ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা বৃহস্পতিবার ১ অক্টোবর ২০২০ ১৬ আশ্বিন ১৪২৭
ই-পেপার বৃহস্পতিবার ১ অক্টোবর ২০২০

চাঁপাইনবাবগঞ্জে ছাত্রীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কে শিক্ষক বরখাস্ত
প্রকাশ: শুক্রবার, ১৪ আগস্ট, ২০২০, ১১:৫৫ পিএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 19

ষ চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি
এ যেন আরেক পরিমলের উত্থান! রাজধানীর ভিকারুননিসা নূন স্কুলের ছাত্রী ধর্ষণের মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পাওয়া শিক্ষক পরিমল জয়ধরের মতো আরেক শিক্ষকের বিরুদ্ধেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। তার নাম মো. মাসুম রেজা। সে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার দেবীনগর ইউনিয়নের কলিকাতা গ্রামের নজরুল ইসলামের ছেলে এবং একই উপজেলার ইসলামপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ইসলাম শিক্ষার শিক্ষক।
তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে বিদ্যালয়ের এক ছাত্রীর সঙ্গে দেড় বছর ধরে অবৈধ শারীরিক সম্পর্ক চালিয়ে আসছিল। এই স্কুলেই সে এসব অনৈতিক কাজ করত।
তার বিরুদ্ধে প্রাথমিকভাবে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পর তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়াও বিষয়টি অধিকতর তদন্তের জন্য ওই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক দুরুল হোদাকে প্রধান করে ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। অভিযুক্ত শিক্ষকও ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছে। সে ‘মুনতাসিম বিল্লাহ’ নামে একটি ফেসবুক আইডি ব্যবহার করে। তার ফেসবুক মেসেঞ্জার থেকে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তামিজ উদ্দীনকে পাঠানো মেসেজÑ ‘আমাকে ক্ষমা করবেন স্যার। এ রকম অন্যায় আর জীবনেও হবে না স্যার। আমার দিকে দয়ার নজরে তাকাবেন স্যার।’
ভুক্তভোগী ছাত্রীর অভিযোগ, শিক্ষক মাসুম রেজা তাকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে দেড় বছর ধরে শারীরিক সম্পর্ক চালিয়ে আসছিল। ১৪ জুলাই বেলা ১১টার দিকে মোবাইল ফোনে মেসেজ করে স্কুলে ডেকে বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষে শারীরিক সম্পর্ক করে।
জানা গেছে, বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষে শারীরিক সম্পর্ক করার বিষয়টি জানালা দিয়ে দেখে ফেলে স্থানীয় দুই যুবক। এরপরই বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। এ ঘটনার পর ২৭ জুলাই বেলা ১১টায় বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি জসিম উদ্দীনের সভাপতিত্বে একটি সভা হয়। এতে স্কুলছাত্রীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তোলার সত্যতা পাওয়ায় নৈতিক স্খলন ও শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে অভিযুক্ত করে সহকারী শিক্ষক মো. মাসুম রেজাকে কেন বিনাবেতনে সাময়িক বরখাস্ত করা হবে না, মর্মে নোটিস জারির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ ছাড়াও অধিকতর তদন্ত ও পরবর্তী কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। রেজ্যুলেশন করে এসব সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। এ ঘটনায় তাকে তিনবার নোটিস করা হলেও কোনো জবাব দেয়নি। ৮ আগস্ট তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, স্থানীয়ভাবে এটির মীমাংসাও করা হয়েছে। স্কুলছাত্রীর পরিবারকে ৫ লাখ টাকা দিয়ে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে। পুরো ইউনিয়ন জুড়ে এ ঘটনায় তীব্র সমালোচনা হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে ইসলামপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. তামিজ উদ্দীন বলেন, ঘটনা সত্য। আমরা ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছি। এ ছাড়াও ঘটনাটি অধিকতর তদন্তের জন্য ৩ সদস্যের কমিটি করা হয়েছে। তদন্ত শেষে বিধি মোতাবেক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।






সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, নির্বাহী সম্পাদক : শাহনেওয়াজ দুলাল, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে
প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]