ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা রোববার ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০ ১২ আশ্বিন ১৪২৭
ই-পেপার রোববার ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০

স্যার, রিমান্ডটা কনসিডার করা যায় না’
অর্থ আত্মসাৎ মামলায় সাহেদ সাত দিনের রিমান্ডে
আদালত প্রতিবেদক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট, ২০২০, ১১:৩৩ পিএম আপডেট: ১১.০৮.২০২০ ১২:১২ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 22

পদ্মা ব্যাংকের (সাবেক দি ফারমার্স ব্যাংক লিমিটেড) অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে দুদকের করা মামলায় রিজেন্ট গ্রুপ ও রিজেন্ট হাসপাতাল লিমিটেডের চেয়ারম্যান সাহেদ করিম ওরফে মোহাম্মদ সাহেদকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
সোমবার ঢাকার মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ কেএম ইমরুল কায়েশ শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। এর আগে ৬ আগস্ট মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের উপসহকারী পরিচালক মোহাম্মদ শাহজাহান মিরাজ মামলার তদন্তের স্বার্থে আসামি সাহেদকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দশ দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত সাহেদের উপস্থিতিতে রিমান্ড শুনানির জন্য এদিন ধার্য করেন।
রিমান্ড শুনানি থাকায় এদিন সাহেদকে দুপুর ১২টার দিকে কারাগার থেকে আদালতে বিশেষ নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে হাজির করা হয়। এরপর তাকে সরাসরি এজলাসে নেওয়া হয়। এরপর এক পুলিশকে লক্ষ্য করে তিনি বলেন, ‘স্যার আমার হেলমেট ও হাতকড়া খুলে দেন।’ এরপর তা খুলে দেওয়া হয়। পরে পানি খেতে চায়। এর কিছুক্ষণ পরেই রিমান্ড বিষয়ে শুনানি শুরু হয়। শুনানির শুরুতে সাহেদ বিচারকদের উদ্দেশে বলেন, আমার আইনজীবী আসছিলেন। এখন তাকে দেখছি না। তার জন্য একটু অপেক্ষা করি। বিচারক ১৫ মিনিট পর শুনানির সময় দেন। এরপর এক আইনজীবী সাহেদের কাছ থেকে তার আইনজীবীর মোবাইল নম্বর নিয়ে ফোন দেন। কিন্তু আইনজীবী ফোন ধরেননি। পরে ১৫ মিনিট পর আবার শুনানি শুরু হয়। তখন সাহেদ আদালতের উদ্দেশে বলেন, তাহলে আমি নিজেই বলি।
তখন সাহেদ বলেন, আমি ২০ দিনের রিমান্ডে ছিলাম। সামনে আরও ২৮ দিন পেন্ডিং রয়েছে। আমি অসুস্থ, নিশ^াস নিতে পারছি না। তা ছাড়া তিনি বলেন, ‘স্যার আমাদের প্রতিষ্ঠানের নামে ৫০ লাখ টাকার এফডিআর ছিল। আমরা এফডিআর দেখিয়ে ব্যাংক থেকে টাকা নিয়েছি। তার সব এভেডিয়েন্স রয়েছে। আমি কোনো টাকা আত্মসাৎ করিনি।’
এরপর দুদকের পক্ষে বিশেষ পিপি মোশাররফ হোসেন কাজল রিমান্ড মঞ্জুরের প্রার্থনা করেন। শুনানিতে তিনি বলেন, রিজেন্ট হাসপাতালের এমআইআর মেশিন কিনতে আসামি দুই কোটি টাকা ঋণ নেন। কিন্তু তিনি মেশিন না কিনে টাকা আত্মসাৎ করেছেন। জানতে পেরেছি, এ দুই কোটি টাকা ঋণ নিতে বিভিন্নজনকে তিনি ৩৫ লাখ টাকা বকশিশ দিয়েছেন। তাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে কারা এ বকশিশ নিয়েছেন তাদের নামও চলে আসবে। এ জন্য তার রিমান্ড মঞ্জুরের প্রার্থনা করছি। তখন সাহেদ বলেন, ব্যাংক থেকে টাকা নিয়েছি। আমার এমডি দীর্ঘদিন ধরে সিঙ্গাপুর আছেন। তার সঙ্গে অপারেট করতে পারছি না। এখন আপনার বিবেচনা।
উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত সাহেদের সাত দিনের রিমান্ডের আদেশ দেন। এরপর সাহেদ বিচারকের উদ্দেশে বলেন, ‘স্যার, রিমান্ডটা কনসিডার করা যায় না।’ তখন দুদকের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল তাকে অভয় দিয়ে বলেন, দুদক রিমান্ডে নিয়ে কারও ওপর খারাপ আচরণ করে না। এরপর সাহেদকে আদালত থেকে নিয়ে যাওয়া হয়।
মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ২০১৫ সালের ১১-২১ জানুয়ারি সময়ে আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে অসৎ উদ্দেশ্যে ক্ষমতার অপব্যবহার করে অর্থ স্থানান্তর, রূপান্তরের মাধ্যমে ঋণের নামে পদ্মা ব্যাংক লিমিটেডের গুলশান করপোরেট শাখার এক কোটি টাকা (যা সুদাসলসহ ১৫ জুলাই পর্যন্ত স্থিতি ২ কোটি ৭১ লাখ টাকা) আত্মসাৎ করেন। এ অভিযোগে ২৭ জুলাই দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) প্রধান কার্যালয়ের উপসহকারী পরিচালক মোহাম্মদ শাহজাহান মিরাজ বাদী হয়ে সাহেদসহ চারজনের বিরুদ্ধে দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয় ঢাকা-১-এ মামলাটি করেন। মামলার অন্য আসামিরা হলেনÑ পদ্মা ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের নির্বাহী/অডিট কমিটির সাবেক চেয়ারম্যান মাহবুবুল হক চিশতী, বকশীগঞ্জ জুট স্পিনার্স লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) রাশেদুল হক চিশতি, রিজেন্ট হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. ইব্রাহিম খলিল।
৬ জুলাই লাইসেন্সের মেয়াদ না থাকা, ভুয়া করোনা টেস্ট ও অন্যান্য অভিযোগে রিজেন্ট হাসপাতালের উত্তরা ও মিরপুর শাখায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার আলম। অভিযানে ভুয়া করোনা পরীক্ষার রিপোর্ট, করোনা চিকিৎসার নামে রোগীদের কাছ থেকে অর্থ আদায়সহ বিভিন্ন অনিয়ম উঠে আসে। দিনের পর দিন পরীক্ষা ছাড়াই করোনার সনদ দিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা ও অর্থ হাতিয়ে নিয়ে আসছিল তারা। র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত অন্তত ছয় হাজার ভুয়া করোনা পরীক্ষার সনদ পাওয়ার প্রমাণ পায়। একদিন পর ৭ জুলাই স্বাস্থ্য অধিদফতরের নির্দেশে র‌্যাব রিজেন্ট হাসপাতাল ও তার মূল কার্যালয় সিলগালা করে দেয়। এ অভিযোগে ৭ জুলাই রাতে উত্তরা পশ্চিম থানায় রিজেন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান মো. সাহেদসহ ১৭ জনকে আসামি করে মামলা করা হয়। এ অভিযোগে ১৫ জুলাই সাতক্ষীরার সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে সাহেদকে গ্রেফতার করে র‌্যাব।






সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, নির্বাহী সম্পাদক : শাহনেওয়াজ দুলাল, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে
প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]