরামর্শদাতা : গাড়িওয়ালারে অ্যারেস্ট করছ কি না?
ওসি প্রদীপ : স্যার গাড়িচালক তো ও নিজেই।
পরামর্শদাতা : ও আচ্ছা আচ্ছা, গাড়ি জব্দ করছ কি না?
ওসি প্রদীপ : জি স্যার করছি।
পরামর্শদাতা : আচ্ছা তোমরা যে বাধা দিছ, ওভারটেক করে গেছে, এটার সাক্ষী আছে কি না?
ওসি প্রদীপ : সাক্ষী আছে স্যার।
পরামর্শদাতা : সাক্ষী থাকলে মামলা নিতে বল।
ওসি প্রদীপ : মামলা নিছি স্যার ১৮৬, ৩৫৩, ৩০৭।
পরামর্শদাতা : প্রেয়ার দিয়া দিবা যে মার্ডার হইয়া গেছে।
ওসি প্রদীপ : আরেকটা কেস দিতে হবে না স্যার?
পরামর্শদাতা : আরেকটা কেস নিবা?
ওসি প্রদীপ : আরেকটা কেস আমরা কি নিব? ওসি প্রদীপ : ও যে সদর হাসপাতালে মারা গেছে তাদের একটা কেস নিয়ে নিব স্যার?
পরামর্শদাতা : আমার তো মনে হয় সদর থানার একটা কেস নিলে ভালো হয়।
ওসি প্রদীপ : ভালো হবে না স্যার?
পরামর্শদাতা : আমার মনে হয় ভালো হয়। আর্মির লোক তো পরে টানাটানি করে কি না!
ওসি প্রদীপ : নাহলে তো স্যার ওরা স্যার লাশ নিয়ে গেলে পুলিশের বিরুদ্ধে মামলা করতে পারে। ওসি প্রদীপ : আমরা একটা মামলা করে ফেললে ওই মামলাটা ট্যাগ করা যাবে।
পরামর্শদাতা : তাহলে তোমরা একটা কাজ কর না, ৩০৪-এও একটা মামলা নিয়া নিতে পার।
ওসি প্রদীপ : ৩০৪-এ আমরা কী লিখব স্যার?
পরামর্শদাতা : লেখবা যে হাউএভার মারা গেছিল। এ কারণে মামলা করা হলো। তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
ওসি প্রদীপ : স্যার ৩০৭-এ আসামির কলামে কী লিখব?
পরামর্শদাতা : না আরেকটা সেপারেট মামলার জন্য বলছি। যেহেতু মারা গেছে তাই এ মামলা করা হলো।
ওসি প্রদীপ : স্যার মামলা নিব যে আসামির কলামে নাম লিখতে হবে না?
পরামর্শদাতা : পুলিশে গুলি করছিল, বুজছি তো। এই এজাহারটা পুরা লিখবা, যে এই এই কারণে তাকে অবস্ট্রাকশন করে আটকানো হইছিল। আটকানো হওয়ার পরে এই মামলা রুজু হইছে। হাসপাতালে পাঠানোর পরে সেখানে সে মারা গেছে। যেহেতু মানুষ মারা গেছে তাই তদন্ত সাপেক্ষে মামলা রুজু করা হলো, ৩০৪-এ।
ওসি প্রদীপ : আসামি অজ্ঞাত।
পরামর্শদাতা : এইটা করলে কোর্টে এইটা ট্যাগ হয়ে যাবে।
ওসি প্রদীপ : স্যার ৩০৪ আমরা নিব নাকি সেখানে ডিউটি থেকে নিয়ে নিব?
পরামর্শদাতা : সদর থানায় হইব নাকি মামলা?
ওসি প্রদীপ : সবকিছু লেখার পরে লেখব যে মারা গেছে স্যার।
পরামর্শদাতা : তোমার এজাহারটা হুবহু লেইখা যাইবা, যে এই এই মামলার আসামিকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে পাঠানো হয়েছিল। যেহেতু মারা গেছে মামলা রুজু করা হলো। তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
ওসি প্রদীপ : সবকিছু লিখে লাস্টে এটা লিখব।
পরামর্শদাতা : যেহেতু মারা গেছে মামলা রুজু করা হলো। তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হোক।






সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, নির্বাহী সম্পাদক : শাহনেওয়াজ দুলাল, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে
প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]