ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা রোববার ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০ ১২ আশ্বিন ১৪২৭
ই-পেপার রোববার ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০

চলচ্চিত্র শিল্পী কল্যাণ ট্রাস্ট আইনের খসড়া অনুমোদন
ভাদ্র মাসে দীর্ঘস্থায়ী বন্যার শঙ্কায় প্রস্তুতির নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট, ২০২০, ১১:৩৩ পিএম আপডেট: ১০.০৮.২০২০ ১১:৫৪ পিএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 30

ভাদ্র মাসের মাঝামাঝি সময়ে বন্যা হলে তা দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে জানিয়ে এ বিষয়ে প্রস্তুত থাকতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সোমবার মন্ত্রিসভার ভার্চুয়াল বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী এই নির্দেশনা দিয়েছেন বলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম জানিয়েছেন। বৈঠকে পেশাগত কাজ করতে অক্ষম ও অসচ্ছল চলচ্চিত্র শিল্পীদের সহায়তায় ট্রাস্ট গঠন করতে ‘বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী কল্যাণ ট্রাস্ট আইন ২০২০’-এর খসড়া নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। গণভবন প্রান্ত থেকে প্রধানমন্ত্রী এবং সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে মন্ত্রীরা এই বৈঠকে যোগ দেন।
পরে সচিবালয়ে এক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, মন্ত্রিসভা বৈঠকে বন্যা ও পুনর্বাসন কর্মসূচি নিয়ে বেশি আলোচনা হয়েছে। গত কয়েকদিন থেকে পানি নেমে যাচ্ছে। সোমবার যমুনা নদীর পানি বঙ্গবন্ধু ব্রিজের ওখানে ইতোমধ্যে বিপদসীমার বেশ নিচে চলে গেছে। পদ্মা নদীর পানির স্তর ও গতি কমেছে জানিয়ে সচিব বলেন, ভারতের আবহাওয়া বিভাগের শঙ্কা আছে যে আরও বৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা আছে। সেজন্য প্রধানমন্ত্রী সুনির্দিষ্ট করে এ বিষয়ে সতর্ক করেছেন, প্রস্তুত থাকতে বলেছেন। বিশেষ করে সতর্ক করেছেন, ভাদ্র মাসের মাঝামাঝি যদি কোনো বন্যা আসে তাহলে সেটা কিন্তু দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। সুতরাং আমাদের প্রস্তুতিটা ওইখানে রাখতে হবে।
আনোয়ারুল বলেন, আমাদের পুনর্বাসন কার্যক্রম বিশেষ করে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার অধীনে কিছু কর্মসুচি আছে, একটা প্রকল্প আছে সেই প্রকল্পে তিনটি কম্পোনেন্টে ইমপ্লিমেন্ট করার কথা আছে। একটা হলোÑ ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট ঘরবাড়ি রিহ্যাবিলিটেশন করবে। আরেকটা হলোÑ স্থানীয় সরকার তাদের ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো মেরামত করবে, পানি উন্নয়ন বোর্ডকেও সেখানে ইনক্লুড করা আছে। সেখানে একটা বড় টাকা ধরা আছে যদি কোথাও নদীর বাঁধ ভেঙে যায় ওটাকে তাড়াতাড়ি মেরামত করার জন্য। সেই বিষয়ে বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। কৃষি মন্ত্রণালয়ের জন্য আলাদা ম্যাসিভ অ্যাগ্রিকালচারাল রিহ্যাবিলিটেশন প্রোগ্রাম আছে। এজন্য প্রধানমন্ত্রী গুরুত্ব দিয়েছেন যে, আমনের বীজ যেহেতু নষ্ট হয়ে গেছে এজন্য একটু উঁচু জায়গায় করার জন্য। বিশেষ করে পানি সহিষ্ণু ভ্যারাইটি। কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক বলেছেন, তারা যে নতুন জাত আবিষ্কার করেছেন সেটা ১৫ দিন পানির নিচে থাকলেও নষ্ট হবে না।
রোপা আমনের দিকে বিশেষ দৃষ্টি দিতে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন জানিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, রোপা আমন ঠিকভাবে হলে আমাদের শর্টেজ হওয়ার আশঙ্কা কমবে। শর্টেজ একচুয়ালি হবে না গতবারের তুলনায়, গতবার আমনে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২৮ লাখ টন, এবার লক্ষ্যমাত্রা ৩৬ লাখ টন। সেই তুলনায় কিছুটা কম হতে পারে তবে গতবারের তুলনায় উৎপাদন আশা করা যাচ্ছে বেশি হবে ইনশাআল্লাহ।
চলচ্চিত্র শিল্পীদের সহায়তায় হচ্ছে ট্রাস্ট : মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, পেশাগত কাজ করতে অক্ষম ও অসচ্ছল চলচ্চিত্র শিল্পীদের সহায়তায় ট্রাস্ট গঠন করছে সরকার। এজন্য ‘বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী কল্যাণ ট্রাস্ট আইন ২০২০’-এর খসড়া নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। তিনি বলেন, ২০১৭ সালের ২৪ জুলাই প্রধানমন্ত্রী জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের চলচ্চিত্র শিল্পীদের কল্যাণ সাধনের জন্য বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী কল্যাণ ট্রাস্ট নামে একটি ট্রাস্ট স্থাপনের জন্য নির্দেশনা দিয়েছিলেন। সেই মোতাবেক তথ্য মন্ত্রণালয় সব ফর্মালিটি শেষ করে এই আইনের খসড়া উপস্থাপন করেছে। এই ট্রাস্ট গঠনের মূল উদ্দেশ্য চলচ্চিত্র শিল্পীদের কল্যাণ সাধন করা জানিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, আইন করার উদ্দেশ্য পেশাগত কাজ করতে অক্ষম, অসমর্থ ও অসচ্ছল চলচ্চিত্র শিল্পীকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা। এছাড়া অসচ্ছল ও অসুস্থ চলচ্চিত্র শিল্পীর চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহযোগিতা প্রদান করা, কোনো চলচ্চিত্র শিল্পীর মৃত্যু হলে তার পরিবারকে প্রয়োজনীয় সহায়তার ব্যবস্থা করাও এর উদ্দেশ্য। ট্রাস্ট অন্য কোনো কাজ বাস্তবায়ন করতে পারবে বলেও আইনে বলা হয়েছে। এটার জন্য একটা বোর্ড থাকবে, বোর্ডের চেয়ারম্যান থাকবেন তথ্যমন্ত্রী। আর ১৩ জনের বড় একটা টিম আছে, তারা ট্রাস্টের সবকিছু দেখাশোনা করবে। ট্রাস্টের একজন এমডি থাকবেন, তিনি হবেন নির্বাহী প্রধান।
সচিব বলেন, তারা তাদের নিজস্ব ফান্ড ও সরকারের দেওয়া ফান্ডÑ এগুলো নিয়ে ট্রাস্ট পরিচালনা করবেন। তারা বিভিন্ন জায়গা থেকে লোন বা গ্র্যান্টও গ্রহণ করতে পারবে। সেক্ষেত্রে সরকারের অনুমতি নিতে হবে, যাতে এমন কোনো লোন গ্রহণ না করে পরবর্তী সময়ে এটা রাষ্ট্রের ওপর চেপে বসে। খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, তারা তাদের কনফোর্ট অনুযায়ী আয়বর্ধক বিভিন্ন কার্যক্রমও গ্রহণ করতে পারবে এবং এখান থেকে যে টাকাটা তাদের মুনাফা থাকবে সেটা দিয়ে ওপরের পাঁচটি ক্ষেত্রে চলচ্চিত্র শিল্পীদের সহায়তা করতে পারবে। চলচ্চিত্র শিল্পী যদি মারা যান, তাদের ওপর নির্ভরশীলরাও যাতে সহায়তা পায় সেই ব্যবস্থাও আইনে রাখা হয়েছে বলে জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব।





সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, নির্বাহী সম্পাদক : শাহনেওয়াজ দুলাল, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে
প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]