ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা শনিবার ৩১ অক্টোবর ২০২০ ১৬ কার্তিক ১৪২৭
ই-পেপার শনিবার ৩১ অক্টোবর ২০২০

জগন্নাথে বিতর্কিত কর্মকর্তাদের পদোন্নতি, রাতের আঁধারে ভাইবা
সোহাগ রাসিফ, জবি
প্রকাশ: সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২০, ৪:২৩ পিএম আপডেট: ০৭.০৯.২০২০ ৪:৩৪ পিএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 74

বিতর্কিতদের পদোন্নতি নির্বিঘ্ন করতে সিন্ডিকেট সভার দুই দিন আগে রাতের আধারে কার্ড বিতরণ করে সেই রাতেই ভাইভা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) প্রশাসনের বিরুদ্ধে। গত শনিবার রাতে বাছাই কমিটির সুপারিশকে অগ্রাহ্য করে এই ঘটনা ঘটানো হয়।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের ৮২তম সিন্ডিকেট সভায় এসব বিতর্কিত পদোন্নতির সুপারিশ উত্থাপন করা হবে এবং সেগুলো পাস করার আশঙ্কাও রয়েছে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে যুক্ত কয়েকজন কর্মকর্তা ও সিনিয়র শিক্ষক।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় রেজিস্ট্রার প্রকৌশলী ওহিদুজ্জামান জানান, বিভিন্ন সময় এদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্তাধীন থাকায় বাছাই কমিটি তাদের সুপারিশ করেনি। কিন্তু উপাচার্যের কাছে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তার অনুমতিক্রমে তাদের ভাইভা বোর্ডে ডাকা হয়েছে।

এ বিষয়ে উপাচার্য ড. মীজানুর রহমানের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি কথা বলতে রাজি হননি।

অভিযুক্ত ও বিতর্কিত এসব ব্যক্তির মধ্যে রয়েছেন- জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক এক ট্রেজারারের ব্যক্তিগত সহকারী আনোয়ার হোসেন। সেকশন অফিসার গ্রেড-১ পদোন্নতিতে বিশ্ববিদ্যালয় বাছাই কমিটি তাকে সুপারিশ না করলেও তার ভাইভা নেওয়া হয়েছে। সাবেক ট্রেজারারের এ ব্যক্তিগত সহকারীকে কর্মচারী থেকে সেকশন অফিসার গ্রেড-২ পদোন্নতিতেও অনিয়মের অভিযোগ আছে। ২০১৮ সালের ২৬ এপ্রিল তিনি সেকশন অফিসার গ্রেড-২-এ ছয় বছরের অভিজ্ঞতা ছাড়াই পদোন্নতি পান। শুধু তাই নয়, গত বছরের ১০ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু কর্মচারীসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের গাড়ি (ঢাকা মেট্রো চ ৫৬-১৬১৩) মাইক্রোবাস কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। গত ৫ সেপ্টেম্বর রাতে এ কর্মকর্তাকে সেকশন অফিসার গ্রেড-১ পদের ভাইভা কার্ড দিয়ে রাতেই তার ভাইভা নেওয়া হয়।

একইভাবে সহকারী রেজিস্ট্রার জিনাত জেরিনা সুলতানার ডেপুটি রেজিস্ট্রার পদে পদোন্নতির ক্ষেত্রেও বাছাই কমিটির সুপারিশ ছাড়াই একই দিনে রাতে ভাইভা কার্ড ইস্যু ও ভাইভা নেওয়া হয়েছে। ২০১৭ সালে তিনি তার দপ্তর পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তরের ১০ জন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ করেন। কিন্তু তদন্ত কমিটি তার অভিযোগের সত্যতা পায়নি। সহকর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ ও হয়রানির জন্য তাকে শাস্তি দেওয়ার সুপারিশ করে তদন্ত কমিটি। ২০১৭ সালের ২২ মার্চ থেকে এ কর্মকর্তা বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকেন। এ ঘটনায় রেজিস্ট্রার দপ্তর থেকে কয়েকবার তাকে ছুটি ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকার বিষয়ে সতর্কও করা হয়। দুই বছর পর গত ৫ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় তিনি ভাইভা কার্ড নিয়ে ভাইভা দেওয়ার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে আসেন। অথচ ৬৮তম সিন্ডিকেট তাকে এক বছর পদোন্নতি বা পদোন্নতির আবেদন না করার শাস্তিও দিয়েছে।

একইভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রকৌশলী অপূর্ব কুমার সাহার বিরুদ্ধে কর্মচারী রতন সরকারকে মারধরের অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনার সুরাহা না হতেই তাকে নির্বাহী প্রকৌশলী পদে পদোন্নতির সুপারিশ করা হয়েছে।




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, নির্বাহী সম্পাদক : শাহনেওয়াজ দুলাল, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে
প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]