ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা বৃহস্পতিবার ১ অক্টোবর ২০২০ ১৬ আশ্বিন ১৪২৭
ই-পেপার বৃহস্পতিবার ১ অক্টোবর ২০২০

উত্তরাঞ্চলের সর্ববৃহৎ পলাশবাড়ী  চামড়ার হাট জমল না এবারও
প্রকাশ: শনিবার, ১৫ আগস্ট, ২০২০, ১১:২৪ পিএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 16

গাইবান্ধা প্রতিনিধি
উত্তরবঙ্গ তথা সারা দেশ থেকে আসা ব্যবসায়ীদের সমাগমে জমে ওঠে গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার ঐতিহ্যবাহী কালিবাড়ী চামড়া হাট। রাজধানী ঢাকা থেকে ট্যানারি, আড়তদার, বিভিন্ন লেদার কোম্পানির প্রতিনিধি ও
ছোট-বড় ক্রেতাসহ চামড়া শিল্পের সঙ্গে সম্পৃক্তরাও এ হাটে আসে। সারা বছর চামড়া কেনাবেচা হলেও ঈদুল আজহার পর হাটটি পরিণত হয় ক্রেতা-বিক্রেতাদের মিলনমেলায়। কিন্তু উত্তরাঞ্চলের সর্ববৃহৎ এ চামড়ার হাট গত বুধবার একেবারে নিষ্প্রাণ ছিল।
দেশের অন্যতম চামড়া কেনাবেচার পলাশবাড়ী হাট সপ্তাহের প্রতি শনি ও বুধবার বসলেও বর্তমানে শুধু বুধবার চলে কেনাবেচা। ঈদুল আজহার পর গত বুধবার ট্যানারি এবং বড় মহাজনসহ বিভিন্ন কোম্পানির ক্রেতারা হাটে এলেও কেনাবেচা হয়েছে একেবারে কম। ঢাকা থেকে বেশকিছু ট্যানারির প্রতিনিধি এলেও তারা শুধু বাজার বোঝার চেষ্টা করেন। হাটে চামড়ার আমদানি ভালো হলেও দাম ছিল কম। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গত বছরের মতো এবারও কোরবানির পশুর চামড়ার দরপতনের এমন ঘটনায় জমেনি হাট।
এবার কোরবানির ঈদ উদযাপিত হয়েছে গত ১ আগস্ট শনিবার। মাঠ পর্যায়ে ক্রেতাদের কাছ থেকে কেনা কোরবানির পশুর চামড়া প্রাথমিক প্রক্রিয়াজাত করে ফড়িয়াদের ঈদের পর দুটি হাটে নিয়ে আসা সম্ভব হয়নি। ফলে হাট জমে ওঠে গত বুধবার। ওইদিন ভোর থেকেই হাটে শুরু হয় বেচাকেনা। চলে গভীর রাত পর্যন্ত। এর আগে মঙ্গলবার বিকাল থেকে হাটে চামড়া আমদানি শুরু হয়। মঙ্গলবার পেরিয়ে বুধবার সারাদিন ট্রাক, পিকআপ, রিকশাভ্যানে করে চামড়া নিয়ে হাটে আসতে থাকেন ব্যবসায়ীরা। বুধবার কাকডাকা ভোরে মূলত আনুষ্ঠানিক কেনাবেচাপর্ব শুরু হয়।
পলাশবাড়ী চামড়ার হাটে প্রচুর চামড়া সরবরাহ থাকলেও ছিল না দাম। এমন পরিস্থিতিতে বুধবার হাঁ-হুতাশ করেছেন মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়ীরা। চামড়ার কাক্সিক্ষত দাম না পেয়ে হাটে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তারা। তাদের অভিযোগ, একে তো দাম নেই। তার ওপর লবণ, শ্রমিক ও পরিবহন খরচ অনেক বেশি। পাইকারদের তেমন আগ্রহ না থাকায় চামড়ার আসল টাকা তোলা নিয়েই শঙ্কা রয়েছে।
অন্যদিকে, বছরের পর বছর ট্যানারি মালিকদের কাছে টাকা পড়ে থাকায় স্বস্তিতে নেই পাইকাররাও। তারা বলছেন, ট্যানারি মালিকদের কাছে কোটি কোটি টাকা বকেয়া পড়ে থাকায় ক্ষতির মুখে আছেন। ধারদেনা করে মৌসুমি ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চামড়া কিনে লোকসান গুনছেন তারা। আর চামড়া ব্যবসায়ী সমিতির নেতারা বলছেন, চামড়া সংরক্ষণে মৌসুমি ব্যবসায়ী এবং পাইকারদের আরও বেশি প্রশিক্ষণ দেওয়া জরুরি।
এই হাটে চামড়া বেচাকেনায় দীর্ঘ ২৫ বছরের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন রংপুরের মীরবাগ থেকে আসা ব্যবসায়ী শহিদুল ইসলামসহ অনেকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত বছর ছাড়া অন্য বছরগুলোতে চামড়ার ভালো দাম ছিল। গত বছরের দরপতনের ধারাবাহিকতায় এ বছর চামড়া অন্তত ৪-৫টি পৃথক গ্রেডে বিক্রি হয়েছে। দাম উঠেছে ২শ-৫শ এবং অল্পকিছু চামড়া ৬শ-৯শ টাকা। ছাগলের প্রতি পিস চামড়া ২-৫ টাকা এবং সর্বোচ্চ ২০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়েছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ৮০-৯০টি ছাগলের চামড়া একত্রে ১শ-২শ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করেছেন তারা। ছাগল-ভেড়ার চামড়া ক্রয় ও বিক্রিতে ফড়িয়ারা বেশ লোকসান গুনেছে এবার।
হাট ইজারাদারের পক্ষে শফিকুল ইসলাম মিন্টু জানান, হাটে চামড়ার আমদানি ভালো হলেও দাম ছিল কম। তবে গত ঈদের তুলনায় এবার হাটে অর্ধেকেরও কম চামড়া আমদানি ঘটে। পলাশবাড়ী থানার ওসি মাসুদুর রহমান মাসুদ জানান, হাটে চামড়া ক্রয়-বিক্রি করতে আসা ব্যবসায়ীদের কেনাকাটা নিরাপদ করতে সার্বক্ষণিক সাদা ও পোশাকধারী পুলিশ ছিল।










সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, নির্বাহী সম্পাদক : শাহনেওয়াজ দুলাল, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে
প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]