ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা  বুধবার ২৮ অক্টোবর ২০২০ ১৩ কার্তিক ১৪২৭
ই-পেপার  বুধবার ২৮ অক্টোবর ২০২০

জ্বলন্ত জঙ্গল
প্রকাশ: শুক্রবার, ২৮ আগস্ট, ২০২০, ১১:৫২ পিএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 24

প্রাকৃতিক বিস্ময়। এমন জঙ্গল আছে, যার বিশেষত্ব হলো সেটি সবসময়ই ‘জ্বলন্ত’। ভারতের পশ্চিমঘাট পর্বত বা সহ্যাদ্রির ভীমশঙ্কর অভয়ারণ্যে যার অবস্থান। কর্ণাটক, গোয়া এবং মহারাষ্ট্রের পশ্চিমঘাট বলয়জুড়ে এ জঙ্গলের
বিস্তৃতি। এ অরণ্যকে বিজ্ঞানের পরিভাষায় বলা হয় ‘লুমিনিসেন্ট ফরেস্ট’। বিশে^র কয়েকটি জায়গায় লুমিনিসেন্ট সমুদ্রের কথা শোনা যায়। যেগুলোর সৈকত এবং সেখানকার বালিতে আছড়ে পড়া ঢেউ দেখলে রাতের বেলা মনে হয় যেন ছড়িয়ে আছে অসংখ্য রতœ। নিকষ অন্ধকারে উজ্জ্বল নীল এ দৃশ্য দেখলে মনে হয় যেন তারা ঝলমল রাতের আকাশ।
পৃথিবীতে ১১টি লুমিনিসেন্ট সমুদ্রসৈকত পর্যটকদের কাছে খুব জনপ্রিয়। লুমিনিসেন্ট সমুদ্র বিরল। তবে তার থেকেও বিরল এ ধরনের জঙ্গল। পশ্চিমঘাট পর্বতের ভীমশঙ্কর অভয়ারণ্য সেই বিরল নিদর্শনের মধ্যে অন্যতম। বর্ষায় অরণ্যের এ রূপ সব থেকে বেশি এবং সব থেকে ভালো দেখা যায়। বাতাসে অত্যধিক পরিমাণে জলীয়বাষ্প জমলে তার সঙ্গে মিসেনা ব্যাকটেরিয়ার বিক্রিয়ায় সৃষ্টি হয় উজ্জ্বল আলোর। বর্ষায় পচতে শুরু করে এ জঙ্গলের মাটিতে জমে থাকা পাতা, গাছের ছোট-বড় ডাল। সেখানে তাই মিসেনা জীবাণু দ্রæত বংশবিস্তার করে। এ জীবাণুর সঙ্গে জলীয়বাষ্পের বিক্রিয়ায় এই অভয়ারণ্য উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। পশ্চিমঘাট পর্বতের রাতের উজ্জ্বলতার আরও একটি কারণ জোনাকি। মে-জুন মাসে, বর্ষা শুরুর ঠিক আগে এই অরণ্য যেন জোনাকিদের বাড়ি। রাতের অন্ধকারে সেই অপার্থিব সৌন্দর্য দেখতে অনেকেই যান পর্বতের বিভিন্ন অংশে। তবে অভিজ্ঞ ট্রেকার না হলে নাইট ট্রেকিংয়ের অনুমতি দেওয়া হয় না। ভীমশঙ্কর অরণ্য স্থানীয় উপজাতিদের কাছে পবিত্র। ইন্ডিয়ান জায়ান্ট স্কুইরেল বা বড় আকারের কাঠবিড়ালিদের জন্যই এ অভয়ারণ্য। এ ছাড়া এ অরণ্যের স্থায়ী বাসিন্দা বিভিন্ন প্রজাতির শিয়াল, হায়েনা, লেপার্ড এবং বিভিন্ন প্রজাতির পাখি। মুম্বাই থেকে ২১৩ কিলোমিটার দূরে এ অভয়ারণ্যে গাড়িতে পৌঁছতে সময় লাগে পাঁচ থেকে ছয় ঘণ্টা। এ অরণ্যের অন্যতম আকর্ষণ ভীমশঙ্করের মন্দির। মহাদেবের এ মন্দির থেকেই অরণ্যটির নামকরণ। অন্ধকারে উজ্জ্বলতার নেপথ্য কারিগর হলো ‘বায়োলুমিনিসেন্স’। বায়োলুমিনিসেন্স হলো এমন কিছু জীব বা ছত্রাক, যাদের দেহ আলোর উৎস। মিসেনা এবং জোনাকি সেই বায়োলুমিনিসেন্সেরই উদাহরণ। এ গোত্রে পড়ে কিছু ছত্রাকও। প্রকৃতিতে এ বায়োলুমিনিসেন্সের উপস্থিতিই রাতে নির্জন সৈকত ও গভীর অরণ্যে এনে দেয় আলো ঝলমলে উজ্জ্বলতা। ওয়েবসাইট।




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, নির্বাহী সম্পাদক : শাহনেওয়াজ দুলাল, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে
প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]