ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা রোববার ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০ ১২ আশ্বিন ১৪২৭
ই-পেপার রোববার ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০

সংবাদ সম্মেলনে অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহার মা
বিচারবহির্ভূত এমন হত্যাকাণ্ড যেন আর না হয়
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট, ২০২০, ১১:৩৩ পিএম আপডেট: ১০.০৮.২০২০ ১১:৫৩ পিএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 29

টেকনাফে পুলিশের গুলিতে নিহত অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খানের ‘হত্যাকাণ্ডের’ তদন্ত নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন সিনহার মা নাসিমা আক্তার। একই সঙ্গে এমন বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড যেন আর না ঘটে সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন হওয়ার কথা বলেছেন তিনি। সোমবার রাজধানীর উত্তরার ১৪ নম্বর সেক্টরের ১৭ নম্বর সড়কের ৭৭ নম্বর নিজ বাসায় এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। অন্যদিকে সিনহার মায়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত হয়ে সিনহার নিহতের ঘটনায় কক্সবাজার পুলিশ সুপার (এসপি) এবিএম মাসুদ হোসেনের প্রত্যাহার চেয়েছে রিটায়ার্ড আর্মড ফোর্সেস অফিসার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন (রাওয়া)।
সংবাদ সম্মেলনে ছেলের কথা স্মরণ করে কান্নায় ভেঙে পড়েন নাসিমা আক্তার। তিনি বলেন, আমি সিনহার হত্যাকাণ্ডের তদন্ত নিয়ে সন্তুষ্ট। প্রধানমন্ত্রী আমার সঙ্গে কথা বলেছেন। সেনাপ্রধান ও নৌবাহিনী প্রধানও খোঁজখবর নিয়েছেন। তারা ন্যায়বিচারের আশ^াস দিয়েছেন। এই যে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডটি ঘটল, এ ধরনের ঘটনা যেন আর না হয়। প্রত্যেক মায়ের প্রতিনিধি হয়ে বলব, এ ধরনের ঘটনা যেন আর না হয়। সবাই যেন সচেতন থাকেন।
তিনি বলেন, সিনহা সর্বদা বলত আমি মানুষের জন্য কাজ করব, মানুষের হৃদয়ে থাকব। বলা নয়, কাজ-কর্মে বিশ^াসী ছিল সিনহা। দেশ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্ম নিয়ে সবসময় চিন্তা করত। ছেলের প্রতিটি কর্মকাণ্ডে আমার পূর্ণ সমর্থন ছিল। সর্বদা কাজ করে সারপ্রাইজ দিতো। টাকা উপার্জন তার মূখ্য বিষয় ছিল না, মনের খোরাকের জন্য কাজ করত।
তিনি বলেন, সিনহা কর্মচঞ্চল ছিল। সবসময় পজিটিভ চিন্তা করত। দেশকে নিয়ে অনেক ভাবত। ছেলে আমাকে বলত, আমরা যদি দেশে ভালো কিছু রেখে যাই তাহলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম সেটা অনুসরণ করবে। আমার ছেলের প্রত্যেকটি কাজে আমার পূর্ণ সমর্থন ছিল। ভেতরে ভেতরে আমি খুবই গর্ববোধ করতাম। কিন্তু এখন তো আমার সব শেষ হয়ে গেছে। আমার হৃদয়টা ছিঁড়ে যাচ্ছে। সাংবাদিকদের লেখা আমি নিয়মিত পড়ছি। দেশের সুন্দর পরিবেশ আপনারাই আনবেন, আমরাই আনব। আমরা সবার সহযোগিতা চাই।
ঘটনার রাতে টেকনাফ থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশ আমাকে (নাসিমা আক্তার) ফোন করে সিনহার বিষয়ে খোঁজখবর নেন। তখন ছেলের কথা জিজ্ঞাসা করলে ‘সব ঠিক আছে’ জানিয়ে লাইন কেটে দেন। এ ছাড়া হত্যার পরদিন অর্থাৎ ঈদের দিন উত্তরা পশ্চিম থানা পুলিশ সিনহার উত্তরার বাসভবনে আসেন। তারা সিনহার কর্মকাণ্ড ও রাজনৈতিক পরিচয়সহ বিভিন্ন বিষয়ে খোঁজ নিয়ে চলে যান।
সংবাদ সম্মেলনে সিনহার বড় বোন ও হত্যা মামলার বাদী শারমিন শাহরিয়া ফেরদৌস বলেন, সিনহাকে আমি বলতাম তুমি মানুষের হৃদয়ের রাজপুত্র (প্রিন্স অব পিপলস হার্ট)। তার ভালো ব্যবহার আর গুণাবলি দিয়ে এটা সে প্রমাণ করেছে। প্রধানমন্ত্রী আমাদের আশ^াস দিয়েছেন যে বিচার হবে। আমাদের একটাই দাবি, এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে যেন দ্রুতই বিচারটি হয় এবং বিচার যাতে একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করে।
কক্সবাজারের এসপির প্রত্যাহার দাবি : অন্যদিকে সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খানের নিহতের ঘটনায় কক্সবাজার পুলিশ সুপার (এসপি) এবিএম মাসুদ হোসেনের প্রত্যাহার চেয়ে রাওয়া চেয়ারম্যান মেজর (অব.) খন্দকার নুরুল আফসার বলেন, সিনহা হত্যাকাণ্ডের তদন্ত যে গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে, তাতে আমরা সন্তুষ্ট। তবে বিচার প্রক্রিয়া যাতে দ্রুত হয় সেটি আমরা চাই। সিনহার ঘটনায় যারা কাস্টডিতে ছিলেন তাদের জামিন হয়েছে। আমরা অত্যন্ত খুশি। সিনহা হত্যায় যে পুলিশ সদস্যরা জড়িত ছিল তাদের অস্ত্রগুলো যেন জব্দ করা হয়। হয়তো তদন্তের খাতিরে এটা করতেই হবে। যাদের ওপর তদন্তভার অর্পণ করা হয়েছে তারা অত্যন্ত দক্ষ। আমরা আশা করব, তারা স্বচ্ছতা রক্ষা করবেন। কোনো পক্ষাবলম্বন করবেন না। হত্যার বিচার হলে সিনহার মা শান্তি পাবেন। রাওয়া কর্তৃপক্ষ মেজর (অব.) সিনহার বিচারিক তদন্ত কার্যক্রম পর্যবেক্ষণে লে. জেনারেল (অব.) মইনুল ইসলামকে প্রধান করে একটি কমিটি করেছে।
তিনি আরও বলেন, পুলিশ বাহিনীকে সংস্কার করা হোক। পুলিশ বাহিনীকে সংবিধানের আওতায় যে নিয়মকানুন দেওয়া আছে, ডিসির আওতায় যাতে থাকে এবং ডিসি যাতে বাহিনীকে তার আওতায় রেখে, যে নিয়ম-কানুন দেওয়া আছে সেগুলো যাতে পালন করেন। যদি সুপারভিশন ঠিক থাকে তখন একটা পুলিশ এত বেপরোয়া হতে পারে না। এটা তার (প্রদীপের) রং কনফিডেন্স গ্রো করেছে, বিকজ (কারণ) তার বিচার হয় নাই। তাকে পুলিশ মেডেল দেওয়া হয়েছে। সে যে একটার পর একটা আকাম-কুকাম করে যাচ্ছে, এটা নজরে কেউ আনেননি। কেন নজরে আনেনি আমরা ঠিক বুঝতে পারছি না। ওসি প্রদীপ যেসব হত্যার সঙ্গে জড়িত সেসব হত্যার বিচার করা হোক। সিনহার মায়ের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে রাওয়ার চেয়ারম্যান ছাড়াও অন্যদের মধ্যে সংগঠনের সেক্রেটারি জেনারেল লে. কর্নেল (অব.) এএম মোশারফ হোসেনসহ সাবেক সেনা কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।






সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, নির্বাহী সম্পাদক : শাহনেওয়াজ দুলাল, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে
প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]