ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা  বুধবার ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০ ১৫ আশ্বিন ১৪২৭
ই-পেপার  বুধবার ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০

মাঠ প্রশাসনে আতঙ্ক
রফিকুল ইসলাম সবুজ
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২০, ১০:৩৯ পিএম আপডেট: ১৪.০৯.২০২০ ১১:৫৩ পিএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 157

পদ্মা সেতু এলাকার চর থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করায় ড্রেজার মেশিন পুড়িয়ে ফেলার অভিযোগে মাদারীপুর জেলা প্রশাসক ড. রহিমা খাতুন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. জাকির হোসেন বাচ্চু ও শিবচর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. রফিকুল ইসলামসহ ডিসি অফিসের ছয়জনের নামে ১ সেপ্টেম্বর আদালতে দুটি ফৌজদারি মামলা করেন ঠিকাদার। এর আগে ৪ মে পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় রাবনাবাদ নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলনের সময় ভ্রাম্যমাণ আদালত চলাকালীন সন্ত্রাসীরা হামলা চালিয়ে পুলিশসহ পাঁচ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীকে আহত করে। সর্বশেষ ২ সেপ্টেম্বর রাতে দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটের সরকারি বাসভবনে সন্ত্রাসীদের হামলায় গুরুতর আহত হন ইউএনও ওয়াহিদা খানম। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে বিভিন্ন সময় মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের এ রকম হামলা-মামলার শিকার হতে হচ্ছে। এ কারণে নিরাপত্তা ঝুঁকিতে রয়েছেন অধিকাংশ কর্মকর্তা। বিশেষ করে নারী কর্মকর্তারা বেশি আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন।
কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলার একজন আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে অসৌজন্যমূলক আচরণের পাশাপাশি হুমকি দেওয়ার অভিযোগ এনেছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মৌসুমী জেরীন কান্তা। ৩ মে তিনি প্রতিকার চেয়ে কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক মো. আসলাম হোসেনের কাছে একটি চিঠি দেন। কিন্তু জেলা প্রশাসক ওই চিঠির বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় এক মাস পরই তিনি বদলি হয়ে অন্যত্র চলে যান।
প্রশাসন ক্যাডারের সরকারি কর্মকর্তাদের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা জানান, বালুমহাল থেকে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ করা ও অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ, অবৈধ দখলে থাকা ভূমি উদ্ধারসহ মাদক ও জুয়ার বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার কারণে অনেকে হামলার শিকার হওয়ার পাশাপাশি অনৈতিক সুবিধা না দেওয়ায় প্রাণনাশের হুমকি পেতে হয় মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের। আবার কখনও কখনও রাজনৈতিক নেতাকর্মীদেরও চাপের মুখে পড়তে হচ্ছে। এ ছাড়া বিভিন্ন স্থানে মাঠ প্রশাসনের সঙ্গে জনপ্রতিনিধি বা রাজনীতিবিদদের মধ্যে পরিকল্পিতভাবে দ্বন্দ্ব-সংঘাত ঘটানোর চেষ্টাও চলছে। বিশেষ করে করোনাভাইরাসের সময় থেকে এটা নতুন রূপে শুরু হয়েছে। করোনার মোকাবিলার সার্বিক দায়িত্ব প্রশাসনকে দেওয়ায় জেলায় জেলা প্রশাসক, উপজেলায় নির্বাহী কর্মকর্তারা সব কিছুর নেতৃত্বে রয়েছেন। মাঠ প্রশাসনকে দায়িত্ব দেওয়ায় রাজনীতিবিদরা মনোক্ষুণ্ন হয়েছেন। এতে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে স্থানীয় রাজনীতিবিদের মধ্যে কিছুটা দূরত্ব তৈরি ও টানাপোড়েন শুরু হয়েছে। প্রশাসনের কর্মকর্তাদের দাবি রাজনীতিকরা এখতিয়ারবহির্ভূতভাবে সরকারি কাজে হস্তক্ষেপ করেন। এই অযাচিত হস্তক্ষেপের কারণেও মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঠিকঠাকভাবে কাজ করতে পারেন না।
বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সচিব হেলালুদ্দীন আহমেদ বলেন, সরকারি বাসভবনে রাতে প্রবেশ করে ইউএনওকে হত্যার উদ্দেশ্যে তাকে আঘাত করা হয়েছে। এ ধরনের ঘটনা আগে কখনও ঘটেনি। তাই মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের নিরাপত্তার বিষয়গুলো সামনে চলে এসেছে। এ ছাড়া মাদারীপুরের জেলা প্রশাসক রহিমা খাতুনের বিরুদ্ধে কতিপয় অবৈধ বালু উত্তোলনকারী ও একজন প্রভাবশালী ব্যক্তির প্ররোচনায় ফৌজদারি আদালতে মামলা করেছেন। আদালত মামলাটি তদন্ত করার জন্য পিআইবির কাছে প্রেরণ করেছেন। অসংলগ্ন কথাবার্তায় ভর্তি এ রকম একটি আর্জির ভিত্তিতে একজন জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের বিরুদ্ধে মামলা নজিরবিহীন এবং দুর্ভাগ্যজনক। এভাবে যদি মামলা গ্রহণ করা হয়, তাহলে জেলা প্রশাসন কী করে তার দায়িত্ব পালন করবে। এই ধরনের ঘটনার পর মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে এক ধরনের আতঙ্ক কাজ করছে।
জনপ্রশাসন সচিব শেখ ইউসুফ হারুন বলেন, উপজেলাতে বিভিন্ন পেশা ও সংগঠনের লোকজন থাকেন। মানুষের চাহিদা অফুরন্ত হয়ে গেছে। সে চাহিদার মধ্যে কোনটা আইনি, কোনটা বেআইনি, এটা কিন্তু তারা অনেক সময় বাছ-বিচার করে না। আমাদের প্রান্তিক পর্যায়ের কর্মকর্তা ইউএনও কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতিনিধি হিসাবে কাজ করেন। মোবাইল কোর্ট থেকে শুরু করে আইনের প্রতিটি বিষয় উনি দেখভাল করে থাকেন, যেন কোথাও আইনের ব্যত্যয় না হয়। কোথাও আইনের ব্যত্যয় করে যদি কিছু আবদার করা হয়, তখন অনেকে ইউএনওর বিরাগভাজন হন। বেআইনি কোনো আবদার করলে এবং সেটি মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তারা বাস্তবায়ন না করলেই শুরু হয় অপদস্থ করার পালা। তিনি বলেন, এটা বন্ধ করতে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, ম্যাজিস্ট্রেট বা কালেক্টরকে তার বিচারিক প্রকৃতির কার্যক্রম বা দেওয়া কোনো আদেশের কারণে ব্যক্তিগতভাবে দায়ী করে দেওয়ানি আদালতে মামলা করা যাবে না। সেটি নির্দেশনা দিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। আইন ও বিচার বিভাগের সচিবকে দেওয়া চিঠিতে বলা হয়েছে অনুমতি ছাড়া সরকারি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মামলা হওয়ায় মাঠপর্যায়ে শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা ও অপরাধ প্রতিরোধ বা দমনে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ প্রায় বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।






সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, নির্বাহী সম্পাদক : শাহনেওয়াজ দুলাল, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে
প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]