ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা মঙ্গলবার ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০ ১৪ আশ্বিন ১৪২৭
ই-পেপার মঙ্গলবার ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০

স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে আরও সচেতন হতে হবে
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট, ২০২০, ১২:০০ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 32

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের পর ৬৬ দিন সারা দেশে গণপরিবহন বন্ধ ছিল। করোনাভাইরাস ছোঁয়াচে। এমনিতেই আমাদের দেশে যেকোনো গণপরিবহনে উপচে পড়া ভিড় থাকে। শুধু যে রাজধানীতে এমন হয় তা-ই নয়, সারা দেশের অবস্থা একই রকম। সিট বাদে দাঁড়ানো যাত্রীর সংখ্যা কোনো কোনো ক্ষেত্রে দ্বিগুণ হয়। আবার অনেককে দরজার হ্যান্ডেল ধরে ঝুলে ঝুলে যেতেও দেখা যায়। দেশ জনবহুল। ৬৫ হাজার বর্গকিলোমিটারে ১৭ কোটি মানুষের বাস। পরিসংখ্যান বলে, ভূমির স্বল্পতা, মানুষ বেশি। এ কারণে যেকোনো ক্ষেত্রে ভিড় লেগেই থাকে। গণপরিবহনে তো কথাই নেই। বিশ^ জুড়ে করোনাভাইরাস দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা আশঙ্কাজনক। আমাদের দেশেও আক্রান্ত ও মৃত্যুর হার কম নয়। বিশ^ স্বাস্থ্য সংস্থার বিধি অনুযায়ী, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ থেকে রক্ষা পাওয়ার একমাত্র উপায় হচ্ছে জনসমাগম এড়িয়ে চলা।
সারা দেশে লকডাউনসহ অন্যান্য স্বাস্থ্যবিধি প্রয়োগ করেও ভাইরাসটির সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আনা যায়নি। এর জন্য মূলত দায়ী মানুষের অসচেতনতা। করোনাভাইরাস প্রতিরোধে সবচেয়ে কার্যকর মাস্ক ব্যবহার। এই মহামারিকালে খোদ রাজধানীতে বিপুলসংখ্যক জনগোষ্ঠীকে মাস্ক ব্যবহার করতে দেখা যায় না। এতে নিজেদের
যেমন সুরক্ষা হয় না, তেমনি সংক্রমণও বেড়ে যায়। ২ মাস ৬ দিন পর সারা দেশে গণপরিবহন চালু হয়েছে। বলা হয়েছে, স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে পরিবহন চলাচল করতে হবে। কিন্তু রাস্তায় যেসব গণপরিবহন চলাচল করছে তা কি যথার্থ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলছে? অধিকাংশ ক্ষেত্রে এর ফলাফল হতাশাজনক। প্রতিদিন স্বাস্থ্য অধিদফতরের ব্রিফিংয়ে দেখা যায়, সংক্রমণের মাত্রা বেড়েই চলেছে। অর্থাৎ মানুষ যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মানছে না। পরিসংখ্যান বলছে, গণপরিবহন চালু হওয়ার পর সংক্রমণের হারও বেড়েছে। ইত্যাকার বিষয় চিন্তা করে সরকার স্বাস্থ্যসম্মত গণপরিবহন চালু করার কথা ভাবছে।
দৈনিক সময়ের আলোর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাজধানীতে এখনও বেশিরভাগ মানুষ গণপরিবহনেই চলাচল করে থাকে। দূর অথবা কাছের যেকোনো গন্তব্যে যেতে নগরবাসী গণপরিবহনকেই বেছে নেয়। এ চাহিদা মেটাতে গণপরিবহনের খোল-নলচে পাল্টে দেওয়ার চিন্তাভাবনা শুরু হয়ে গেছে। করোনাকালে এতে যোগ করেছে নতুন ভাবনা। সবচেয়ে বড় ভাবনা হচ্ছে, সবার জন্য স্বাস্থ্যসম্মত গণপরিবহন কীভাবে নিশ্চিত করা যায়। গণপরিবহন চালু করার শর্ত ছিলÑ অর্ধেক আসন ফাঁকা রেখে যাত্রী তোলা, দাঁড়ানো যাত্রী নেওয়া যাবে না ও সময়মতো গাড়ি জীবাণুমুক্ত করতে হবে। এ ছাড়াও সবার জন্য মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করা হয়। নিয়ম না মানার অন্যতম কারণ হচ্ছে, বেশি করে যাত্রী ওঠানো। এভাবে প্রায় সর্বত্রই লঙ্ঘিত হচ্ছে স্বাস্থ্যবিধি। মিডিয়ার বদৌলতে সবকিছুই দৃশ্যমান হয়েছে সংশ্লিষ্টদের কাছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে সরকার এখন স্বাস্থ্যসম্মত গণপরিবহনের চিন্তাভাবনা শুরু করেছে বলে সড়ক ও মহাসড়ক বিভাগ সূত্রে জানা গেছে। করোনা মহামারি চলে গেলে মানুষ যেন স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ পায় সে লক্ষ্য নিয়ে রাজধানী ঢাকায় গণপরিবহনের জন্য নতুন চিন্তা করা হচ্ছে। এই নতুন চিন্তা বাস্তবায়নে উন্নয়ন সহযোগী হবে বিশ^ব্যাংক।
এক্ষেত্রে শুধু গণপরিবহনের অবকাঠামোগত পরিবর্তনের চিন্তার বিষয়টি প্রাধান্য দিলে হবে না। বাসরুট নিয়েও ভাবতে হবে।
ঢাকার জন্য কোম্পানিভিত্তিক বাস ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার কাজ করছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন ও ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ। এ বিষয়ে একটি প্রকল্প চলমান রয়েছে। করোনাকালে এত কঠোরতার মধ্যেও জনগণ সচেতনতা ধারণ করতে পারেনি। নতুন এই প্রকল্প কতদিনে কার্যকর হবে বা বাস্তবায়ন করা যাবে তা ভবিতব্যই জানে। তবে বিষয়টি সাধুবাদ জানানোর মতো। যানবাহনে মানুষ স্বাস্থ্যসুরক্ষার নিশ্চয়তা পাবে। শুধু করোনাকাল কেন, একজন নাগরিক হিসেবে যানবাহনে সব রকম নিরাপত্তা আশা করে। দেশ মূলত সেদিকেই এগোচ্ছে। মেট্রোরেল সম্পন্ন হলে রাজধানীর যাত্রী চলাচল নির্বিঘ্ন ও সুখকর হবে, যানজট নিরসন হবেÑ এটা আমরা আশা করছি। তার সঙ্গে যদি স্বাস্থ্যসম্মত গণপরিবহন যোগ হয়, তা হলে দেশ আরেকধাপ এগিয়ে যাবে, সন্দেহ নেই।







সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, নির্বাহী সম্পাদক : শাহনেওয়াজ দুলাল, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে
প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]