ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা শুক্রবার ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২০ ৩ আশ্বিন ১৪২৭
ই-পেপার শুক্রবার ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২০

এখন অদৃশ্য শত্রæর সঙ্গে আমাদের লড়াই : তারিন
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২০, ১১:২৬ পিএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 14

এই সময়ে মানসিক চাপ নিয়ে অভিনয় করা কতটা সম্ভব?
অভিনয় তো করতেই হবে। এটা আমাদের পেশা। করোনার সঙ্গে মানিয়ে নিতে হবে। করোনা আমাদের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকার শিক্ষা দিয়েছে। মুক্তিযুদ্ধ ছিল পাকিস্তানি ও তাদের দোসরদের বিরুদ্ধে। আর এখন অদৃশ্য শত্রæর সঙ্গে আমাদের লড়াই করতে হচ্ছে। মূল বিষয় হলো মাস্ক পরতেই হবে। শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে হবে। সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই।
দীর্ঘ পাঁচ মাস পর জনগণ কি সচেতন হয়েছে?
কিছু মানুষ সচেতন হয়েছে। যাদের স্বভাব খারাপ ছিল তারা আরও খারাপ হয়েছে। অনেকের বিবেক জেগেছে। যেমন আমি কয়েকদিন আগে নারায়ণগঞ্জে শুটিং করতে গিয়ে দেখেছি কেউই সচেতন নন। কাউকেই দেখলাম না মাস্ক পরতে। মানুষজন নির্বিকারভাবে কাজ করছেন। বিবেক মরে গেলে, নিজের বা পরিবারের ভালো না বুঝলে, দেশের ভালো না বুঝলে সরকার জোর করে কীভাবে সচেতন করবে? মারামারি করে তো এসব করা যায় না। নিজের মধ্যে বিবেক জাগ্রত না হলে সরকারের কিছু করার নেই। এর দায়ভার ব্যক্তির।
শুটিং ইউনিট নিরাপদ?
আমাদের যে পেশা এখানে মাস্ক পরে কাজ করা যাবে না। এজন্য ইউনিটের লোকজনকে নিজ দায়িত্বে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা প্রয়োজন। আমাদের কিছু শুটিং হাউস কর্তৃপক্ষ সচেতন নন। সেসব জায়গায় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার অভাব রয়েছে। শুটিং হাউসের অ্যাসোসিয়েশন যারা তাদের সচেতন হওয়া জরুরি। আমি যেসব ইউনিটে কাজ করেছি তারা সচেতন ছিলেন। আবার অসচেতন ইউনিটেও কাজ করেছি। সে ক্ষেত্রে নিজেরা হাউস পরিষ্কার করে কাজ করতে হয়েছে।
করোনা সচেতনতায় আপনার মন্তব্য কী?
নিজের জীবনের গুরুত্ব দিতে হবে সবার আগে। তার সঙ্গে কোনো ছাড় দেওয়া যায় না। আমি শুটিংয়ে গেলে ইউনিটের ওপর ভরসা করে যাই না। নিজের সচেতনতা নিজেই নিয়ে থাকি। আমি দর্শককে সচেতনতার বার্তা দিয়ে থাকলে আমাকেই সচেতনতা মানতে হবে। একটা ইউনিট আমার কাছে পরিবারের মতো। একজন আক্রান্ত হলে তার পরিবার আক্রান্ত হবে। সেটে কেউ মাস্ক ঠিকমতো না পরলে তাকে ঠিক করে পরতে বলি। স্যানিটাইজ করার পরামর্শ দেই। নতুন নিয়মে জীবনযাপন করতে হবে। আমাদের সচেতন হওয়া আরও বেশি জরুরি। যাতে চিন্তা না করে কাজ করতে পারি। আমরা সবসময় সামাজিক দূরত্ব মানতে পারছি না। বাসায় মা-বাবা আছেন। তাদের কথা ভেবে জনবহুল জায়গা এড়িয়ে চলছি।
মানহীন নাটকের ভিড়ে জীবনঘনিষ্ঠ নাটক হারিয়ে যাচ্ছে। এই বিষয়টি কতটা যুক্তিযুক্ত?
মানসম্পন্ন কাজের কোনো বিকল্প নেই। সেটা যে মাধ্যমেই হোক না কেন। মানহীন কিছু কাজে মিলিয়নের ওপরে ভিউজ পাওয়া যাচ্ছে। পয়সা খরচ করে ভিউ বাড়ানো হচ্ছে।
তবে মানসম্মত কাজকে বুস্ট করতে হয় না। আমি কখনও স্ক্রিপ্ট ছাড়া কাজ করিনি। ইম্প্রোভাইজ করে অভিনয় করতে পারি না। আমি অতটা মেধাবী অভিনেত্রী নই। যে চিত্রনাট্য দেওয়া হয় সে অনুসারে কাজ করার চেষ্টা করি। তারপরও দর্শক আমাকে ভালোবাসেন, এজন্য তাদের কাছে কৃতজ্ঞ। প্রায় ৩৪ বছর কাজ করার পরও দর্শক সোশ্যাল মিডিয়ায় কাজ নিয়ে কথা বলেন, পর্দায় দেখতে চাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। আগেকার নাটকের কথা বলেন। এখনও সেসব নাটক দেখতে ভালো লাগে এ কথা জানান। জীবনবোধের গল্প খুঁজে পান। অথচ এ সময়কার নাটকে ভাষার অপব্যবহার দেখতে হচ্ছে। যা বাচ্চাদের নিয়ে দেখা যায় না। এসব নাটকের মিলিয়ন ভিউ দেখলে বিভ্রান্ত হই। দর্শকের রুচিবোধ বদলে গেছে নাকি আমরাই দর্শককে বাজে নাটক দেখিয়ে তাদের রুচি নষ্ট করেছি? দায়বদ্ধতা কার?
ওটিটি প্ল্যাটফর্ম নিয়ে নির্মাতারা ভাবছে। বিষয়টি কীভাবে দেখছেন?
আমি নতুনকে স্বাগত জানাই। পাশাপাশি পুরনো অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগাব। আমাদের অনেক মেধাবী শিল্পী আছেন। তবে কনটেন্টের দিকে জোর দিতে হবে। ওয়েব সিরিজ ও নাটকের কনটেন্টের পার্থক্য বুঝতে হবে। মানসম্মত কনটেন্ট নির্মাণের মেধা যাদের আছে তাদের সুযোগ দেওয়া প্রয়োজন। অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ইউটিউব একটা সিন্ডিকেটের মাধ্যমে চলছে। দর্শক বাধ্য হয়ে নির্দিষ্ট শিল্পীদের কাজ দেখছে। এই সিন্ডিকেট বন্ধ না হলে মিডিয়া ধ্বংস হয়ে যাবে।
কলকাতার সিনেমার কাজ কতদূর এগিয়েছে?
কলকাতায় মানসী সিনহার পরিচালনায় ‘এটা আমাদের গল্প’ শীর্ষক ছবিতে কাজ করেছি। আমার শুটিংয়ের কাজ শেষ। ডাবিং বাকি আছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে কাজ শেষ করা হবে। বাংলাদেশের একটি মেয়ের চরিত্রে কাজ করেছি যার শ^শুরবাড়ি কলকাতায়। এ ছবিতে আমার সঙ্গে আছেন দেবদূত ঘোষ, শাশ^ত চ্যাটার্জি, পূজা কর্মকার, কণিকা ব্যানার্জি, সঞ্জীব শর্মা, খরাজ মুখার্জি প্রমুখ।ছবি : মোহসীন আহমেদ কাওছার






সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, নির্বাহী সম্পাদক : শাহনেওয়াজ দুলাল, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে
প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]