ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা মঙ্গলবার ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০ ১৪ আশ্বিন ১৪২৭
ই-পেপার মঙ্গলবার ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০

শেষ বিকালে কালো গাড়ি দেখে বিমর্ষ হয়ে পড়েন বঙ্গবন্ধু
সময়ের আলো ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ১৫ আগস্ট, ২০২০, ১০:৫২ পিএম আপডেট: ১৫.০৮.২০২০ ১:৩৭ পিএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 334

১৯৭৫ সালের ১৪ আগস্ট। সারা দিনের কর্মব্যস্ততা শেষে সন্ধ্যায় গণভবন থেকে ৩২ নম্বরের বাড়িতে ফিরবেন বঙ্গবন্ধু। সেদিন তাঁকে নিতে এসেছিল একটি ‘কালো গাড়ি’। জীবনের শেষ বিকালে কালো গাড়ি দেখে অত্যন্ত বিমর্ষ হয়ে পড়েছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। বঙ্গবন্ধুর তৎকালীন একান্ত সচিব ড. মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন বাসসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু গাড়ি দেখে বারবার একটি মন্তব্য করেন, ‘আজকে কালো গাড়ি’! আমার শোনা ওটাই তাঁর শেষ মন্তব্য। আমরা তাকালাম। খুবই বিষণ্ন মন নিয়ে বিদায় নিলেন বাঙালি জাতির পরম সুহৃদ শেখ মুজিবুর রহমান!’
তিনি বলেন, ‘এটা একটা আশ্চর্য বিষয়! ওইদিন যে গাড়িটি তাঁকে নিতে আসে সেটি কালো রঙের ছিল। কালো রঙের গাড়িটি দেখে বঙ্গবন্ধু খুব মন খারাপ করেন।’
ফরাসউদ্দিন বলেন, ‘রাষ্ট্রপতির নিরাপত্তার স্বার্থে বঙ্গবন্ধু কোন দিন কোন গাড়িতে চড়বেন সেটা তাঁর প্রটোকলের লোকরাই ঠিক করত। তিনটি গাড়িতে যাতায়াত করতেন তিনি। তার মধ্যে একটি সাদা ও একটি কালো রঙের। বঙ্গবন্ধু যখন গণভবন থেকে চলে যান তখন আমরা কয়েকজন প্রতিদিনের মতোই তাঁকে গাড়ি পর্যন্ত এগিয়ে দিতে গিয়েছিলাম।’
তিনি বলেন, ‘সেদিন গণভবন থেকে ঘরে ফেরার মুহূর্তে অন্যদিনের মতোই সচিবদের কাছ থেকে বিদায় নিলেও নিভৃতে এক বিষণ্নতার সুরই যেন বেজে উঠেছিল সবার হৃদয়ে। বঙ্গবন্ধুর মতো একজন আপোসহীন ও অবিচল রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বও থমকে গিয়েছিলেন শেষবারের মতো গাড়িতে উঠতে গিয়ে!’
বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক এ গভর্নর বলেন, ‘তিনি জানতেন না, আরেকটি সন্ধ্যা তাঁর জীবনে আসবে না। কিন্তু বঙ্গবন্ধু কী বুঝতে পেরেছিলেন যে, তাঁর সময় ফুরিয়ে আসছে?’
জীবনের শেষ দিনটি কী ধরনের কর্মকাণ্ডে ব্যস্ত ছিলেন হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
ড. মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর জীবনের শেষ বিকালটা অন্য দিনের মতো রুটিন কাজ চললেও দুটি বিশেষ প্রস্তুতি চলছিল সেদিন গণভবনে। এক. পরের দিন ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের (ঢাবি) সমাবর্তন অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার প্রস্তুতি। দুই. রাষ্ট্রপতির একান্ত সচিব ড. মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন, যুগ্ম সচিব এম মনোয়ারুল ইসলাম এবং রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব শহীদ কর্নেল জামিলউদ্দিন আহমদের বিদায় সংবর্ধনা।’
সন্ধ্যায় বঙ্গবন্ধু গণভবন থেকে বিদায়ের প্রাক্কালে তাঁর একান্ত সচিব, যুগ্ম সচিব এবং সামরিক সচিবের বিদায় সম্পর্কেও খানিকটা বিষণ্ন ছিলেন বলেও জানান ফরাস উদ্দিন। বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, ‘মনোয়ার আর ফরাস দুদিন পরেই চলে যাবে; ছেলে দুটো মায়া লাগিয়ে যাচ্ছে। খারাপ লাগবে খুবই। ভাগ্যিস জামিল এখানেই থাকছে।’
ড. মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন, এম মনোয়ারুল ইসলাম অর্থনীতিতে উচ্চতর ডিগ্রি লাভের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে পড়ার অনুমতি নিয়ে ১৭ আগস্ট চলে যাওয়ার কথা ছিল। আর শহীদ কর্নেল জামিল উদ্দিন আহমদের রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিবের পদ থেকে পদোন্নতি পেয়ে ডিরেক্টর ফোর্সেস ইন্টেলিজেন্স (ডিএফআই, বর্তমানে ডিজিএফআই) পদে যোগ দেওয়ার কথা ছিল।
ড. ফরাসউদ্দিন বলেন, ‘সন্ধ্যাবেলা ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের উপাচার্য মো. আবদুল মতিন চৌধুরীর সঙ্গে সমাবর্তন অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি, বক্তব্যের বিষয়বস্তু নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি খাবার নিয়েও কথা হয়। যে বিশ^বিদ্যালয় থেকে তিনি বহিষ্কৃত হয়েছিলেন সেই বিশ^বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষই তাঁকে ‘সম্মানসূচক ডক্টর অব ল’ ডিগ্রি দিতে যাচ্ছে, সেটি কতটা সুখকর হবে, সেটি নিয়েও বঙ্গবন্ধুর মনে সংশয় কাজ করেছিল।’
রাষ্ট্রপতির বিদায়ি একান্ত সচিব হিসেবে ফরাসউদ্দিন সেদিন বেশিরভাগ সময় বঙ্গবন্ধুর কাছাকাছিই ছিলেন। তিনি জানান, প্রতিদিন কাজ শেষে গণভবনের সামনের লেনে একাকী পায়চারী, গাছদের সঙ্গে কথা বলা, লেকের পানিতে মাছদের সঙ্গে খেলা করা সবই ছিল বঙ্গবন্ধুর নিয়মিত অভ্যাস। তবে সেদিন সন্ধ্যায় গণভবনের বাইরে দলবল নিয়ে মুক্ত আলোচনার নিত্যকার আসর বসেনি। ওইদিন দুপুরে নোয়াখালীতে ভারতীয় একটি হেলিকপ্টার ভূপাতিত হওয়ার ঘটনায় অন্যরা ব্যস্ত ছিলেন।




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, নির্বাহী সম্পাদক : শাহনেওয়াজ দুলাল, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে
প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]