ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা বৃহস্পতিবার ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০ ৮ আশ্বিন ১৪২৭
ই-পেপার বৃহস্পতিবার ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০

বাড়ছে সরকারের ব্যাংক ঋণের নির্ভরতা
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট, ২০২০, ১১:৪২ পিএম আপডেট: ১১.০৮.২০২০ ১২:২২ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 17

সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা এ বি মির্জ্জা মো. আজিজুল ইসলাম বলেন, করোনাভাইরাস মহামারির কারণে সারাবিশে^ই ভোক্তা চাহিদা কমে গেছে। বাংলাদেশেও আমদানি কমছে, রফতানিও কমে গেছে। তিনি বলেন, যতদিন রাজস্ব আদায়ে গতি না আসবে অথবা বড় অঙ্কের বিদেশি ঋণসহায়তা না পাওয়া যাবে, ততদিন ব্যাংক থেকে সরকারকে ঋণ নিয়েই যেতে হবে। সুতরাং সরকারের উচিত অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমিয়ে রাজস্ব বাড়ানোর পাশাপাশি বিদেশি উৎস থেকে কম সুদে ঋণ আনার ওপর বেশি জোর দেওয়া।
এদিকে ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেটের ঘাটতি মেটাতে সরকার অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ১ লাখ ৯ হাজার ৯৮৩ কোটি টাকা সংগ্রহ করবে বলে পরিকল্পনা করেছে। এর মধ্যে চলতি অর্থবছর ব্যাংকখাত থেকে ঋণ নেওয়ার লক্ষ্য ধরা হয়েছে ৮৪ হাজার ৯৮৩ কোটি টাকা। অভ্যন্তরীণ উৎসের মধ্যে সঞ্চয়পত্র বিক্রি করে ২০ হাজার কোটি এবং অন্যান্য ব্যাংকবহির্ভূত খাত থেকে ৫ হাজার কোটি টাকাসহ মোট ২৫ হাজার কোটি টাকা নেবে বলে জানিয়েছে সরকার।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সূত্রে জানা গেছে, করোনা মহামারির কারণে ২০১৯-২০ অর্থবছরে সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৮৫ হাজার কোটি টাকা কম রাজস্ব আদায় হয়েছে। মূল লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে এটি ১ লাখ ১০ হাজার কোটি টাকা কম।
প্রসঙ্গত, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঘোষিত নতুন মুদ্রানীতিতে চলতি অর্থবছরের জন্য বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি আগের বছরের মতো অপরিবর্তিত রেখে ১৪ দশমিক ৮ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। যদিও গত অর্থবছর ঘোষিত মুদ্রানীতিতে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য অর্জন করতে পারেনি কেন্দ্রীয় ব্যাংক। গত অর্থবছর বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি ছিল ৮ দশমিক ৬০ শতাংশ, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম। এ ছাড়া চলতি অর্থবছর সরকারের ঋণ প্রবৃদ্ধির প্রাক্কলন করা হয়েছে ৪৪ দশমিক ৪ শতাংশ।ধী
রাজবাড়ী প্রতিনিধি
রাজবাড়ীতে গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ (টিআর) প্রকল্পের কাজ না করেই উপজেলা সহকারী প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার যোগসাজশে টাকা উত্তোলন করে তা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে দুই ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে। বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ইউপি চেয়ারম্যান এবং ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতিসহ স্থানীয়রা।
জানা গেছে, ২০১৯-২০ অর্থবছরে দ্বিতীয় পর্যায়ে গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ (টিআর) প্রকল্পগুলোর মধ্য থেকে জেলা সদরের বসন্তপুর ইউনিয়নের ১নং ও ৯নং ওয়ার্ডে দুটি প্রকল্পের আওতায় ২ লাখ ৫৮ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। কিন্তু প্রকল্প দুটিতে কাজ না করেই উপজেলা সহকারী প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা বিজয় কুমার প্রামাণিকের যোগসাজশে পুরো টাকা তুলে নেন প্রকল্পের সভাপতিরা।
অথচ কাগজে-কলমে চলতি বছরের ৩০ জুনের মধ্যে প্রকল্প দুটি বাস্তবায়নের মেয়াদ শেষ দেখানো হয়। উপজেলা সহকারী প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা বিজয় কুমার প্রামাণিককে ম্যানেজ করে প্রকল্পের পুরো টাকাও তুলে নেন প্রকল্পের সভাপতিরা। কিন্তু বাস্তবে প্রকল্প দুটিতে কোনো কাজই হয়নি।
প্রকল্প দুটির মধ্যে একটি হচ্ছে বসন্তপুর ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের শায়েস্তাপুর ঈদগাহ থেকে ইসলাম মোল্লার বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা সংস্কার। এ প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয় ১ লাখ ২৯ হাজার টাকা। গত রোববার দুপুরে সরেজমিন ওই প্রকল্পে গিয়ে দেখা যায়, রাস্তাটিতে এক ঝুড়ি
মাটিও ফেলেননি প্রকল্পের সভাপতি ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আমিনুল হক মুকুল। অথচ কাগজে-কলমে প্রকল্পটির বাস্তবায়ন মেয়াদ চলতি বছরের ৩০ জুন দেখিয়ে উপজেলা সহকারী প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা বিজয় কুমার প্রামাণিকের যোগসাজশে প্রকল্পের পুরো টাকা তুলে নেন প্রকল্পের সভাপতি আমিনুল হক মুকুল।
স্থানীয় হাবিবুর রহমান, ইসলাম মোল্লা, সোহরাব আলী ফকির ও জামাল মোল্লা বলেন, বর্ষা মৌসুমে এই রাস্তাটি দিয়ে আমাদের খুব কষ্ট করে চলাচল করতে হয়। গত এক বছরের মধ্যে এই রাস্তায় কোনো কাজ তো দূরের কথা এক ঝুড়ি মাটিও ফেলা হয়নি। আমরা দ্রুত আমাদের রাস্তাটিতে মাটি ফেলে চলাচলের উপযোগী করে দেওয়ার দাবি জানায়।
অপরদিকে একই ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের বড় ভবানীপুর গ্রামের জুবায়েরের পোল্ট্রি ফার্ম থেকে ফাহিম মেম্বারের বাড়ি পর্যন্ত ইটের রাস্তার পাশে মাটি ফেলে সংস্কারের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয় ১ লাখ ২৯ হাজার টাকা। গত রোববার সরেজমিন এই প্রকল্পে গিয়ে দেখা যায় একই চিত্র। রাস্তাটিতে নামেমাত্র কিছু মাটি ফেলেছেন প্রকল্পের সভাপতি ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি শাহিন ফকির শাফিন। রাস্তাটিতে সর্বোচ্চ ১০-১২ হাজার টাকার মাটি ফেলা হতে পারে বলে ধারণা এলাকাবাসীর।
রাস্তার মাটি কাটার সরদার মো. জিন্না জানান, গত ঈদুল আজহার ৭-৮ দিন আগে প্রকল্পের সভাপতি শাহিন ফকির শাফিন তাকে এক দিনের মধ্যে কাজ শেষ করার জন্য চুক্তি করেছিলেন। পরে তাকে দিয়ে তিন দিন কাজ করানো হয়। প্রতিদিন তার ৬ জন করে শ্রমিক রাস্তার দুই পাশে মটি ফেলে ২ ফুট করে সম্প্রসারণ এবং ময়লা পরিষ্কারের কাজ করেন। এতে তিন দিনে তারা মোট ১২ হাজার টাকার কাজ করেন। এর বাইরে ওই রাস্তায় আর কোনো কাজ হয়নি। অথচ এই প্রকল্পের পুরো ১ লাখ ২৯ হাজার টাকাই তুলে নিয়েছেন শাহিন ফকির শাফিন।
প্রকল্পের কাজ না করে টাকা আত্মসাতের বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বসন্তপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মীর্জা বদিউজ্জামান বাবু বলেন, টিআর প্রকল্প দুটি আমাদের এমপির বিশেষ বরাদ্দের। এলাকাবাসী আমার কাছে অভিযোগ করলে আমি সরেজমিন প্রকল্প দুটি পরিদর্শন করেছি। প্রকল্পের সভাপতিরা টাকা তুলে নিলেও আসলে রাস্তা দুটিতে কোনো কাজ করা হয়নি। এটি চরম একটি দুর্নীতি। ইউনিয়নবাসীর পক্ষ থেকে আমি এর তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।
বসন্তপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল মান্নান মিয়া বলেন, বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার লক্ষ্যে জননেত্রী শেখ হাসিনা যে নিরলস পরিশ্রম করে চলেছেন। কিন্তু আমাদের দলের কিছু নেতাকর্মীর অনিয়ম-দুর্নীতির কারণে জননেত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়নমূলক কাজ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। টিআর প্রকল্প দুটির কাজ না করেই টাকা উত্তোলনের বিষয়টি খুবই দুঃখজনক।
এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা বিজয় কুমার প্রামাণিক বলেন, আপনাদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে আমি আমিনুল হক মুকুল ও শাহিন ফকির শাফিনকে ডেকেছিলাম। তারা রাস্তার কাজ সম্পন্ন করে দেবেন বলে জানিয়েছেন। তবে প্রকল্পের পুরো কাজ না করে কীভাবে টাকা তোলা হলো? এতদিনে তারা কেন কাজ সম্পন্ন করলেন না? এখন কেন তারা রাস্তার কাজ সম্পন্ন করবেন এসব প্রশ্নের কোনো উত্তরই দিতে পারেননি উপজেলা সহকারী প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা বিজয় কুমার প্রামাণিক।
রাজবাড়ী সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাঈদুজ্জামান খান বলেন, ঘটনাটি আমার জানা ছিল না। আমি বিষয়টি তদন্ত করব। যদি প্রকল্পের সভাপতিরা রাস্তায় কাজ না করে টাকা আত্মসাৎ করে থাকেন তা হলে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট ইমদাদুল হক বিশ^াস বলেন, আমিনুল হক মুকুল কাজ না করে টাকা তুলে নেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন। তিনি আগামী সাত দিনের মধ্যে কাজ সম্পন্ন করে দেবেন বলে আমার কাছে সময় চেয়েছেন। শাহিন ফকির শাফিনের প্রকল্পের কাজও যাতে শতভাগ সম্পন্ন করা হয় এ জন্য তিনি উপজেলা সহকারী প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাকে নির্দেশ দিয়েছেন।
বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে আমিনুল হক মুকুলের মোবাইলে বেশ কয়েকবার ফোন করলেও তিনি রিসিভ করেননি। তার বাড়িতে গিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি। শাহিন ফকির শাফিনের মোবাইলে ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।









সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, নির্বাহী সম্পাদক : শাহনেওয়াজ দুলাল, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে
প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]