ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা বৃহস্পতিবার ১ অক্টোবর ২০২০ ১৬ আশ্বিন ১৪২৭
ই-পেপার বৃহস্পতিবার ১ অক্টোবর ২০২০

দীর্ঘস্থায়ী বন্যার প্রস্তুতির নির্দেশ
অতীত অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগাতে হবে
প্রকাশ: বুধবার, ১২ আগস্ট, ২০২০, ১২:০০ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 22

প্রতিবছর আমাদের দেশে বন্যা হয়। কখনও বড় মাত্রা, কখনও ছোট মাত্রায়। বন্যার সঙ্গে হরহামেশাই বাংলাদেশের মানুষকে মোকাবিলা করে বেঁচে থাকাই যেন মানুষের নৈমিত্তিক ব্যাপার। শত শত বছর ধরে বন্যার সঙ্গে লড়াই করে আসছে এদেশের মানুষ। ফি বছর বন্যায় মানুষ ও দেশের ক্ষতি পরিমাণহীন। মানুষের ঘরবাড়ি, গবাদিপশু, স্থাবর-অস্থাবর জিনিসাদি জলে ভেসে যায়। জল সরে গেলে সেই নিশ্চিহ্ন ভিটায় মানুষ গড়ে তোলে নতুন বসতি। নতুন প্রাণ স্পন্দন। এই অমোঘ নিয়তিকে ধারণ করে বঙ্গোপসাগরের পারের বদ্বীপের মানুষের সংগ্রামী জীবন। অতিবৃষ্টি হলে উজানের পানি নদী বেয়ে বঙ্গোপসাগরে গড়ায়। ভৌগোলিকভাবে বাংলাদেশে নদীভিত্তিক এলাকা। নদীর জল শত শত মাইল পেরিয়ে দু’কূল ছাপিয়ে সাগরে চলে যায়। রেখে যায় পলির স্তর, যা ফসল উৎপাদনে ফলবান ভূমিকা রাখে। বলা হয়, বন্যা এদেশের মানুষের জন্য যেমন আশীর্বাদ, তেমনি অভিশাপ। এবারও দেশের ৪১টি জেলায় একতরফা বন্যা হয়ে গেছে। এখনও কোথাও কোথাও বন্যার জল বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। মানুষ ঘরে ফিরতে পারেনি। এর মধ্যে আবহাওয়া বার্তা জানিয়েছে, ভাদ্র মাসের মাঝামাঝি বন্যা হলে তা দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। বাংলাদেশে বন্যা সাধারণত দীর্ঘমেয়াদি হয় না। উজানের পানি নদীর দু-কূল ছাপিয়ে বয়ে যাওয়া সময়টুকুকে বন্যাকাল ধরে নেওয়া হয়। এজন্য সরকারের ত্রাণ ও পুনর্বাসনের প্রস্তুতি থাকে। ব্যাপক প্লাবন না হলে মানুষ স্বাভাবিকভাবেই এই বন্যাকে মোকাবিলা করতে পারে। কিন্তু ভাদ্রের মাঝামাঝি দীর্ঘস্থায়ী বন্যার আভাস শুধু দেশের মানুষকে নয়, স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীকে উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। সোমবার মন্ত্রিসভার ভার্চুয়াল বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে প্রস্তুত থাকতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দিয়েছেন। মন্ত্রিসভা বৈঠকে বন্যা ও পুনর্বাসন কর্মসূচি নিয়ে বেশি আলোচনা হয়েছে। গত কয়েকদিন থেকে পানি নেমে যাচ্ছে। সোমবার যমুনা নদীর পানি বঙ্গবন্ধু ব্রিজের ওখানে ইতোমধ্যে বিপদসীমার বেশ নিচে চলে গেছে। পদ্মা নদীর পানির স্তর ও গতি কমেছে। ভারতের আবহাওয়া বিভাগের শঙ্কা যে, আরও বৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা আছে। সেজন্য প্রধানমন্ত্রী সুনির্দিষ্ট করে এ বিষয়ে সতর্ক করেছেন, প্রস্তুত থাকতে বলেছেন। বিশেষ করে সতর্ক করেছেন, ভাদ্র মাসের মাঝামাঝি যদি কোনো বন্যা আসে তা হলে সেটা দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। সুতরাং আমাদের প্রস্তুতিটা তেমনি রাখতে হবে। বন্যা-পরবর্তী পুনর্বাসন কার্যক্রম বিশেষ করে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার অধীনে কিছু কর্মসূচি থাকে, ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট ঘরবাড়ি রিহ্যাবিলিটেশন করবে।
স্থানীয় সরকার তাদের ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো মেরামত করবে, পানি উন্নয়ন বোর্ডও সেখানে যুক্ত থাকে। সেখানে একটা বড় টাকা ধরা থাকে যদি কোথাও নদীর বাঁধ ভেঙে যায় ওটাকে তাড়াতাড়ি মেরামত করার জন্য। সে বিষয়ে বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। কৃষি মন্ত্রণালয়ের জন্য আলাদা ম্যাসিভ অ্যাগ্রিকালচারাল রিহ্যাবিলিটেশন প্রোগ্রাম রয়েছে।
বিগত দেড় দশক রাষ্ট্র পরিচালনায় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী অনেক দূরদর্শিতার প্রমাণ দিয়েছেন। যেকোনো সঙ্কট মোকাবিলায় সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছেন। তার গতিশীল নেতৃত্বে দেশ আজ প্রায় সবক্ষেত্রে স্বয়ম্ভরতার দ্বারপ্রান্তে। এমনিতে করোনা মহামারিতে দেশের মানুষ আতঙ্কিত। তার মধ্যে দেশে বন্যা চলছে। ভাদ্রের মাঝামাঝি আবার আগাম বন্যার আশঙ্কায় মানুষ শঙ্কিত। প্রধানমন্ত্রীর বন্যা নিয়ে আগাম কার্যকর প্রস্তুতি মানুষকে আশান্বিত করেছে। প্রধানমন্ত্রীর চিন্তাশীল, কার্যকর পদক্ষেপকে আমরা স্বাগত জানাই।
তারপরও যে প্রশ্নটি বিশেষজ্ঞরা বলে আসছেন, যদি আমাদের নদীগুলোর নব্যতা ধরে রাখা যেত বা শাখা নদীগুলো বেদখল না হতো তা হলে দীর্ঘস্থায়ী বন্যার আশঙ্কা থাকত না। উজানের ঢলে আমাদের প্রায় সবগুলো নদী ভরাট হওয়ার পথে। বিগত এক দশক নদীর নাব্য ফিরিয়ে আনার জন্য বর্তমান সরকার অনেক কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েছে। যার জন্য বন্যা আগ্রাসন বাংলাদেশকে তত কাবু করতে পারেনি।
তাই বর্তমান নদীগুলোর প্রবহমানতার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। তা হলেই কেবল দীর্ঘস্থায়ী বন্যার সম্ভাবনা কমে আসবে। সংশ্লিষ্টদের এদিকেই বহুমাত্রিক কার্যক্রম হাতে নেওয়া জরুরি।




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, নির্বাহী সম্পাদক : শাহনেওয়াজ দুলাল, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে
প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]