ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা শনিবার ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০ ১১ আশ্বিন ১৪২৭
ই-পেপার শনিবার ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০

প্রাণ ফিরছে দেশের ক্রীড়াঙ্গনে
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট, ২০২০, ১২:০০ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 21

ক্রীড়া প্রতিবেদক
দেশের ক্রীড়াঙ্গন স্থবির প্রায় পাঁচ মাস! থমকে যায় করোনাভাইরাস আতঙ্কে, যা এখনও বিরাজমান। তবুও সোমবার যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের জরুরি সভা শেষে মিলল সবুজ সঙ্কেত : স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত আকারে শুরু করা যাবে খেলা ও অনুশীলন। অনুমতি পেয়ে দেশের ক্রীড়া ফেডারেশনগুলো তাদের মাঠের কার্যক্রম শুরু করতে তৎপর হয়ে উঠেছে। এক কথায় প্রাণ ফিরতে শুরু করেছে দেশের ক্রীড়াঙ্গনে।
দিনটা ছিল ১৬ মার্চ। ওই দিন দেশে সব খেলা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়। সেই স্থগিতাদেশ তুলে নেওয়া হলো অবশেষে। মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল জানালেন, করোনা সংক্রমণের হার নিম্নমুখী বলেই খেলাধুলা ফেরানোর অনুমতি মিলেছে। যদিও বাস্তবতা বলছে ভিন্ন কথা। দেশে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ছাড়িয়েছে আড়াই লাখ এবং মৃত্যুর সংখ্যা সাড়ে তিন হাজার ছুঁই ছুঁই।
সবশেষ সোমবার দুপুর আড়াইটায় স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় মারা গেছেন ৩৯ জন এবং শনাক্ত হয়েছে আরও ২ হাজার ৯০৭ জন; ১২ হাজার ৮৪৯টি নমুনা পরীক্ষায় আক্রান্তের হার ২২.৬২, যা নিঃসন্দেহে দুশ্চিন্তার বিষয়। কিন্তু কাগজে-কলমে করোনা আক্রান্তের হার নিম্নমুখী। সেটা মাথায় রেখেই ১০টি শর্ত সাপেক্ষে পুনরায় খেলাধুলা মাঠে ফেরানোর অনুমতি দিয়েছে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়।
এর পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে বিশে^র অন্য দেশগুলোয় খেলাধুলা ফেরার বিষয়টিও। যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল জানান, সবদিকে লক্ষ্য রেখেই খেলাধুলা ফেরানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারা, ‘বিশে^র অনেক দেশে করোনা সংক্রমণ কমে যাওয়ার প্রেক্ষিতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে খেলাধুলা ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু করেছে। আমাদের দেশেও করোনা সংক্রমণের হার নিম্নমুখী। এর প্রেক্ষিতে আমরা খেলাধুলা ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চালুর বিষয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মতামত চেয়ে পত্র প্রেরণ করি।’
যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী যোগ করেন, ‘স্বাস্থ্য অধিদফতর ১০টি শর্তে সীমিত আকারে খেলাধুলা আয়োজন ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চালুর বিষয়ে মতামত দিয়েছে। এমতাবস্থায়, স্বাস্থ্য অধিদফতর কর্তৃক নির্ধারিত শর্তসমূহ প্রতিপালনপূর্বক দেশের সব পর্যায়ে খেলাধুলা ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম সীমিত আকারে চালুর বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে। আমি প্রত্যেককে অনুরোধ করব, স্বাস্থ্যবিধি মেনে খেলাধুলা ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে অংশ নিতে।’
কী সেই ১০ শর্ত? নির্দেশাবলীর এক নাম্বারে দেওয়া আছে, খেলাধুলা শুরুর আগে খেলার মাঠ ও প্রশিক্ষণকেন্দ্র চালুর পূর্বে, মহামারি প্রতিরোধক সরঞ্জাম যেমন মাস্ক, গ্লাভস, জীবাণুনাশক এবং নন-কন্ট্যাক্ট ইনফ্রারেড থার্মোমিটার সংরক্ষণ করে সংক্রমণ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ কাজের পরিকল্পনা প্রণয়ন করতে হবে। তদারকি ও বাস্তবায়ন এর দায়িত্বের জন্য একজনকে নির্দিষ্ট করলে ভালো হয়। সংশ্লিষ্ট সব কর্মীদের স্বাস্থ্যবিধি প্রশিক্ষণ প্রদান করতে হবে।
নাম্বার দুই, সীমিত আকারে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম ও খেলাধুলার আয়োজন করা যাবে। তার আগে খেলোয়াড়, প্রশিক্ষক, ম্যানেজমেন্ট কমিটি এবং খেলাধুলা সংশ্লিষ্ট সবার নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে দেখতে হবে। ক্যাম্প শুরুর পূর্বে প্রয়োজনে কোভিড-১৯ পরীক্ষা করা যেতে পারেÑ এটা হলো তৃতীয় শর্ত। পরেরটা একটু কড়া : ক্যাম্পে পুষ্টিকর খাবার নিশ্চিতের পাশাপাশি খেলোয়াড়দের ধূমপানে নিরুৎসাহিত করতে হবে এবং অ্যাথলেটরা প্রিয়জনের সঙ্গে যোগাযোগ করবে অনলাইনের মাধ্যমে।
শর্ত নাম্বার পাঁচ- খেলা ও প্রশিক্ষণের সময় ব্যক্তিগত পানির বোতল ও তোয়ালে ব্যবহার করতে হবে। ব্যক্তিগত সরঞ্জাম ও জামাকাপড় নিজস্ব ব্যাগে রাখতে হবে। টিস্যু, রুমাল বা অন্যান্য ব্যবহৃত উপকরণ যেমন প্লাস্টার, ব্যান্ডেজ ইত্যাদি তাৎক্ষণিকভাবে উপযুক্ত পাত্রে (মুখবন্ধ ময়লার পাত্র) ফেলে দিতে হবে। পরে শর্তে দর্শকসহ খেলা শুরু অনুমতি দিয়েছে মন্ত্রণালয়। তবে মাঠে বসতে হবে নির্দিষ্ট দূরত্ব (১ মিটার) বজায় রেখে এবং দুই দর্শকদের মাঝে এক সিট খালি রাখতে হবে।
সাত নাম্বার নিদের্শনা অনুযায়ী, খেলার মাঠের প্রবেশ পথে খেলোয়াড়, প্রশিক্ষক, ম্যানেজমেন্ট কমিটি এবং বহিরাগত দর্শনার্থীদের (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে) শরীরের তাপমাত্রা মাপার ব্যবস্থা রাখতে হবে। যাদের শরীরের তাপমাত্রা ৯৮.৪ ফারেনহাইটের বেশি হবে, তাদের নিকটস্থ স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে পাঠাতে হবে। খেলোয়াড়, প্রশিক্ষক এবং ম্যানেজমেন্ট কমিটির মধ্যে সন্দেহভাজন (করোনা) কেউ থাকলে তাৎক্ষণিকভাবে আইসোলেশনের ব্যবস্থা করতে হবে বলা হয়েছে অষ্টম শর্তে।
শেষ দুই শর্তে বলা হয়েছেÑ খেলার মাঠের আবর্জনা প্রতিদিন পরিষ্কার করতে হবে ও আবর্জনা সংরক্ষণকারী পাত্র প্রতিদিন জীবাণুমুক্ত করতে হবে এবং স্টেডিয়ামে আগত সবাইকে স্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতন করার জন্য সহজে দৃশ্যমান হয় এমন স্থানে বিলবোর্ড, রেডিও, ভিডিও ও পোস্টারের মাধ্যমে সচেতনতামূলক বক্তব্য প্রচার করার ব্যবস্থা করতে হবে।






সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, নির্বাহী সম্পাদক : শাহনেওয়াজ দুলাল, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে
প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]