ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা শুক্রবার ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২০ ৩ আশ্বিন ১৪২৭
ই-পেপার শুক্রবার ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২০

জ্বালানি খাতে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়নে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট, ২০২০, ৮:০২ পিএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 117

যুদ্ধ বিধ্বস্ত একটি দেশে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ছিলো বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের লক্ষ্য। বঙ্গবন্ধু একটি বিষয় বুঝতে পেরেছিলেন যেগুলো আমাদের মৌলিক চাহিদা মেটাবে সেগুলোকে জাতীয়করণ করতে হবে। যুদ্ধ বিধ্বস্ত একটি দেশে সেই সময় পাঁচটি গ্যাস ক্ষেত্র কিনে নেওয়া অনেক বড় সাহসের বিষয় ছিল। জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই তার লক্ষ্য ছিল। বর্তমান সরকার তারই পথ অনুসরণ করছে। জ্বালানি খাতে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়নে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। 

বৃহস্পতিবার অনলাইনে ফোরাম ফর এনার্জি রিপোর্টাস বাংলাদেশ (এফইআরবি) আয়োজিত এক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেছেন।

জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তা দিবস উপলক্ষে ইন্ডিপেন্ডেন্ট পাওয়ার প্রডিউসার্স অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশের (বিপ্পা) সহযোগিতায় সেমিনারটি আয়োজন করা হয়। এফইআরবির চেয়ারম্যান অরুণ কর্মকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন এফইআরবির নির্বাহী পরিচালক শামীম জাহাঙ্গীর। সেমিনারে বিদ্যুৎ ও জ্বালানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন, আজকে যখন আমি কাগজপত্র ঘাটি, তখন অবাক হয়ে ভাবি, দেশ স্বাধীন হওয়ার পর এত অল্প সময়ে এত বেশি কাজ কীভাবে করেছিলেন বঙ্গবন্ধু। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু একটি বিষয় বুঝতে পেরেছিলেন, যেসব বিষয় আমাদের মৌলিক চাহিদা মেটাবে, সেগুলোকে জাতীয়করণ করতে হবে। তিনি বলেন, তখন সারাবিশ্বেই ঠান্ডা লড়াই চলছিল। 

তখন মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের উন্নত অনেক দেশ আমাদের সমর্থন দেয়নি। সেই সময়ে ব্রিজ নাই রাস্তা নেই যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশে সেই সময় পাঁচটি গ্যাস ক্ষেত্র কিনে নেওয়া অনেক বড় সাহসের বিষয়। এই সাহস দিয়ে তিনি একটা ভিত রচনা করে দিয়েছিলেন। প্রতিমন্ত্রী বলেন, সংকটের সময় সাহসী সিদ্ধান্ত নেওয়া বঙ্গবন্ধু শিখিয়েছিলেন। আমরা এখন শতভাগ বিদ্যুতায়ন করছি। এতে দেশের অর্থনীতি বিকশিত হচ্ছে। শহরের মানুষ নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পাচ্ছে। ভৌগোলিক কারণে গ্রামে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পাচ্ছে না। তবে আমরা চেষ্টা করছি।

নসরুল হামিদ বলেন, পৃথিবীতে মাত্র ১০টা দেশ আল্ট্রাসুপার ক্রিটিক্যাল বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করেছে। আমরাও আল্ট্রাসুপার ক্রিটিক্যাল বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করেছি। আমরা সময় অপচয় না করে দ্রুত কাজ করছি।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর বঙ্গবন্ধুর একান্ত সচিব ড. মো. ফরাসউদ্দিন  বলেন, ১৯৫৬ সালে সিলেটের হরিপুরে গ্যাস পাওয়া গেলো। তখন বঙ্গবন্ধু পূর্ববাংলার শিল্পমন্ত্রী। তখনই তিনি বুঝতে পেরেছিলেন বাংলাদেশের মাটির নিচে অমূল্য সম্পদ লুকিয়ে আছে। বঙ্গবন্ধু যখন মধ্যপ্রাচ্যে গিয়েছিলেন তখন বঙ্গবন্ধুকে বলা হয়েছিল ‘তোমার দেশে তেল, গ্যাস এবং চিংড়ি আছে।’ প্রথম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনায় বিদ্যুৎ, জ্বালানি এবং খনিজসম্পদ অন্তর্ভুক্ত ছিল। তখন জাতির পিতা ১২ ভাগ এই খাতে বিনিয়োগ করেছিলেন।

তিনি বলেন, ১৯৭২ সালে বঙ্গবন্ধু পল্লী বিদ্যুতায়ন করার জন্য আরইবি গঠনের নির্দেশ দিয়েছিলেন।’ ড. ফরাসউদ্দিন  বলেন, কোভিড পরিস্থিতিতে আমাদের অর্থনীতি পথ হারায়নি। আমাদের প্রবৃদ্ধি বেড়েছে আমাদের মাথাপিছু আয়ও বেড়েছে। অর্থনৈতিক উন্নয়ন অব্যাহত রাখতে বিদ্যুৎ ও জ্বালানির সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে।

মূল প্রবন্ধে এফইআরবি’র নির্বাহী কমিটির সদস্য মোল্লাহ আমজাদ হোসেন বলেন, এখন সাগরে গ্যাস অনুসন্ধানের চেয়ে এলএনজি আমদানি লাভজনক। এরপরও দেশের জ্বালানি সম্পদ অনুসন্ধানে উদ্যোগ নেওয়া উচিত। দেশের বিদ্যুৎ খাতেও জ্বালানির সংমিশ্রণে সরকারের নজর দেওয়া উচিত। তিনি বলেন, পাওয়ার সিস্টেম মাস্টার প্ল্যান পর্যালোচনা করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন।

বাপেক্সের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোর্তজা আহমেদ চিশতী বলেন, বাপেক্সের সাগরে কাজ করার কোনও অভিজ্ঞতা নেই। এজন্য বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে কাজ করার সুযোগ করতে হবে। এখন তেলের যে দাম কমেছে তাতে অনুসন্ধানে নতুন কোম্পানি পাওয়া কঠিন। এজন্য অতীতে যারা আমাদের সাগরে কাজ করার আগ্রহ দেখিয়েছে, তাদের সঙ্গে আলোচনায় যেতে হবে। এভাবে দরপত্রের বাইরে গিয়ে দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় বসতে হবে।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ সালেক সুফিসহ সেমিনারের আরও বক্তব্য দেন এফইআরবির সদস্য শাহনাজ বেগম, আজিজুর রহমান, মোজাহেরুল হক 




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, নির্বাহী সম্পাদক : শাহনেওয়াজ দুলাল, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে
প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]