ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা শনিবার ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০ ১১ আশ্বিন ১৪২৭
ই-পেপার শনিবার ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০

ফুটবলে ‘মহাগুরুত্বপূর্ণ’ এক সোমবার
ক্রীড়া প্রতিবেদক
প্রকাশ: সোমবার, ১০ আগস্ট, ২০২০, ১১:৪০ পিএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 17

বিশ^কাপ আর এশিয়ান কাপের যৌথ বাছাইয়ে সামনে রেখে জাতীয় দলের যে ক্যাম্প আয়োজন করেছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে), করোনাভাইরাসের ভয়াল থাবায় সেই ক্যাম্পের বেহাল দশা। ক্যাম্পের জন্য ৩৬ জনের স্কোয়াড ঘোষণা করে বাফুফে। তবে তিন দফায় ক্যাম্পে যোগ দেওয়ার তালিকায় ছিলেন ৩১ ফুটবলার, তাদের ১৮ জনই করোনায় আক্রান্ত! একজন জ্বরে ভুগছেন। আপাতত ১২ জন ফিট আছেন। কিন্তু আদৌ তারা ফিট কি না, প্রথম দুই দফার ২৪ জনের মধ্যে পজিটিভ হওয়া ১৮ জন আদৌ করোনায় আক্রান্ত কি না, সেটা নিয়ে সংশয়ের অবকাশ রয়েছে যথেষ্টই।
ক্যাম্পে ডাক পাওয়া ফুটবলারদের করোনা পরীক্ষা নিয়ে বাফুফের অব্যবস্থাপনা এক কথায় বিস্ময়ের জন্ম দিয়েছে। দ্বিধাগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন ফুটবলাররাও। ব্যক্তিগত উদ্যোগে করোনা পরীক্ষা করিয়ে তাদের ক্যাম্পে যোগ দেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছিল বাফুফে। সেই নির্দেশনা মেনেই কাজ করেছেন সোহেল-টুটুল-শহিদুলরা। নিজ উদ্যোগে করা পরীক্ষায় তাদের দেহে করোনার অস্তিত্ব ছিল না। কিন্তু রিপোর্টিং করার দিনে বাফুফে যে পরীক্ষা করিয়েছে তাতে গণহারে পজিটিভ এসেছে। সবাই এখন আতঙ্কিত। শুরু হতে না হতেই স্থবির হয়ে পড়েছে ক্যাম্পের কার্যক্রম।
পরিস্থিতি বেগতিক দেখে এবং সার্বিক কার্যক্রমে গরমিল খুঁজে পেয়ে ফুটবলারদের নতুন করে করোনা পরীক্ষার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ জন্য কারা করোনায় আক্রান্ত এবং কারা করোনামুক্ত, সেই বাছ-বিচার না করেই তালিকায় থাকা সব ফুটবলারকে ক্যাম্পে যোগ দিতে বলেছে বাফুফে। সংখ্যাটা মূলত ৩১। সম্প্রতি চোট থেকে সেরে ওঠায় আপাতত চুক্তিতে থাকা তিন ফুটবলারকে ক্যাম্পে যোগ দিতে নিষেধ করেছে বসুন্ধরা কিংস। বাকি ৩৩ জনের দুজনÑ অধিনায়ক জামাল ভ‚ঁইয়া আছেন ডেনমার্কে আর ‘আনকোড়া’ কাজী তারিক রায়হান আছেন ফিনল্যান্ডে। পরবর্তীতে তারা ক্যাম্পে যোগ দেবেন।
আপাতত তাদের নিয়ে কোনো মাথাব্যথা নেই বাফুফের। দেশের ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটির ভাবনার সবটা জুড়ে এখন ক্যাম্পে যোগ দেওয়া ৩০ ফুটবলার। যাদের ‘আজ সোমবার’ দুটো হাসপাতালে করোনা পরীক্ষা করানো হবে। অর্থাৎ একই দিনে দুটো ভিন্ন জায়গায় পরীক্ষার জন্য নমুনা দেবেন ফুটবলাররা। দুই জায়গা থেকে প্রাপ্ত ফলাফল মিলিয়ে দেখে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছে বাফুফে। দুটো পরীক্ষায় যারা পজিটিভ ধরা পড়বেন, তাদের জন্য আইসোলেশনের ব্যবস্থা করা হবে। ফল ভিন্ন হলে তিন দিন পর তাদের আবার পরীক্ষা করানো হবে এবং যারা দুটো পরীক্ষাতেই নেগেটিভ প্রমাণিত হবেন তাদের নিয়ে শুরু হবে অনুশীলন কার্যক্রম।
এই কার্যক্রম কতটা গতি পাবে, ক্যাম্পের সার্বিক চিত্র কেমন হবে, সেটা পুরোপুরিই নির্ভর করছে আজকের দিনটার ওপর। আজ সোমবার, বস্তুতই এই দিনটা বাংলাদেশের ফুটবলে ‘মহাগুরুপূর্ণ’ হয়ে উঠেছে। সবার দৃষ্টি নিবন্ধ থাকছে দিনটার দিকে। মাতৃভ‚মি ইংল্যান্ড থেকে বিশেষ দৃষ্টি রাখবেন জাতীয় দলের প্রধান কোচ জেমি ডে। তার বিশ^াস এই দিনটা স্বস্তির বার্তা নিয়েই আসবে। এক সংবাদ মাধ্যমকে তিনি বলেছেন, ‘সোমবার দিনটা মহাগুরুত্বপূর্ণ। তবে আমার বিশ^াস স্বস্তির খবরই পাব। আমি মনে করি না যে ১৮ জনই আবার পজিটিভ হবে।’
পজিটিভ না হলে ভালো। কিন্তু পজিটিভ হলে তখন কী হবে? জাতীয় দল কমিটির চেয়ারম্যান এবং বাফুফের সহসভাপতি কাজী নাবিল আহমেদ আগেই খানিকটা আভাস দিয়ে রেখেছেন এই বলে, ‘রিপ্লেসমেন্ট যদি দরকার হয় তিন-চারজন খেলোয়াড়ের, সেটাও বিবেচনাও আছে আমাদের।’ কিন্তু নেগেটিভ-পজিটিভের এই ভজঘটের মধ্যে কোচ জেমির ভাবনা কিছুটা ভিন্ন। হাতে পর্যাপ্ত সময় থাকায় এখনই বিকল্প খেলোয়াড় নিয়ে ভাবতে চান না তিনি, ‘এখন যদি আমি নতুন ১৮ জনকে ডাকি এবং তাদেরও করোনা পজিটিভ হয়, তাহলে একই সঙ্কট থাকবে। তাই সেরাদের তৈরি করার জন্যই আমাকে অপেক্ষা করতে হবে।’
এদিকে সংশয় জেগেছে জামাল আর তারিককে ঠিক সময়ে ক্যাম্পে পাওয়া নিয়েও। কারণ ফিনল্যান্ড আর ডেনমার্ক থেকে অন্য দেশে ভ্রমণে বিধিনিষেধ আছে। বিশেষ করে ডেনমার্কে, সেখানেই থাকেন জামাল। এই মিডফিল্ডারের ক্যাম্পে যোগ দেওয়ার প্রসঙ্গে দলীয় ম্যানেজার সত্যজিৎ দাস রূপু বলেছেন, ‘আমরা যতটুকু জানতে পেরেছি তাতে ১ সেপ্টেম্বর থেকে ডেনমার্কে সরকার তাদের নাগরিকদের অন্য দেশে ভ্রমণের কড়াকড়ি শিথিল করবে। ফ্লাইট চালু হলেই জামাল চলে আসবে।’ আসার পরপরই ক্যাম্পে যোগ দিতে পারবেন না তিনি। নিয়ম মেনে কোয়ারেন্টাইনে থাকতে
হবে তাকে।
অর্থাৎ মধ্য সেপ্টেম্বরের আগে জামালের ক্যাম্পে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা নেই। এতেও অবশ্য কোনো সমস্যা দেখছেন না জেমি। তার বিশ^াস, মাসখানেকের অনুশীলনেই পুরোপুরি তৈরি হয়ে যাবেন অধিনায়ক। প্রথমবার জাতীয় দলের ক্যাম্পে ডাক পাওয়া ফিনল্যান্ড প্রবাসী তারিক চলতি মাসের ১৯ তারিখে ঢাকায় আসতে পারেন, বাফুফের তরফ থেকে এমনটাই জানানো হয়েছে। আসার পর তাকেও করোনা পরীক্ষা দিতে হবে এবং উতরে গেলেই কেবল ক্যাম্পে যোগ দিতে পারবেন। জাতীয় দলের কোচিং স্টাফের বিদেশি সদস্যদের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য থাকবে।
কোচরা কবে নাগাদ আসবেন, সেটাও কিন্তু নির্ভর করছে আজদের দিনটার ওপর। যে দিনটা দেশের ফুটবলের জন্য হয়ে উঠেছে মহাগুরুত্বপূর্ণ।





সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, নির্বাহী সম্পাদক : শাহনেওয়াজ দুলাল, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে
প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]