ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা মঙ্গলবার ২৭ অক্টোবর ২০২০ ১১ কার্তিক ১৪২৭
ই-পেপার মঙ্গলবার ২৭ অক্টোবর ২০২০

কালের সাক্ষী কবিগুরুর কুষ্টিয়ার কুঠিবাড়ি
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: রোববার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২০, ৪:৩৪ পিএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 150

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কুঠিবাড়ি কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে কুষ্টিয়ার শিলাইদহে। ১৬ একর জমির ওপর অবস্থিত কুঠিবাড়িটি এখন প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর দেখাশোনা করে। 

জমিদার প্রিন্স দারকানাথ ঠাকুরের নাতি এবং মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের সপ্তম পুত্র রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৮৯২ সালে ঠাকুর স্ট্রিটের জমিদার হিসেবে কুষ্টিয়ার শিলাইদহে আসেন। তিনি জমিদার হিসেবে ১৯০২ সাল পর্যন্ত কুষ্টিয়ার শিলাইদহে অবস্থান করেন। এর মধ্যে কখনো পতিসর, কখনো শাহাজাদপুরে অবস্থান করেছেন। শিলাইদহ, পতিসর এবং শাহাজাদপুরে ঠাকুরদের জমিদারি ছিল। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রতিভার বিকাশ ঘটে এদেশে আসার পর। শিলাইদহে আসার পর তিনি সাধারণ মানুষের কাছাকাছি আসেন। মানুষের জীবন-জীবিকা খুব কাছ থেকে দেখেন এবং ছোটগল্প লেখা শুরু করেন। 
ছোটগল্পের সংজ্ঞায় তিনি লেখেন 'অন্তরে অতৃপ্তি রবে সাঙ্গ করি মনে হবে শেষ হয়ে হইলো না শেষ।' তিনি ঠাকুরবাড়ির জমিদারি ছেড়ে গেলেও তার লেখায় শিলাইদহ অবিনশ্বর হয়ে আছে। তার সাহিত্যের সব শাখায় শিলাইদহ জীবন্ত। 'দুই বিঘা জমি' কবিতায় তিনি তৎকালীন সমাজব্যবস্থা ফুটিয়ে তোলেন। সোনারতরী, চিত্রা, চৈতালী, পুরবী, বলাকা, মানসী, খেয়া ও গীতাঞ্জলীর অধিকাংশ কবিতাই তিনি শিলাইদহে রচনা করেন। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শিলাইদহ কুঠিবাড়ির পাশে রয়েছে একটি কাছারিবাড়ি। সেই বাড়িসংলগ্ন একটি পোস্ট অফিস ছিল। সেখানে একজন বাউল শিল্পী হরকরার কাজ করতেন। গগণ হরকরা নামে ওই শিল্পী নেচে নেচে গান করেছিলেন 'আমি কোথায় পাবো তারে আমার মনের মানুষ জেরে'। এই বাউল গানের সুর অনুকরণে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচনা করেছিলেন আমাদের জাতীয় সংগীত 'আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালবাসি।' কুষ্টিয়ার শিলাইদহে আসার পর রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বাউল ফকিরদের সংস্পর্শে আসেন এবং তার ভেতরে বাউলিয়ানা লক্ষ করা যায়। 

শিলাইদহের কুঠিবাড়ির তত্ত্ববধায়ক মখলেসুর রহমান জানান, ইংরেজদের কাছ থেকে প্রিন্স দারকানাথ ঠাকুর শিলাইদহের জমিদারি লাভ করেন। পদ্মার ওপারে নীল কুঠি ছিল। সেখান তীব্র ভাঙনের কারণে নদীর এপারে প্রিন্স দারকানাথ ঠাকুর কাছারিবাড়ি এবং কুঠিবাড়ি স্থাপন করেন। কাছারিবাড়ির পাশে মহর্ষি দাতব্য চিকিৎসালয় স্থাপন করে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রজাদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। তিনি সে সময় গ্রামীণব্যাংকও তৈরি করেছিলেন। তবে এখন যত্নের অভাবে চিকিৎসালয় এবং কাছারিবাড়ির ভগ্নদশা। সম্প্রতি কাছারিবাড়ি এবং চিকিৎসালয়টি প্রত্মতত্ত্ব অধিদপ্তরের অধীনে নেওয়া হয়েছে। 
কুঠিবাড়িতে গড়ে উঠেছে পর্যটনশিল্প। বাড়ির সামনে জেলা পরিষদ 'গীতাঞ্জলী' নামের একটি দৃষ্টিনন্দন বিশ্রামাগার নির্মাণ করেছে। কুঠিবাড়িকে ঘিরে গড়ে উঠেছে প্রায় অর্ধশতাধিক দোকান।




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, নির্বাহী সম্পাদক : শাহনেওয়াজ দুলাল, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে
প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]